বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার প্রবণতা বাড়লেও ভারত ও পাকিস্তান এখনো একে অপরের পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেনি। এনডিটিভির এক বিশেষ এক্সপ্লেইনারে উঠে এসেছে এই ব্যতিক্রমী কূটনৈতিক বাস্তবতা।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি বারবার সতর্ক করে বলেছেন, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইনে নিষিদ্ধ এবং এটি বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া, ইরানের নাতাঞ্জ, ফোর্ডোসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনায় সেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়, বেসামরিক পারমাণবিক অবকাঠামো এখন আর সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়—যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে, যা সম্ভাব্যভাবে বৈশ্বিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
তবে এর বিপরীতে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক একটি ব্যতিক্রম উদাহরণ। ১৯৮৮ সালে স্বাক্ষরিত এবং ১৯৯১ সালে কার্যকর হওয়া দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ একে অপরের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে।
এই চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রতি বছর ১ জানুয়ারি দুই দেশ তাদের পারমাণবিক স্থাপনার তালিকা বিনিময় করে। ১৯৯২ সাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া এখন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে চলমান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ শত্রুতা ও সামরিক সংঘাত থাকা সত্ত্বেও এই ‘পারমাণবিক সংযম’ দক্ষিণ এশিয়াকে একটি অনন্য উদাহরণে পরিণত করেছে। এমনকি সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতিতেও এই চুক্তির লঙ্ঘন হয়নি।
সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ব্যবস্থা শুধু আস্থা তৈরি করেনি, বরং সম্ভাব্য পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমিয়ে দিয়েছে।
আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি সতর্ক করে বলেছেন, যদিও আঞ্চলিক মডেল সব জায়গায় সরাসরি প্রয়োগযোগ্য নয়, তবুও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা নিষিদ্ধ রাখার বৈশ্বিক নীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ভারত-পাকিস্তানের এই চুক্তি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি বিরল ও কার্যকর উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬
বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার প্রবণতা বাড়লেও ভারত ও পাকিস্তান এখনো একে অপরের পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেনি। এনডিটিভির এক বিশেষ এক্সপ্লেইনারে উঠে এসেছে এই ব্যতিক্রমী কূটনৈতিক বাস্তবতা।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি বারবার সতর্ক করে বলেছেন, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইনে নিষিদ্ধ এবং এটি বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া, ইরানের নাতাঞ্জ, ফোর্ডোসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনায় সেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়, বেসামরিক পারমাণবিক অবকাঠামো এখন আর সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়—যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে, যা সম্ভাব্যভাবে বৈশ্বিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
তবে এর বিপরীতে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক একটি ব্যতিক্রম উদাহরণ। ১৯৮৮ সালে স্বাক্ষরিত এবং ১৯৯১ সালে কার্যকর হওয়া দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ একে অপরের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে।
এই চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রতি বছর ১ জানুয়ারি দুই দেশ তাদের পারমাণবিক স্থাপনার তালিকা বিনিময় করে। ১৯৯২ সাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া এখন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে চলমান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ শত্রুতা ও সামরিক সংঘাত থাকা সত্ত্বেও এই ‘পারমাণবিক সংযম’ দক্ষিণ এশিয়াকে একটি অনন্য উদাহরণে পরিণত করেছে। এমনকি সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতিতেও এই চুক্তির লঙ্ঘন হয়নি।
সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ব্যবস্থা শুধু আস্থা তৈরি করেনি, বরং সম্ভাব্য পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমিয়ে দিয়েছে।
আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি সতর্ক করে বলেছেন, যদিও আঞ্চলিক মডেল সব জায়গায় সরাসরি প্রয়োগযোগ্য নয়, তবুও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা নিষিদ্ধ রাখার বৈশ্বিক নীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ভারত-পাকিস্তানের এই চুক্তি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি বিরল ও কার্যকর উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
