বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান

ছাতকে মায়ের মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি, বিচার চায় সন্তানরা

ছাতকে মায়ের মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি, বিচার চায় সন্তানরা
ছবি : চেকপোস্ট

সুনামগঞ্জের ছাতকে মায়ের মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের সন্তানরা।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে ছাতক উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের বালিউরা চাটুরপাড় গ্রামের বাসিন্দা ও সৌদি আরবপ্রবাসী আবদুল হান্নান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত বছরের শুরুতে তাঁর বাবা আবদুল গফুর, মা রংফুল বেগম এবং স্ত্রী ফারজানা বেগম ছাতক শহরের রহমতবাগ আবাসিক এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে ওঠার কিছুদিন পর তাঁর বাবা এক নিকটাত্মীয় নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর মা নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন বলেও দাবি করা হয়।

তিনি আরও জানান, গত বছরের ৪ মে তাঁর বাবার বিরুদ্ধে ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে ২৩ জুন সুনামগঞ্জের আমল গ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে বিচারাধীন।

আবদুল হান্নান বলেন, চলতি বছরের ২০ মার্চ তিনি সৌদি আরবে অবস্থানকালে জানতে পারেন তাঁর মা ভাড়া বাসার ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছেন। দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে জানতে পারেন, ঘটনাটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে এবং ওই মামলার বাদী হয়েছেন তাঁর বাবা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, মরদেহ উদ্ধারের আগেই ঘটনাস্থলে পানির ট্যাপ খুলে দিয়ে আলামত নষ্টের চেষ্টা করা হয়। এছাড়া তাঁর মায়ের ব্যবহৃত চাবির গোছা ও স্যান্ডেল ঘরের ভেতরে পাওয়া যায় এবং শয়নকক্ষের দরজার পর্দায় রক্তের দাগ ছিল, যা পুলিশ জব্দ করলেও পরবর্তীতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, তাঁর বাবার দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে। থানায় দেওয়া আবেদনে এক ধরনের এবং আদালতে দায়ের করা মামলায় ভিন্ন ধরনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পুরো ঘটনাকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে বলে দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আবদুল হান্নান অভিযোগ করেন, তাঁর বাবা, স্ত্রী এবং স্ত্রীর পরিবারের কয়েকজন সদস্য মিলে প্রথমে তাঁর মাকে হত্যা করে পরে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন বলে তাঁদের দৃঢ় সন্দেহ।

তিনি পুলিশ প্রশাসন, তদন্ত সংস্থা এবং বিচার বিভাগের কাছে রংফুল বেগমের মৃত্যুর নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গভীর তদন্ত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের যথাযথ মূল্যায়ন এবং প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে কুলসুমা আক্তার, রূপেজা বেগম, রুহুল আমিন ও রুমান উপস্থিত ছিলেন।

#ছাতক #সুষ্ঠুতদন্ত #মৃত্যুরহস্য

চেকপোস্ট

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬


ছাতকে মায়ের মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি, বিচার চায় সন্তানরা

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জের ছাতকে মায়ের মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের সন্তানরা।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে ছাতক উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের বালিউরা চাটুরপাড় গ্রামের বাসিন্দা ও সৌদি আরবপ্রবাসী আবদুল হান্নান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত বছরের শুরুতে তাঁর বাবা আবদুল গফুর, মা রংফুল বেগম এবং স্ত্রী ফারজানা বেগম ছাতক শহরের রহমতবাগ আবাসিক এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে ওঠার কিছুদিন পর তাঁর বাবা এক নিকটাত্মীয় নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর মা নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন বলেও দাবি করা হয়।

তিনি আরও জানান, গত বছরের ৪ মে তাঁর বাবার বিরুদ্ধে ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে ২৩ জুন সুনামগঞ্জের আমল গ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে বিচারাধীন।

আবদুল হান্নান বলেন, চলতি বছরের ২০ মার্চ তিনি সৌদি আরবে অবস্থানকালে জানতে পারেন তাঁর মা ভাড়া বাসার ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছেন। দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে জানতে পারেন, ঘটনাটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে এবং ওই মামলার বাদী হয়েছেন তাঁর বাবা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, মরদেহ উদ্ধারের আগেই ঘটনাস্থলে পানির ট্যাপ খুলে দিয়ে আলামত নষ্টের চেষ্টা করা হয়। এছাড়া তাঁর মায়ের ব্যবহৃত চাবির গোছা ও স্যান্ডেল ঘরের ভেতরে পাওয়া যায় এবং শয়নকক্ষের দরজার পর্দায় রক্তের দাগ ছিল, যা পুলিশ জব্দ করলেও পরবর্তীতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, তাঁর বাবার দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে। থানায় দেওয়া আবেদনে এক ধরনের এবং আদালতে দায়ের করা মামলায় ভিন্ন ধরনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পুরো ঘটনাকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে বলে দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আবদুল হান্নান অভিযোগ করেন, তাঁর বাবা, স্ত্রী এবং স্ত্রীর পরিবারের কয়েকজন সদস্য মিলে প্রথমে তাঁর মাকে হত্যা করে পরে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন বলে তাঁদের দৃঢ় সন্দেহ।

তিনি পুলিশ প্রশাসন, তদন্ত সংস্থা এবং বিচার বিভাগের কাছে রংফুল বেগমের মৃত্যুর নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গভীর তদন্ত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের যথাযথ মূল্যায়ন এবং প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে কুলসুমা আক্তার, রূপেজা বেগম, রুহুল আমিন ও রুমান উপস্থিত ছিলেন।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত