শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

বাবাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে

প্রেম মানতে না পারায় মেয়েকে লাঠির আঘাতে হত্যা করল বাবা

প্রেম মানতে না পারায় মেয়েকে লাঠির আঘাতে হত্যা করল বাবা
ছবি : চেকপোস্ট

খুলনায় ১৬ বছর বয়সী কিশোরী আরফানা হোসেন নির্জনা হত্যার ঘটনায় তার বাবা ও মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার (১১ জুলাই) সকালে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, গত ৮ জুলাই রাত খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর অজ্ঞাত এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই, সিআইডিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ, বেতার বার্তা প্রচার এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের পর নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হয়। তিনি সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া বাশতলা এলাকার বাসিন্দা আরফানা হোসেন নির্জনা।

পুলিশ জানায়, পরিচয় শনাক্তের পর নির্জনার মা আরিফা আক্তার সীমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জবানবন্দিতে নির্জনার মা জানান, মেয়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার রাতে মা-মেয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে নির্জনার বাবা আকাশ একটি কাঠের বাতা দিয়ে আঘাত করলে নির্জনার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার পর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রেখে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, ঘটনায় নিহতের বাবা-মা অভিযুক্ত হওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছে। অভিযুক্ত বাবা আকাশকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (পিপিএম-সেবা) মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার এম এম শাকিলুজ্জামান, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমানসহ কেএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

#খুলনা_সংবাদ #হত্যাকাণ্ড #পুলিশ_তদন্ত

চেকপোস্ট

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬


প্রেম মানতে না পারায় মেয়েকে লাঠির আঘাতে হত্যা করল বাবা

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

featured Image

খুলনায় ১৬ বছর বয়সী কিশোরী আরফানা হোসেন নির্জনা হত্যার ঘটনায় তার বাবা ও মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার (১১ জুলাই) সকালে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, গত ৮ জুলাই রাত খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর অজ্ঞাত এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই, সিআইডিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ, বেতার বার্তা প্রচার এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের পর নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হয়। তিনি সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া বাশতলা এলাকার বাসিন্দা আরফানা হোসেন নির্জনা।

পুলিশ জানায়, পরিচয় শনাক্তের পর নির্জনার মা আরিফা আক্তার সীমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জবানবন্দিতে নির্জনার মা জানান, মেয়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার রাতে মা-মেয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে নির্জনার বাবা আকাশ একটি কাঠের বাতা দিয়ে আঘাত করলে নির্জনার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার পর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রেখে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, ঘটনায় নিহতের বাবা-মা অভিযুক্ত হওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছে। অভিযুক্ত বাবা আকাশকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (পিপিএম-সেবা) মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার এম এম শাকিলুজ্জামান, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমানসহ কেএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত