রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা খাদ্য গুদামে চলমান সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়ম, দুর্নীতি ও উৎকোচ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ এবং কৃষকদের হয়রানির অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আলহাজ্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার রহমান। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গঙ্গাচড়া উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম খান সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করে প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও চালকল মালিকের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করছেন। অভিযোগে চাল ব্যবসায়ী (মিলার) ফজলু মিয়া, আইয়ুব আলী, জয়নাল আবেদীন ও নজরুল ইসলামসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সরকারি ধান সংগ্রহ কর্মসূচিতে অংশ নিতে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি টনে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক উম্মে কুলছুমা খাতুনের বিরুদ্ধেও এসব অনিয়মে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার রহমান অভিযোগ করেন, গত সোমবার (৬ জুলাই) বিষয়টি নিয়ে খাদ্য গুদামে গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, যা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জন্য অপমানজনক।
স্থানীয় কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, প্রায় এক মাস ধরে নিজের উৎপাদিত ধান সরকারি গুদামে দেওয়ার চেষ্টা করেও তিনি বস্তা পাননি। অথচ ব্যবসায়ীদের নিয়মিত বস্তা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, লটারিতে নির্বাচিত অনেক কৃষকের কাছে বর্তমানে ধান না থাকলেও তাদের নামে ব্যবসায়ীরাই ধান সরবরাহ করছেন। এতে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি ধান সংগ্রহ কর্মসূচির সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
কৃষকদের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধান সরবরাহে ব্যর্থদের বাদ দিয়ে প্রকৃত ধানচাষিদের নতুন তালিকা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কৃষকদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক উম্মে কুলছুমা খাতুনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে গঙ্গাচড়া উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম খান বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান নেওয়া বা উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা খাদ্য গুদামে চলমান সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়ম, দুর্নীতি ও উৎকোচ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ এবং কৃষকদের হয়রানির অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আলহাজ্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার রহমান। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গঙ্গাচড়া উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম খান সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করে প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও চালকল মালিকের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করছেন। অভিযোগে চাল ব্যবসায়ী (মিলার) ফজলু মিয়া, আইয়ুব আলী, জয়নাল আবেদীন ও নজরুল ইসলামসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সরকারি ধান সংগ্রহ কর্মসূচিতে অংশ নিতে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি টনে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক উম্মে কুলছুমা খাতুনের বিরুদ্ধেও এসব অনিয়মে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার রহমান অভিযোগ করেন, গত সোমবার (৬ জুলাই) বিষয়টি নিয়ে খাদ্য গুদামে গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, যা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জন্য অপমানজনক।
স্থানীয় কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, প্রায় এক মাস ধরে নিজের উৎপাদিত ধান সরকারি গুদামে দেওয়ার চেষ্টা করেও তিনি বস্তা পাননি। অথচ ব্যবসায়ীদের নিয়মিত বস্তা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, লটারিতে নির্বাচিত অনেক কৃষকের কাছে বর্তমানে ধান না থাকলেও তাদের নামে ব্যবসায়ীরাই ধান সরবরাহ করছেন। এতে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি ধান সংগ্রহ কর্মসূচির সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
কৃষকদের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধান সরবরাহে ব্যর্থদের বাদ দিয়ে প্রকৃত ধানচাষিদের নতুন তালিকা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কৃষকদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক উম্মে কুলছুমা খাতুনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে গঙ্গাচড়া উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম খান বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান নেওয়া বা উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
