সরকারি ফি কয়েকশ’ টাকা, নেওয়া হচ্ছে ২৫শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা
জমিজমাসংক্রান্ত যেকোনো আইনি কাজ, খতিয়ান সংশোধন কিংবা মালিকানা প্রমাণের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের সার্টিফায়েড কপি বা ‘নকল’ একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে যেকোনো নাগরিক এই কপি পাওয়ার অধিকার রাখেন।
তবে কুড়িগ্রামের সীমান্তঘেঁষা উপজেলা রৌমারী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের নকল নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ফি কয়েকশ’ টাকা হলেও একটি দলিলের নকলের জন্য সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ২৫শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
আইনে নির্ধারিত ফি কত?
রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি ফি কাঠামো অনুযায়ী দলিলের সার্টিফায়েড কপি নিতে নির্দিষ্ট কিছু খরচ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী—
আবেদনপত্রের কোর্ট ফি: ২০ টাকা
তল্লাশি ফি: নির্ধারিত হারে
নকল ফি: শব্দ ও পৃষ্ঠার হিসাব অনুযায়ী
জরুরি নকলের জন্য অতিরিক্ত নির্ধারিত ফি
স্ট্যাম্প বা ফলিও খরচ: নির্ধারিত পরিমাণ
সাধারণ একটি ৪ থেকে ৬ পৃষ্ঠার দলিলের নকল তুলতে সরকারি খরচ আনুমানিক ১৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে হওয়ার কথা।
৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা না দিলে অনেক সময় নানা অজুহাতে নকল সরবরাহে বিলম্ব করা হয়। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, ‘বালাম বই পাওয়া যাচ্ছে না’, ‘লোকবল সংকট’সহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তাদের দিনের পর দিন ঘুরানো হয়।
স্থানীয়দের দাবি, অফিসকেন্দ্রিক কিছু মধ্যস্বত্বভোগী বা তথাকথিত ‘উমেদার’ অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনে ভূমিকা রাখছে। ফলে জমিজমার জরুরি কাগজ নিতে আসা সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা পরিশোধ করছেন।
ভোগান্তিতে প্রান্তিক মানুষ
রৌমারীর চরাঞ্চল ও গ্রামীণ এলাকার অনেক মানুষ জমির কাগজপত্রের জন্য সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় তারা অতিরিক্ত অর্থের চাপের মুখে পড়ছেন।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—সরকারি ফি নির্ধারিত থাকার পরও অতিরিক্ত টাকা কোথায় যাচ্ছে?
অভিযোগ জানাতে নাগরিকদের করণীয়
সেবাগ্রহীতাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে—
সরকারি নির্ধারিত ফি অনুযায়ী টাকা জমা দিতে হবে
অর্থ প্রদানের বিপরীতে অবশ্যই অফিসিয়াল রসিদ নিতে হবে
অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হলে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি প্রতিরোধ সংস্থায় অভিযোগ জানাতে হবে
প্রশাসনিক নজরদারি প্রয়োজন
স্থানীয়দের মতে, রৌমারী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সেবার মান বাড়াতে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের হয়রানি কমবে বলে তারা আশা করছেন।

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬
সরকারি ফি কয়েকশ’ টাকা, নেওয়া হচ্ছে ২৫শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা
জমিজমাসংক্রান্ত যেকোনো আইনি কাজ, খতিয়ান সংশোধন কিংবা মালিকানা প্রমাণের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের সার্টিফায়েড কপি বা ‘নকল’ একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে যেকোনো নাগরিক এই কপি পাওয়ার অধিকার রাখেন।
তবে কুড়িগ্রামের সীমান্তঘেঁষা উপজেলা রৌমারী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের নকল নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ফি কয়েকশ’ টাকা হলেও একটি দলিলের নকলের জন্য সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ২৫শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
আইনে নির্ধারিত ফি কত?
রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি ফি কাঠামো অনুযায়ী দলিলের সার্টিফায়েড কপি নিতে নির্দিষ্ট কিছু খরচ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী—
আবেদনপত্রের কোর্ট ফি: ২০ টাকা
তল্লাশি ফি: নির্ধারিত হারে
নকল ফি: শব্দ ও পৃষ্ঠার হিসাব অনুযায়ী
জরুরি নকলের জন্য অতিরিক্ত নির্ধারিত ফি
স্ট্যাম্প বা ফলিও খরচ: নির্ধারিত পরিমাণ
সাধারণ একটি ৪ থেকে ৬ পৃষ্ঠার দলিলের নকল তুলতে সরকারি খরচ আনুমানিক ১৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে হওয়ার কথা।
৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা না দিলে অনেক সময় নানা অজুহাতে নকল সরবরাহে বিলম্ব করা হয়। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, ‘বালাম বই পাওয়া যাচ্ছে না’, ‘লোকবল সংকট’সহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তাদের দিনের পর দিন ঘুরানো হয়।
স্থানীয়দের দাবি, অফিসকেন্দ্রিক কিছু মধ্যস্বত্বভোগী বা তথাকথিত ‘উমেদার’ অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনে ভূমিকা রাখছে। ফলে জমিজমার জরুরি কাগজ নিতে আসা সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা পরিশোধ করছেন।
ভোগান্তিতে প্রান্তিক মানুষ
রৌমারীর চরাঞ্চল ও গ্রামীণ এলাকার অনেক মানুষ জমির কাগজপত্রের জন্য সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় তারা অতিরিক্ত অর্থের চাপের মুখে পড়ছেন।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—সরকারি ফি নির্ধারিত থাকার পরও অতিরিক্ত টাকা কোথায় যাচ্ছে?
অভিযোগ জানাতে নাগরিকদের করণীয়
সেবাগ্রহীতাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে—
সরকারি নির্ধারিত ফি অনুযায়ী টাকা জমা দিতে হবে
অর্থ প্রদানের বিপরীতে অবশ্যই অফিসিয়াল রসিদ নিতে হবে
অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হলে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি প্রতিরোধ সংস্থায় অভিযোগ জানাতে হবে
প্রশাসনিক নজরদারি প্রয়োজন
স্থানীয়দের মতে, রৌমারী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সেবার মান বাড়াতে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের হয়রানি কমবে বলে তারা আশা করছেন।
