রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

ইসলাম

অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার আহ্বান

পর্নোগ্রাফির আগ্রাসনে ঝুঁকিতে তরুণ সমাজ, ইসলামের কঠোর সতর্কবার্তা

পর্নোগ্রাফির আগ্রাসনে ঝুঁকিতে তরুণ সমাজ, ইসলামের কঠোর সতর্কবার্তা
ছবি: প্রতিকী

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে মানুষের জীবন যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি বেড়েছে নৈতিক সংকটও। এর মধ্যে অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে পর্নোগ্রাফির বিস্তার। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় কিশোর-তরুণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ অজান্তেই এই অশ্লীলতার জালে জড়িয়ে পড়ছে, যা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্যই মারাত্মক ক্ষতিকর।

ইসলামের দৃষ্টিতে পর্নোগ্রাফি স্পষ্টতই হারাম এবং এটি মানুষকে পাপের দিকে ধাবিত করে। পবিত্র আল-কুরআন-এ আল্লাহ তাআলা মুমিনদের দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “মুমিন পুরুষদের বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করে” (সূরা আন-নূর: ৩০)। একই নির্দেশনা নারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে বলেন, “তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না, নিশ্চয়ই এটি অশ্লীল কাজ” (সূরা আল-ইসরা: ৩২)। এই নির্দেশনার মাধ্যমে শুধু ব্যভিচার নয়, বরং তার দিকে নিয়ে যায় এমন সব মাধ্যম—অশ্লীল ছবি, ভিডিও বা পর্নোগ্রাফি থেকেও দূরে থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

হাদিসেও এ বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা রয়েছে। মুহাম্মদ ﷺ বলেছেন, “চোখও ব্যভিচার করে, আর তার ব্যভিচার হলো (অশ্লীল কিছু) দেখা।” (সহীহ বুখারি)। অন্য হাদিসে আত্মসংযমের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যে ব্যক্তি তার জিহ্বা ও লজ্জাস্থানকে সংযত রাখবে, তার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে।

পর্নোগ্রাফির প্রভাব শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিক ও মানসিক ক্ষেত্রেও গভীর। এটি মানুষের ঈমান দুর্বল করে, অন্তরকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে এবং ধীরে ধীরে আসক্তিতে পরিণত হয়। এর ফলে ডিপ্রেশন, একাকীত্ব, অপরাধবোধসহ নানা মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। পারিবারিক জীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে—স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অবিশ্বাস ও দূরত্ব তৈরি হয়।

ইসলাম এই সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য কার্যকর দিকনির্দেশনা দিয়েছে। দৃষ্টি সংযত রাখা, নিয়মিত নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির করা, অপ্রয়োজনীয় ইন্টারনেট ব্যবহার পরিহার এবং সৎ সঙ্গ গ্রহণ—এসবই একজন মানুষকে এই গুনাহ থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করে।

এছাড়া কেউ যদি এ ধরনের গুনাহে জড়িয়ে পড়ে, তবে নিরাশ না হয়ে দ্রুত তওবা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা গ্রহণকারী ও পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের ভালোবাসেন” (সূরা আল-বাকারা: ২২২)।

সর্বোপরি, পর্নোগ্রাফি আধুনিক সমাজের একটি নীরব ধ্বংসযজ্ঞ। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে রক্ষার জন্য ইসলামের নির্দেশনা মেনে পবিত্র ও সংযমী জীবনযাপন গড়ে তোলাই হতে পারে এ সংকট থেকে উত্তরণের অন্যতম পথ।

#পর্নোগ্রাফিবিরোধী #ইসলামিকশিক্ষা #তরুণসমাজ

চেকপোস্ট

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


পর্নোগ্রাফির আগ্রাসনে ঝুঁকিতে তরুণ সমাজ, ইসলামের কঠোর সতর্কবার্তা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে মানুষের জীবন যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি বেড়েছে নৈতিক সংকটও। এর মধ্যে অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে পর্নোগ্রাফির বিস্তার। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় কিশোর-তরুণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ অজান্তেই এই অশ্লীলতার জালে জড়িয়ে পড়ছে, যা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্যই মারাত্মক ক্ষতিকর।

ইসলামের দৃষ্টিতে পর্নোগ্রাফি স্পষ্টতই হারাম এবং এটি মানুষকে পাপের দিকে ধাবিত করে। পবিত্র আল-কুরআন-এ আল্লাহ তাআলা মুমিনদের দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “মুমিন পুরুষদের বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করে” (সূরা আন-নূর: ৩০)। একই নির্দেশনা নারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে বলেন, “তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না, নিশ্চয়ই এটি অশ্লীল কাজ” (সূরা আল-ইসরা: ৩২)। এই নির্দেশনার মাধ্যমে শুধু ব্যভিচার নয়, বরং তার দিকে নিয়ে যায় এমন সব মাধ্যম—অশ্লীল ছবি, ভিডিও বা পর্নোগ্রাফি থেকেও দূরে থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

হাদিসেও এ বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা রয়েছে। মুহাম্মদ ﷺ বলেছেন, “চোখও ব্যভিচার করে, আর তার ব্যভিচার হলো (অশ্লীল কিছু) দেখা।” (সহীহ বুখারি)। অন্য হাদিসে আত্মসংযমের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যে ব্যক্তি তার জিহ্বা ও লজ্জাস্থানকে সংযত রাখবে, তার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে।

পর্নোগ্রাফির প্রভাব শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিক ও মানসিক ক্ষেত্রেও গভীর। এটি মানুষের ঈমান দুর্বল করে, অন্তরকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে এবং ধীরে ধীরে আসক্তিতে পরিণত হয়। এর ফলে ডিপ্রেশন, একাকীত্ব, অপরাধবোধসহ নানা মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। পারিবারিক জীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে—স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অবিশ্বাস ও দূরত্ব তৈরি হয়।

ইসলাম এই সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য কার্যকর দিকনির্দেশনা দিয়েছে। দৃষ্টি সংযত রাখা, নিয়মিত নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির করা, অপ্রয়োজনীয় ইন্টারনেট ব্যবহার পরিহার এবং সৎ সঙ্গ গ্রহণ—এসবই একজন মানুষকে এই গুনাহ থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করে।

এছাড়া কেউ যদি এ ধরনের গুনাহে জড়িয়ে পড়ে, তবে নিরাশ না হয়ে দ্রুত তওবা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা গ্রহণকারী ও পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের ভালোবাসেন” (সূরা আল-বাকারা: ২২২)।

সর্বোপরি, পর্নোগ্রাফি আধুনিক সমাজের একটি নীরব ধ্বংসযজ্ঞ। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে রক্ষার জন্য ইসলামের নির্দেশনা মেনে পবিত্র ও সংযমী জীবনযাপন গড়ে তোলাই হতে পারে এ সংকট থেকে উত্তরণের অন্যতম পথ।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত