গরমে বা দীর্ঘসময় পানি না খেলে মুখ শুকিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। ঘুমের সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নিলেও সকালে গলা শুকনো লাগতে পারে। তবে পর্যাপ্ত পানি পান করার পরও যদি দিনের পর দিন মুখ, গলা ও চোখ শুকিয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
দীর্ঘস্থায়ী মুখ ও চোখের শুষ্কতা কখনো কখনো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি অটোইমিউন সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এমন একটি রোগ হলো সজোগ্রেন সিনড্রোম (Sjogren Syndrome)।
এই রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে চোখে অশ্রু ও মুখে লালা তৈরি করা গ্রন্থিগুলোকে আক্রমণ করে। ফলে চোখে পানি ও মুখে লালার পরিমাণ কমে যায়।
তবে মুখ বা চোখ শুকিয়ে গেলেই সজোগ্রেন রোগ হয়েছে, এমন নয়। পানিশূন্যতা, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অন্য অনেক কারণেও এমন সমস্যা হতে পারে।
সজোগ্রেন একটি দীর্ঘস্থায়ী অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজের সুস্থ কোষ ও টিস্যুর ওপর আক্রমণ করে।
এ রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় চোখ ও মুখের আর্দ্রতা তৈরির গ্রন্থি। এর প্রধান লক্ষণ হলো—
এ ছাড়া ক্লান্তি, জয়েন্টে ব্যথা, ত্বক শুষ্ক হওয়া, শুকনো কাশি ও শরীরের বিভিন্ন অংশে অস্বস্তিও দেখা দিতে পারে।
চোখের শুষ্কতা শুধু পানি কম আসার বিষয় নয়। এর সঙ্গে থাকতে পারে—
তবে দীর্ঘসময় মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহারের কারণেও চোখ শুকিয়ে যেতে পারে। তাই চোখ শুকানোর সঙ্গে মুখ ও গলার শুষ্কতা দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
মুখের লালা শুধু মুখ ভেজা রাখে না, দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
লালা কমে গেলে—
তাই দীর্ঘদিন মুখ শুকিয়ে থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।
মুখে লালা কমে গেলে গলাতেও শুষ্কতা দেখা দিতে পারে। এর ফলে—
হতে পারে।
তবে ঘুমের সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া, কম পানি পান করা বা কিছু ওষুধের কারণেও গলা শুকাতে পারে।
নিচের লক্ষণগুলো একসঙ্গে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—
সজোগ্রেন রোগ শনাক্ত করতে একাধিক বিষয় বিবেচনা করা হয়। চিকিৎসক সাধারণত—
করতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে ঠোঁটের ভেতরের ছোট টিস্যু পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে।
সাময়িক শুষ্কতার ক্ষেত্রে কিছু অভ্যাস উপকারী হতে পারে—
চোখের শুষ্কতা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কৃত্রিম অশ্রু ব্যবহার করা যেতে পারে।
মুখ ও চোখের শুষ্কতা কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকলে, নিয়মিত পানি পান করেও না কমলে বা এর সঙ্গে অন্য উপসর্গ যুক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মনে রাখতে হবে, মুখ শুকিয়ে যাওয়া মানেই সজোগ্রেন রোগ নয়। তবে চোখ ও মুখের শুষ্কতা দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকলে কারণ খুঁজে দেখা জরুরি। দ্রুত শনাক্ত করা গেলে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহজ হয়।

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
গরমে বা দীর্ঘসময় পানি না খেলে মুখ শুকিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। ঘুমের সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নিলেও সকালে গলা শুকনো লাগতে পারে। তবে পর্যাপ্ত পানি পান করার পরও যদি দিনের পর দিন মুখ, গলা ও চোখ শুকিয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
দীর্ঘস্থায়ী মুখ ও চোখের শুষ্কতা কখনো কখনো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি অটোইমিউন সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এমন একটি রোগ হলো সজোগ্রেন সিনড্রোম (Sjogren Syndrome)।
এই রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে চোখে অশ্রু ও মুখে লালা তৈরি করা গ্রন্থিগুলোকে আক্রমণ করে। ফলে চোখে পানি ও মুখে লালার পরিমাণ কমে যায়।
তবে মুখ বা চোখ শুকিয়ে গেলেই সজোগ্রেন রোগ হয়েছে, এমন নয়। পানিশূন্যতা, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অন্য অনেক কারণেও এমন সমস্যা হতে পারে।
সজোগ্রেন একটি দীর্ঘস্থায়ী অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজের সুস্থ কোষ ও টিস্যুর ওপর আক্রমণ করে।
এ রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় চোখ ও মুখের আর্দ্রতা তৈরির গ্রন্থি। এর প্রধান লক্ষণ হলো—
এ ছাড়া ক্লান্তি, জয়েন্টে ব্যথা, ত্বক শুষ্ক হওয়া, শুকনো কাশি ও শরীরের বিভিন্ন অংশে অস্বস্তিও দেখা দিতে পারে।
চোখের শুষ্কতা শুধু পানি কম আসার বিষয় নয়। এর সঙ্গে থাকতে পারে—
তবে দীর্ঘসময় মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহারের কারণেও চোখ শুকিয়ে যেতে পারে। তাই চোখ শুকানোর সঙ্গে মুখ ও গলার শুষ্কতা দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
মুখের লালা শুধু মুখ ভেজা রাখে না, দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
লালা কমে গেলে—
তাই দীর্ঘদিন মুখ শুকিয়ে থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।
মুখে লালা কমে গেলে গলাতেও শুষ্কতা দেখা দিতে পারে। এর ফলে—
হতে পারে।
তবে ঘুমের সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া, কম পানি পান করা বা কিছু ওষুধের কারণেও গলা শুকাতে পারে।
নিচের লক্ষণগুলো একসঙ্গে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—
সজোগ্রেন রোগ শনাক্ত করতে একাধিক বিষয় বিবেচনা করা হয়। চিকিৎসক সাধারণত—
করতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে ঠোঁটের ভেতরের ছোট টিস্যু পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে।
সাময়িক শুষ্কতার ক্ষেত্রে কিছু অভ্যাস উপকারী হতে পারে—
চোখের শুষ্কতা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কৃত্রিম অশ্রু ব্যবহার করা যেতে পারে।
মুখ ও চোখের শুষ্কতা কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকলে, নিয়মিত পানি পান করেও না কমলে বা এর সঙ্গে অন্য উপসর্গ যুক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মনে রাখতে হবে, মুখ শুকিয়ে যাওয়া মানেই সজোগ্রেন রোগ নয়। তবে চোখ ও মুখের শুষ্কতা দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকলে কারণ খুঁজে দেখা জরুরি। দ্রুত শনাক্ত করা গেলে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহজ হয়।
