শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

কোটি টাকার প্রকল্পেও সুফল নেই, পানির নিচে ডুমুরিয়ার সড়ক

কোটি টাকার প্রকল্পেও সুফল নেই, পানির নিচে ডুমুরিয়ার সড়ক
বিল ডাকাতিয়ায় ৪ বছর ধরে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ। ছবি : চেকপোস্ট

ডুমুরিয়া বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলে জলাবদ্ধতা এখন দুর্যোগের নাম। টানা চার বছর ধরে পানিবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ। কোটি টাকা ব্যয়ে খাল খনন,উন্নয়ন প্রকল্প ও নানা প্রতিশ্রুতির পরও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, উন্নয়নের নামে প্রকল্প হয়েছে, কিন্তু দুর্ভোগ কমেনি বরং বিলডাকাতিয়া ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। 

বানারসি নদী থেকে কৃঞ্চনগর পর্যন্ত প্রধান সড়ক বছরের একটি বড় সময় পানির নিচে থাকছে। ফলে মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা এখন ডিঙি নৌকা। জনপ্রতি ১০ টাকা ভাড়া দিয়ে খালপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অসুস্থ রোগী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ বছর বৃষ্টিপাত তুলনা মুলক কম হলেও পরিস্থিতি তেমন পরিবর্তন হয়নি। অনেক পরিবার নিজ খরচে ভিটা উঁচু করায় বাড়িঘর প্লাবিত হয়নি, কিন্তু তলিয়ে গেছে অধিকাংশ রাস্তা। খালের ওপর নির্মিত কয়েকটি নিচু কালভার্টের কারনে নৌযান চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। 

ফলে দীর্ঘ পথ নৌকায় পাড়ি দেওয়াও অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না। জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে বিলডাকাতিয়ায় কোটি টাকার খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও প্রত্যাশিত সুফল মেলেনি। স্থানীয়দের দাবি, আগে খনন করা খাল পুনরায় খননের পরিবর্তে মুল নদী গুলো খনন করা হলে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা কার্যকর ব্যাবস্থা হতো। কিন্তু সেই পরামর্শ উপেক্ষা করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত ও অনিয়মের কারনে প্রকল্পন ব্যার্থ হয়েছে। 

এমনকি প্রকল্পের অব্যবহ্নত প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা সরকারি কোষাকারে ফেরত দিতে হয়েছে। এদিকে বানারসি - কৃঞ্চনগর সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ দুই বছরেও শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। স্থানীয়দের মতে, শুধু সড়ক নির্মান নয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাস্তার উচ্চতা অন্তত দুই ফুট বাড়ানো জরুরি। কারন বর্ষার মাঝামাঝি সময়েই সড়কটি পানির নিচে চলে যায় এবং জলাবদ্ধতা আগামী ফাল্গুন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। কৃঞ্চনগর গ্রামের বাসিন্দা অমিত সরকার বলেন, ভোটের আগে সবাই রাস্তা ও পানি নিস্কাশনের প্রতিশ্রুতি দেয়। ভোট শেষ হলে আর কেউ খোঁজ নেয় না। 

বিলডাকাতিয়াকে নিয়ে শুধু রাজনীতি হচ্ছে। বানারসি গ্রামের অসিত মন্ডল বলেন, বছরের পর বছর একই অবস্থা। আমরা যেমকি দুর্ভোগে আছি, তা কেউ বুঝবে না। অজিত মন্ডল বলেন, এভাবে পানি বন্দি হয়ে থাকার চেয়ে সরকার যদি অন্য কোথাও পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করতো তাহলে হয়ত মুক্তি পেতাম। রাম চন্দ্র রায় জানান, গ্রামবাসী নিজেদের উদ্যোগে এক লাখ টাকারও বেশি খরচ করে রাস্তায় বালি ফেলেছে। 

সম্প্রতি উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যও রাস্তা উঁচু করার আশ্বাস দিয়েছেন। চারবছর ধরে জলাবদ্ধতার অভিশাপে জর্জরিত বিলডাকাতিয়ার মানুষের প্রশ্ন, কোটি টাকার প্রকল্পের পরও যদি পানি না নামে, তাহলে এই দুর্ভোগের শেষ কোথায়?

#জলাবদ্ধতা #ডুমুরিয়া #বিলডাকাতিয়া

চেকপোস্ট

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কোটি টাকার প্রকল্পেও সুফল নেই, পানির নিচে ডুমুরিয়ার সড়ক

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ডুমুরিয়া বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলে জলাবদ্ধতা এখন দুর্যোগের নাম। টানা চার বছর ধরে পানিবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ। কোটি টাকা ব্যয়ে খাল খনন,উন্নয়ন প্রকল্প ও নানা প্রতিশ্রুতির পরও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, উন্নয়নের নামে প্রকল্প হয়েছে, কিন্তু দুর্ভোগ কমেনি বরং বিলডাকাতিয়া ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। 

বানারসি নদী থেকে কৃঞ্চনগর পর্যন্ত প্রধান সড়ক বছরের একটি বড় সময় পানির নিচে থাকছে। ফলে মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা এখন ডিঙি নৌকা। জনপ্রতি ১০ টাকা ভাড়া দিয়ে খালপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অসুস্থ রোগী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ বছর বৃষ্টিপাত তুলনা মুলক কম হলেও পরিস্থিতি তেমন পরিবর্তন হয়নি। অনেক পরিবার নিজ খরচে ভিটা উঁচু করায় বাড়িঘর প্লাবিত হয়নি, কিন্তু তলিয়ে গেছে অধিকাংশ রাস্তা। খালের ওপর নির্মিত কয়েকটি নিচু কালভার্টের কারনে নৌযান চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। 

ফলে দীর্ঘ পথ নৌকায় পাড়ি দেওয়াও অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না। জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে বিলডাকাতিয়ায় কোটি টাকার খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও প্রত্যাশিত সুফল মেলেনি। স্থানীয়দের দাবি, আগে খনন করা খাল পুনরায় খননের পরিবর্তে মুল নদী গুলো খনন করা হলে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা কার্যকর ব্যাবস্থা হতো। কিন্তু সেই পরামর্শ উপেক্ষা করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত ও অনিয়মের কারনে প্রকল্পন ব্যার্থ হয়েছে। 

এমনকি প্রকল্পের অব্যবহ্নত প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা সরকারি কোষাকারে ফেরত দিতে হয়েছে। এদিকে বানারসি - কৃঞ্চনগর সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ দুই বছরেও শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। স্থানীয়দের মতে, শুধু সড়ক নির্মান নয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাস্তার উচ্চতা অন্তত দুই ফুট বাড়ানো জরুরি। কারন বর্ষার মাঝামাঝি সময়েই সড়কটি পানির নিচে চলে যায় এবং জলাবদ্ধতা আগামী ফাল্গুন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। কৃঞ্চনগর গ্রামের বাসিন্দা অমিত সরকার বলেন, ভোটের আগে সবাই রাস্তা ও পানি নিস্কাশনের প্রতিশ্রুতি দেয়। ভোট শেষ হলে আর কেউ খোঁজ নেয় না। 

বিলডাকাতিয়াকে নিয়ে শুধু রাজনীতি হচ্ছে। বানারসি গ্রামের অসিত মন্ডল বলেন, বছরের পর বছর একই অবস্থা। আমরা যেমকি দুর্ভোগে আছি, তা কেউ বুঝবে না। অজিত মন্ডল বলেন, এভাবে পানি বন্দি হয়ে থাকার চেয়ে সরকার যদি অন্য কোথাও পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করতো তাহলে হয়ত মুক্তি পেতাম। রাম চন্দ্র রায় জানান, গ্রামবাসী নিজেদের উদ্যোগে এক লাখ টাকারও বেশি খরচ করে রাস্তায় বালি ফেলেছে। 

সম্প্রতি উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যও রাস্তা উঁচু করার আশ্বাস দিয়েছেন। চারবছর ধরে জলাবদ্ধতার অভিশাপে জর্জরিত বিলডাকাতিয়ার মানুষের প্রশ্ন, কোটি টাকার প্রকল্পের পরও যদি পানি না নামে, তাহলে এই দুর্ভোগের শেষ কোথায়?


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত