মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

নাজমুল হত্যার প্রতিশোধে মঞ্জুরুল খুন: র‍্যাবের চাঞ্চল্যকর তথ্য

খুলনার লবণচরা ও হরিণটানা থানা এলাকার আশিবিঘা বালুর মাঠে পরপর দুটি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আধিপত্য বিস্তার, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ ও দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরোধ রয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।এক হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতেই কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অপর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। এ ঘটনায় নগরীর টুটপাড়া এলাকার সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত আলামিন হাসান সাইফিকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে র‍্যাব-৬ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-৬ এর অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ।এর আগে শুক্রবার গোপালগঞ্জের মাঝিগাতি বাজার ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে আলামিন হাসান সাইফি ও তার সহযোগী রফিকুল ইসলাম রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছে র‍্যাব।র‍্যাব জানায়, টুটপাড়া, হরিণটানা ও লবণচরা এলাকায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুটি সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। একটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর ‘বি কোম্পানি’, অন্যদিকে রয়েছে রোহান-পলাশ গ্রুপ।র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, আলামিন হাসান সাইফি গ্রেনেড বাবুর সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। আর নিহত রফিক রোহান-পলাশ গ্রুপের হয়ে ওই এলাকায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করতেন।র‍্যাব জানায়, গত ১৯ আগস্ট বিকেলে স্থানীয় একটি সেলুনে চুল কাটার পর রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন নাজমুল। এ সময় প্রতিপক্ষের সদস্যরা অস্ত্রের মুখে তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে ভিডিও কলে প্রতিপক্ষের এক সদস্যকে দেখিয়ে নাজমুলকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় বলে র‍্যাবের দাবি।ঘটনাটি ভিডিও কলে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিপক্ষ। পরে সাইফির নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জন সদস্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে লবণচরা থানার আশিবিঘা এলাকায় যায়। সেখানে মঞ্জুরুলকে পেয়ে তার বাবার সামনে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে র‍্যাব।র‍্যাব-৬ অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ বলেন, সন্ধ্যায় মঞ্জুরুলকে হত্যা করা হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে নাজমুলকে হত্যা করে আশিবিঘা এলাকায় মরদেহ ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে সাইফির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শর্টগান, শর্টগানের গুলি, পিস্তল ও চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় র‍্যাব।র‍্যাব আরও জানায়, গ্রেফতার সাইফি গ্রেনেড বাবুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী কাউয়া মিরাজের নির্দেশনায় এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ চারটি মামলা রয়েছে। লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশাররেফ হোসেন জানান, পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল একই এলাকায়। এ ঘটনায় পৃথক দুটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নাজমুল হত্যার প্রতিশোধে মঞ্জুরুল খুন: র‍্যাবের চাঞ্চল্যকর তথ্য