রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

জাতীয় ঐক্যে শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান সুনামগঞ্জের ডিসির

জাতীয় ঐক্যে শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান সুনামগঞ্জের ডিসির
ছবি : চেকপোস্ট

জাতীয় ঐক্য ও সংহতির চেতনা ধারণ করে একটি শক্তিশালী ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সংহতি যত শক্তিশালী হবে, রাষ্ট্রও তত বেশি শক্তিশালী হবে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ইতিহাস শুধু একটি জাতির ঘটনাপঞ্জি নয়; বরং এটি জাতির আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, সাহস, আত্মত্যাগ এবং ভবিষ্যৎ পথচলার দিকনির্দেশনা। যে জাতি নিজের ইতিহাস যথাযথভাবে জানতে ও মূল্যায়ন করতে পারে, সেই জাতি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে পারে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে তিনি বলেন, সে সময় বাংলাদেশ সামরিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তার মধ্যে ঢাকার সেনানিবাসে সৈনিকদের বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। এতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও বিশেষ মাত্রা যোগ করে। সিপাহি-জনতার যৌথ প্রয়াসে তৎকালীন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন।

তিনি আরও বলেন, দিবসটির নামের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য রয়েছে। বিপ্লব পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে, আর সংহতি সেই পরিবর্তনকে সম্মিলিত শক্তি ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার প্রেরণা জোগায়।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের পর তিনি জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আবির্ভূত হন এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর শাসনামলে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র, কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন, স্বনির্ভরতা ও উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

জেলা প্রশাসক বলেন, ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য শুধু ১৯৭৫ সালের ঘটনাবলির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দিবসটি জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সহনশীলতা, রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা এবং জনগণের সম্মিলিত শক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে। আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রত্যাশা করি, যেখানে আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানুষের মর্যাদা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত হবে।

এ সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে পুনরায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় উদযাপন এবং সরকারি ছুটি হিসেবে পুনর্বহালের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান তিনি। পাশাপাশি জাতীয় দিনগুলো যথাযথভাবে স্মরণ এবং ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ ইমরান হাসান চৌধুরী।

এ সময় বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মল্লিক মইন উদ্দিন সুহেল, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাদির আহমেদ, রেজাউল হক, আকবর আলীসহ অন্যান্য অতিথিরা।

আলোচনা সভা শেষে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

#সুনামগঞ্জ #জাতীয়ঐক্য #জাতীয়বিপ্লবওসংহতিদিবস

চেকপোস্ট

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


জাতীয় ঐক্যে শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান সুনামগঞ্জের ডিসির

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

জাতীয় ঐক্য ও সংহতির চেতনা ধারণ করে একটি শক্তিশালী ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সংহতি যত শক্তিশালী হবে, রাষ্ট্রও তত বেশি শক্তিশালী হবে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ইতিহাস শুধু একটি জাতির ঘটনাপঞ্জি নয়; বরং এটি জাতির আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, সাহস, আত্মত্যাগ এবং ভবিষ্যৎ পথচলার দিকনির্দেশনা। যে জাতি নিজের ইতিহাস যথাযথভাবে জানতে ও মূল্যায়ন করতে পারে, সেই জাতি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে পারে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে তিনি বলেন, সে সময় বাংলাদেশ সামরিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তার মধ্যে ঢাকার সেনানিবাসে সৈনিকদের বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। এতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও বিশেষ মাত্রা যোগ করে। সিপাহি-জনতার যৌথ প্রয়াসে তৎকালীন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন।

তিনি আরও বলেন, দিবসটির নামের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য রয়েছে। বিপ্লব পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে, আর সংহতি সেই পরিবর্তনকে সম্মিলিত শক্তি ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার প্রেরণা জোগায়।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের পর তিনি জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আবির্ভূত হন এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর শাসনামলে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র, কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন, স্বনির্ভরতা ও উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

জেলা প্রশাসক বলেন, ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য শুধু ১৯৭৫ সালের ঘটনাবলির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দিবসটি জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সহনশীলতা, রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা এবং জনগণের সম্মিলিত শক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে। আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রত্যাশা করি, যেখানে আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানুষের মর্যাদা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত হবে।

এ সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে পুনরায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় উদযাপন এবং সরকারি ছুটি হিসেবে পুনর্বহালের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান তিনি। পাশাপাশি জাতীয় দিনগুলো যথাযথভাবে স্মরণ এবং ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ ইমরান হাসান চৌধুরী।

এ সময় বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মল্লিক মইন উদ্দিন সুহেল, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাদির আহমেদ, রেজাউল হক, আকবর আলীসহ অন্যান্য অতিথিরা।

আলোচনা সভা শেষে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত