রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

স্বাস্থ্য

জানুন সজোগ্রেন রোগের লক্ষণ

পানি খেলেও মুখ-গলা শুকায়? হতে পারে বড় রোগের সংকেত

পানি খেলেও মুখ-গলা শুকায়? হতে পারে বড় রোগের সংকেত
মুখ বা চোখ শুকিয়ে গেলেই সজোগ্রেন রোগ হয়েছে, এমন নয়।

গরমে বা দীর্ঘসময় পানি না খেলে মুখ শুকিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। ঘুমের সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নিলেও সকালে গলা শুকনো লাগতে পারে। তবে পর্যাপ্ত পানি পান করার পরও যদি দিনের পর দিন মুখ, গলা ও চোখ শুকিয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

দীর্ঘস্থায়ী মুখ ও চোখের শুষ্কতা কখনো কখনো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি অটোইমিউন সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এমন একটি রোগ হলো সজোগ্রেন সিনড্রোম (Sjogren Syndrome)

এই রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে চোখে অশ্রু ও মুখে লালা তৈরি করা গ্রন্থিগুলোকে আক্রমণ করে। ফলে চোখে পানি ও মুখে লালার পরিমাণ কমে যায়।

তবে মুখ বা চোখ শুকিয়ে গেলেই সজোগ্রেন রোগ হয়েছে, এমন নয়। পানিশূন্যতা, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অন্য অনেক কারণেও এমন সমস্যা হতে পারে।

সজোগ্রেন রোগ কী?

সজোগ্রেন একটি দীর্ঘস্থায়ী অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজের সুস্থ কোষ ও টিস্যুর ওপর আক্রমণ করে।

এ রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় চোখ ও মুখের আর্দ্রতা তৈরির গ্রন্থি। এর প্রধান লক্ষণ হলো—

  • চোখ শুকিয়ে যাওয়া
  • মুখ শুকিয়ে যাওয়া
  • বারবার পানি খাওয়ার প্রয়োজন হওয়া

এ ছাড়া ক্লান্তি, জয়েন্টে ব্যথা, ত্বক শুষ্ক হওয়া, শুকনো কাশি ও শরীরের বিভিন্ন অংশে অস্বস্তিও দেখা দিতে পারে।

চোখ শুকিয়ে যাওয়ার লক্ষণ

চোখের শুষ্কতা শুধু পানি কম আসার বিষয় নয়। এর সঙ্গে থাকতে পারে—

  • চোখে জ্বালা বা চুলকানি
  • চোখে বালি বা ধুলা থাকার মতো অনুভূতি
  • চোখ লাল হওয়া
  • আলো সহ্য করতে সমস্যা
  • ঝাপসা দেখা

তবে দীর্ঘসময় মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহারের কারণেও চোখ শুকিয়ে যেতে পারে। তাই চোখ শুকানোর সঙ্গে মুখ ও গলার শুষ্কতা দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

মুখ শুকিয়ে গেলে কী সমস্যা হয়?

মুখের লালা শুধু মুখ ভেজা রাখে না, দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

লালা কমে গেলে—

  • কথা বলা ও খাবার গিলতে সমস্যা হতে পারে
  • স্বাদের পরিবর্তন হতে পারে
  • দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে
  • মুখে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে

তাই দীর্ঘদিন মুখ শুকিয়ে থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।

গলা শুকানোর কারণ

মুখে লালা কমে গেলে গলাতেও শুষ্কতা দেখা দিতে পারে। এর ফলে—

  • গলা শুকনো লাগা
  • খাবার গিলতে অস্বস্তি
  • শুকনো কাশি

হতে পারে।

তবে ঘুমের সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া, কম পানি পান করা বা কিছু ওষুধের কারণেও গলা শুকাতে পারে।

কখন সতর্ক হবেন?

নিচের লক্ষণগুলো একসঙ্গে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—

  • পানি খেলেও মুখ শুকিয়ে থাকা
  • দীর্ঘদিন চোখ শুকিয়ে যাওয়া
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি
  • জয়েন্টে ব্যথা বা ফোলা
  • শুকনো কাশি
  • গিলতে সমস্যা
  • লালা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া

কীভাবে পরীক্ষা করা হয়?

সজোগ্রেন রোগ শনাক্ত করতে একাধিক বিষয় বিবেচনা করা হয়। চিকিৎসক সাধারণত—

  • রক্ত পরীক্ষা
  • চোখের শুষ্কতা পরীক্ষা (শিরমার টেস্ট)
  • চোখের পৃষ্ঠ পরীক্ষা
  • লালা গ্রন্থির কার্যকারিতা পরীক্ষা

করতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে ঠোঁটের ভেতরের ছোট টিস্যু পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে।

মুখ ও চোখ শুকিয়ে গেলে করণীয়

সাময়িক শুষ্কতার ক্ষেত্রে কিছু অভ্যাস উপকারী হতে পারে—

  • নিয়মিত অল্প অল্প করে পানি পান করা
  • ধূমপান এড়িয়ে চলা
  • অতিরিক্ত কফি কমানো
  • চিনি ছাড়া চুইংগাম ব্যবহার করা
  • মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা

চোখের শুষ্কতা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কৃত্রিম অশ্রু ব্যবহার করা যেতে পারে।

চিকিৎসকের কাছে কখন যাবেন?

মুখ ও চোখের শুষ্কতা কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকলে, নিয়মিত পানি পান করেও না কমলে বা এর সঙ্গে অন্য উপসর্গ যুক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মনে রাখতে হবে, মুখ শুকিয়ে যাওয়া মানেই সজোগ্রেন রোগ নয়। তবে চোখ ও মুখের শুষ্কতা দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকলে কারণ খুঁজে দেখা জরুরি। দ্রুত শনাক্ত করা গেলে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহজ হয়।

#স্বাস্থ্য_সচেতনতা #সজোগ্রেন_রোগ #মুখ_শুকানোর_কারণ

চেকপোস্ট

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


পানি খেলেও মুখ-গলা শুকায়? হতে পারে বড় রোগের সংকেত

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গরমে বা দীর্ঘসময় পানি না খেলে মুখ শুকিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। ঘুমের সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নিলেও সকালে গলা শুকনো লাগতে পারে। তবে পর্যাপ্ত পানি পান করার পরও যদি দিনের পর দিন মুখ, গলা ও চোখ শুকিয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

দীর্ঘস্থায়ী মুখ ও চোখের শুষ্কতা কখনো কখনো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি অটোইমিউন সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এমন একটি রোগ হলো সজোগ্রেন সিনড্রোম (Sjogren Syndrome)

এই রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে চোখে অশ্রু ও মুখে লালা তৈরি করা গ্রন্থিগুলোকে আক্রমণ করে। ফলে চোখে পানি ও মুখে লালার পরিমাণ কমে যায়।

তবে মুখ বা চোখ শুকিয়ে গেলেই সজোগ্রেন রোগ হয়েছে, এমন নয়। পানিশূন্যতা, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অন্য অনেক কারণেও এমন সমস্যা হতে পারে।

সজোগ্রেন রোগ কী?

সজোগ্রেন একটি দীর্ঘস্থায়ী অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজের সুস্থ কোষ ও টিস্যুর ওপর আক্রমণ করে।

এ রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় চোখ ও মুখের আর্দ্রতা তৈরির গ্রন্থি। এর প্রধান লক্ষণ হলো—

  • চোখ শুকিয়ে যাওয়া
  • মুখ শুকিয়ে যাওয়া
  • বারবার পানি খাওয়ার প্রয়োজন হওয়া

এ ছাড়া ক্লান্তি, জয়েন্টে ব্যথা, ত্বক শুষ্ক হওয়া, শুকনো কাশি ও শরীরের বিভিন্ন অংশে অস্বস্তিও দেখা দিতে পারে।

চোখ শুকিয়ে যাওয়ার লক্ষণ

চোখের শুষ্কতা শুধু পানি কম আসার বিষয় নয়। এর সঙ্গে থাকতে পারে—

  • চোখে জ্বালা বা চুলকানি
  • চোখে বালি বা ধুলা থাকার মতো অনুভূতি
  • চোখ লাল হওয়া
  • আলো সহ্য করতে সমস্যা
  • ঝাপসা দেখা

তবে দীর্ঘসময় মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহারের কারণেও চোখ শুকিয়ে যেতে পারে। তাই চোখ শুকানোর সঙ্গে মুখ ও গলার শুষ্কতা দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

মুখ শুকিয়ে গেলে কী সমস্যা হয়?

মুখের লালা শুধু মুখ ভেজা রাখে না, দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

লালা কমে গেলে—

  • কথা বলা ও খাবার গিলতে সমস্যা হতে পারে
  • স্বাদের পরিবর্তন হতে পারে
  • দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে
  • মুখে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে

তাই দীর্ঘদিন মুখ শুকিয়ে থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।

গলা শুকানোর কারণ

মুখে লালা কমে গেলে গলাতেও শুষ্কতা দেখা দিতে পারে। এর ফলে—

  • গলা শুকনো লাগা
  • খাবার গিলতে অস্বস্তি
  • শুকনো কাশি

হতে পারে।

তবে ঘুমের সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া, কম পানি পান করা বা কিছু ওষুধের কারণেও গলা শুকাতে পারে।

কখন সতর্ক হবেন?

নিচের লক্ষণগুলো একসঙ্গে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—

  • পানি খেলেও মুখ শুকিয়ে থাকা
  • দীর্ঘদিন চোখ শুকিয়ে যাওয়া
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি
  • জয়েন্টে ব্যথা বা ফোলা
  • শুকনো কাশি
  • গিলতে সমস্যা
  • লালা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া

কীভাবে পরীক্ষা করা হয়?

সজোগ্রেন রোগ শনাক্ত করতে একাধিক বিষয় বিবেচনা করা হয়। চিকিৎসক সাধারণত—

  • রক্ত পরীক্ষা
  • চোখের শুষ্কতা পরীক্ষা (শিরমার টেস্ট)
  • চোখের পৃষ্ঠ পরীক্ষা
  • লালা গ্রন্থির কার্যকারিতা পরীক্ষা

করতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে ঠোঁটের ভেতরের ছোট টিস্যু পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে।

মুখ ও চোখ শুকিয়ে গেলে করণীয়

সাময়িক শুষ্কতার ক্ষেত্রে কিছু অভ্যাস উপকারী হতে পারে—

  • নিয়মিত অল্প অল্প করে পানি পান করা
  • ধূমপান এড়িয়ে চলা
  • অতিরিক্ত কফি কমানো
  • চিনি ছাড়া চুইংগাম ব্যবহার করা
  • মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা

চোখের শুষ্কতা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কৃত্রিম অশ্রু ব্যবহার করা যেতে পারে।

চিকিৎসকের কাছে কখন যাবেন?

মুখ ও চোখের শুষ্কতা কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকলে, নিয়মিত পানি পান করেও না কমলে বা এর সঙ্গে অন্য উপসর্গ যুক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মনে রাখতে হবে, মুখ শুকিয়ে যাওয়া মানেই সজোগ্রেন রোগ নয়। তবে চোখ ও মুখের শুষ্কতা দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকলে কারণ খুঁজে দেখা জরুরি। দ্রুত শনাক্ত করা গেলে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহজ হয়।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত