শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

পাঁচ কোম্পানির কাছে ভাড়া বাবদ কেসিসির পাওনা ৮ কোটি টাকা, তবুও চলছে বিলবোর্ডের ব্যবসা

পাঁচ কোম্পানির কাছে ভাড়া বাবদ কেসিসির পাওনা ৮ কোটি টাকা, তবুও চলছে বিলবোর্ডের ব্যবসা
ছবি: সংগৃহীত

কেসিসির নিকট থেকে রাস্তার বিউটিফিকেশন স্পট ভাড়া নিয়ে বিলবোর্ডের ব্যবসা করছে পাঁচটি কোম্পানি। ২০১৫-১৬ অর্থ বছর থেকে বর্তমান ২০২৫-২৬ পর্যন্ত কোম্পানি গুলোর কাছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন( কেসিসি) আট কোটি টাকার অধিক ভাড়া বাবদ পাওনা হয়েছে। কোম্পানি গুলো পাওনা পরিশোধ না করেও দিব্যি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সুত্র মতে, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে কেসিসি নগরীর পাঁচটি সড়কদ্ধীপ সৌন্দর্যায়নের শর্তে ভাড়া দেয়। এর মধ্যে রয়্যাল মোড় থেকে শিববাড়ি মোড় এবং শিববাড়ি মোড় থেকে জোড়াগেট মোড় পর্যন্ত ভাড়া নেয় ভিউ ফাইন্ডার নামক কোম্পানি, ডাকবাংলা থেকে শিববাড়ি মোড় পর্যন্ত বন্ধু মিডিয়া, শিববাড়ি থেকে সোনাডাঙ্গা পর্যন্ত পোলাইড এবং সোনাডাঙ্গা থেকে গল্লামারী মোড় পর্যন্ত রয়েল ব্লু নামক কোম্পানি ভাড়া নেয়। এছাড়া ডাকবাংলা মোড়ে  একটি ডিজিটাল বিল বোর্ড স্থাপনের জন্য ভাড়া নেয় এ্যাড ফ্রেম এ্যাড নামক একটি কোম্পানি। সুত্রমতে, আলোকিত বিলবোর্ডের ভাড়া প্রতি বর্গফুট সরকারি ৩০০ টাকা এবং বেসরকারি ১৫০ টাকা। অন্যদিকে অনালোকিত সরকারি ১৫০ টাকা এবং বেসরকারি ১০০ টাকা নির্ধারিত হয়, এবং শর্তে থাকে যে, এই চুক্তি তিন বছরের জন্য কার্যকর হবে এবং তিন বছর পর আবারোও নবায়ন করা যাবে, তবে সম্পুর্ন ভাড়া পরিশোধ না হলে নবায়ন করা যাবে না। সুত্রমতে, ভিউ ফাইন্ডারের নিকট বর্তমান অর্থ বছর পর্যন্ত কেসিসির পাওনা ৩ কোটি ৫৩ লাখ ৯২ হাজার ৮৯৪ টাকা,পোলাইড'র নিকট পাওনা ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ টাকা, বন্ধু মিডিয়া'র নিকট পাওনা ১ কোটি ৩৮ লাখ  ৯৬ হাজার ৩৮০ টাকা, রয়েল ব্লুর নিকট পাওনা ৩৬ লাখ ৩১ হাজার টাকা এবং এ্যাড ফ্রেম এ্যাড কোম্পানির নিকট পাওনা ১ কোটি ৪১ লাখ ২৬ হাজার ৬০০ টাকা। উল্লেখ্য, কেসিসির পাওনা পরিশোধ না করলেও কোম্পানি গুলো বিলবোর্ড ভাড়া দিয়ে ঠিকই কোটি কোটি টাকা আয় করছে। বকেয়া আদায় সম্বন্ধে জানতে চাইলে কেসিসির লাইসেন্স অফিসার ( যানবাহন) শেখ মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রতি বছর কোম্পানি গুলো বকেয়াতো পরিশোধ করছেই না বরং হাল সনের পাওনা থেকেও কেউ ১ লাখ, কেউ ২ লাখ টাকা পরিশোধ করছে না, নিজেদের ইচ্ছা মতো তা- ই প্রদান করছে। এবিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করে শুধু পোলাইড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক খলিলুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। বকেয়া টাকা কেন পরিশোধ করছেন না জানতে চাইলে তিনি বলেন, " কেসিসির ভাড়ার হার বৃদ্ধি করায় আমরা মামলা করেছি তাই মামলার সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বকেয়া পরিশোধ করছি না। চুক্তির শর্তে ছিলো যে ভাড়া বকেয়া থাকলে নবায়ন করা যাবে না, সেক্ষেত্রে কেসিসির বিরুদ্ধে মামলা করে এবং ভাড়া বকেয়া রেখে দুইবার নবায়ন কিভাবে সম্ভব হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, " সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষই নবায়ন করেছে। ভাড়ার পরিবর্তে মামলা করে এবং বকেয়া পরিশোধ না করা সত্বেও কিভাবে নবায়ন হলো জানতে চাইলে দেলোয়ার হোসেন বলেন, " বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কাউন্সিলর এবং স্টান্ডিং কমিটি কাজ করেছে, তারা লাইসেন্স শাখাকে না জানিয়ে এদের নবায়ন করে দিয়েছেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে, কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, " আমরা এই বিলবোর্ড ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে ওদের মালামাল ক্রোক করবো। ওদের চুক্তি বাতিল করে নতুন কোম্পানির কাছে লীজ দেওয়া হবে এবং বিউটিফিকেশনের পরিধি বৃদ্ধির পরিকল্পনা আছে আমাদের। আর কেসিসি তার পাওনা আদায়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া যারা ওদের সাথে অবৈধ ভবে  চুক্তি নবায়ন করেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে, কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চেকপোস্ট

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬


পাঁচ কোম্পানির কাছে ভাড়া বাবদ কেসিসির পাওনা ৮ কোটি টাকা, তবুও চলছে বিলবোর্ডের ব্যবসা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image

কেসিসির নিকট থেকে রাস্তার বিউটিফিকেশন স্পট ভাড়া নিয়ে বিলবোর্ডের ব্যবসা করছে পাঁচটি কোম্পানি। ২০১৫-১৬ অর্থ বছর থেকে বর্তমান ২০২৫-২৬ পর্যন্ত কোম্পানি গুলোর কাছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন( কেসিসি) আট কোটি টাকার অধিক ভাড়া বাবদ পাওনা হয়েছে। কোম্পানি গুলো পাওনা পরিশোধ না করেও দিব্যি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সুত্র মতে, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে কেসিসি নগরীর পাঁচটি সড়কদ্ধীপ সৌন্দর্যায়নের শর্তে ভাড়া দেয়। এর মধ্যে রয়্যাল মোড় থেকে শিববাড়ি মোড় এবং শিববাড়ি মোড় থেকে জোড়াগেট মোড় পর্যন্ত ভাড়া নেয় ভিউ ফাইন্ডার নামক কোম্পানি, ডাকবাংলা থেকে শিববাড়ি মোড় পর্যন্ত বন্ধু মিডিয়া, শিববাড়ি থেকে সোনাডাঙ্গা পর্যন্ত পোলাইড এবং সোনাডাঙ্গা থেকে গল্লামারী মোড় পর্যন্ত রয়েল ব্লু নামক কোম্পানি ভাড়া নেয়। এছাড়া ডাকবাংলা মোড়ে  একটি ডিজিটাল বিল বোর্ড স্থাপনের জন্য ভাড়া নেয় এ্যাড ফ্রেম এ্যাড নামক একটি কোম্পানি। সুত্রমতে, আলোকিত বিলবোর্ডের ভাড়া প্রতি বর্গফুট সরকারি ৩০০ টাকা এবং বেসরকারি ১৫০ টাকা। অন্যদিকে অনালোকিত সরকারি ১৫০ টাকা এবং বেসরকারি ১০০ টাকা নির্ধারিত হয়, এবং শর্তে থাকে যে, এই চুক্তি তিন বছরের জন্য কার্যকর হবে এবং তিন বছর পর আবারোও নবায়ন করা যাবে, তবে সম্পুর্ন ভাড়া পরিশোধ না হলে নবায়ন করা যাবে না। সুত্রমতে, ভিউ ফাইন্ডারের নিকট বর্তমান অর্থ বছর পর্যন্ত কেসিসির পাওনা ৩ কোটি ৫৩ লাখ ৯২ হাজার ৮৯৪ টাকা,পোলাইড'র নিকট পাওনা ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ টাকা, বন্ধু মিডিয়া'র নিকট পাওনা ১ কোটি ৩৮ লাখ  ৯৬ হাজার ৩৮০ টাকা, রয়েল ব্লুর নিকট পাওনা ৩৬ লাখ ৩১ হাজার টাকা এবং এ্যাড ফ্রেম এ্যাড কোম্পানির নিকট পাওনা ১ কোটি ৪১ লাখ ২৬ হাজার ৬০০ টাকা। উল্লেখ্য, কেসিসির পাওনা পরিশোধ না করলেও কোম্পানি গুলো বিলবোর্ড ভাড়া দিয়ে ঠিকই কোটি কোটি টাকা আয় করছে। বকেয়া আদায় সম্বন্ধে জানতে চাইলে কেসিসির লাইসেন্স অফিসার ( যানবাহন) শেখ মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রতি বছর কোম্পানি গুলো বকেয়াতো পরিশোধ করছেই না বরং হাল সনের পাওনা থেকেও কেউ ১ লাখ, কেউ ২ লাখ টাকা পরিশোধ করছে না, নিজেদের ইচ্ছা মতো তা- ই প্রদান করছে। এবিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করে শুধু পোলাইড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক খলিলুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। বকেয়া টাকা কেন পরিশোধ করছেন না জানতে চাইলে তিনি বলেন, " কেসিসির ভাড়ার হার বৃদ্ধি করায় আমরা মামলা করেছি তাই মামলার সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বকেয়া পরিশোধ করছি না। চুক্তির শর্তে ছিলো যে ভাড়া বকেয়া থাকলে নবায়ন করা যাবে না, সেক্ষেত্রে কেসিসির বিরুদ্ধে মামলা করে এবং ভাড়া বকেয়া রেখে দুইবার নবায়ন কিভাবে সম্ভব হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, " সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষই নবায়ন করেছে। ভাড়ার পরিবর্তে মামলা করে এবং বকেয়া পরিশোধ না করা সত্বেও কিভাবে নবায়ন হলো জানতে চাইলে দেলোয়ার হোসেন বলেন, " বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কাউন্সিলর এবং স্টান্ডিং কমিটি কাজ করেছে, তারা লাইসেন্স শাখাকে না জানিয়ে এদের নবায়ন করে দিয়েছেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে, কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, " আমরা এই বিলবোর্ড ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে ওদের মালামাল ক্রোক করবো। ওদের চুক্তি বাতিল করে নতুন কোম্পানির কাছে লীজ দেওয়া হবে এবং বিউটিফিকেশনের পরিধি বৃদ্ধির পরিকল্পনা আছে আমাদের। আর কেসিসি তার পাওনা আদায়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া যারা ওদের সাথে অবৈধ ভবে  চুক্তি নবায়ন করেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে, কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত