গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের গ্রামীণ জনপদে ষাটের দশকে আধুনিক শিক্ষার সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত। ঠিক সেই সময় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এগিয়ে আসেন বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ফুলদীর সম্ভ্রান্ত খাঁন পরিবারের সন্তান মরহুম মো. মহসিন খাঁন। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব, সাহসী উদ্যোগ এবং স্থানীয় জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় শুরু হয় জনতা উচ্চ বিদ্যালয় ফুলদী প্রতিষ্ঠার মহৎ যাত্রা।
জানা যায়, শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্য নিয়ে মরহুম মো. মহসিন খাঁন ফুলদী, বেরুয়া, ভাটিরা, মাজুখান, ব্রাহ্মণগাঁও, কৌচান ও কলুন গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষানুরাগী ও সমাজহিতৈষীদের সঙ্গে নিয়ে একটি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তার আহ্বানে জমি দান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মোক্তাজুল হোসেন খাঁন রাজা মিয়া, আতাহার উদ্দিন খাঁন মানিক মিয়া, আজাহার উদ্দিন খাঁন সাহাজাদা মিয়া, নুর আক্তার খানম ও মাহবুবুর রহমান খাঁন মহুব মিয়া।
পরবর্তীতে বক্তারপুর ইউপির চেয়ারম্যান ও ফুলদী সমবায় সমিতির সভাপতি হিসেবে মো. মহসিন খাঁন সমিতির নামে দখলীয় এক একর জমিও বিদ্যালয়ের নামে দান করেন। তাদের আত্মত্যাগ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের ফলেই ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জনতা উচ্চ বিদ্যালয় ফুলদী। প্রতিষ্ঠাকালে মরহুম মো. মহসিন খাঁনকে প্রতিষ্ঠাতা, মো. মজিব উদ্দিন খাঁনকে সভাপতি এবং মো. সাইদুর রহমান দোলনকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটি শুধু শিক্ষাদানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং একটি শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক সমাজ গঠনের ভিত্তি তৈরি করেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের পথচলায় জনতা উচ্চ বিদ্যালয় ফুলদী আজ কালীগঞ্জের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। হাজারো শিক্ষার্থীর জ্ঞানচর্চা, নৈতিক শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গঠনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে বিদ্যালয়টি।
শুধু শিক্ষা নয়, মরহুম মো. মহসিন খাঁন এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নেও অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তার উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে ফুলদী বাজার, ফুলদী ডাকঘর, ফুলদী-বেরুয়া সড়ক, ফুলদী-মাজুখান সড়ক, ফুলদী-টেকপাড়া সড়ক, ফুলদী-দাউদাপাড়া সড়ক ও ফুলদী-বাঙালীটেক মোহানী সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পুরো অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
আজও মরহুম মো. মহসিন খাঁনের অবদান এবং জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাস কালীগঞ্জের মানুষের হৃদয়ে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের গ্রামীণ জনপদে ষাটের দশকে আধুনিক শিক্ষার সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত। ঠিক সেই সময় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এগিয়ে আসেন বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ফুলদীর সম্ভ্রান্ত খাঁন পরিবারের সন্তান মরহুম মো. মহসিন খাঁন। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব, সাহসী উদ্যোগ এবং স্থানীয় জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় শুরু হয় জনতা উচ্চ বিদ্যালয় ফুলদী প্রতিষ্ঠার মহৎ যাত্রা।
জানা যায়, শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্য নিয়ে মরহুম মো. মহসিন খাঁন ফুলদী, বেরুয়া, ভাটিরা, মাজুখান, ব্রাহ্মণগাঁও, কৌচান ও কলুন গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষানুরাগী ও সমাজহিতৈষীদের সঙ্গে নিয়ে একটি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তার আহ্বানে জমি দান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মোক্তাজুল হোসেন খাঁন রাজা মিয়া, আতাহার উদ্দিন খাঁন মানিক মিয়া, আজাহার উদ্দিন খাঁন সাহাজাদা মিয়া, নুর আক্তার খানম ও মাহবুবুর রহমান খাঁন মহুব মিয়া।
পরবর্তীতে বক্তারপুর ইউপির চেয়ারম্যান ও ফুলদী সমবায় সমিতির সভাপতি হিসেবে মো. মহসিন খাঁন সমিতির নামে দখলীয় এক একর জমিও বিদ্যালয়ের নামে দান করেন। তাদের আত্মত্যাগ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের ফলেই ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জনতা উচ্চ বিদ্যালয় ফুলদী। প্রতিষ্ঠাকালে মরহুম মো. মহসিন খাঁনকে প্রতিষ্ঠাতা, মো. মজিব উদ্দিন খাঁনকে সভাপতি এবং মো. সাইদুর রহমান দোলনকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটি শুধু শিক্ষাদানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং একটি শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক সমাজ গঠনের ভিত্তি তৈরি করেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের পথচলায় জনতা উচ্চ বিদ্যালয় ফুলদী আজ কালীগঞ্জের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। হাজারো শিক্ষার্থীর জ্ঞানচর্চা, নৈতিক শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গঠনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে বিদ্যালয়টি।
শুধু শিক্ষা নয়, মরহুম মো. মহসিন খাঁন এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নেও অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তার উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে ফুলদী বাজার, ফুলদী ডাকঘর, ফুলদী-বেরুয়া সড়ক, ফুলদী-মাজুখান সড়ক, ফুলদী-টেকপাড়া সড়ক, ফুলদী-দাউদাপাড়া সড়ক ও ফুলদী-বাঙালীটেক মোহানী সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পুরো অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
আজও মরহুম মো. মহসিন খাঁনের অবদান এবং জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাস কালীগঞ্জের মানুষের হৃদয়ে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
