বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

কৃষি ব্যাংকের ঋণ না পাওয়ায় দেউন্দি টি কোম্পানির তিন চা বাগান বন্ধ, বিপাকে ৫ হাজার শ্রমিক

কৃষি ব্যাংকের ঋণ না পাওয়ায় দেউন্দি টি কোম্পানির তিন চা বাগান বন্ধ, বিপাকে ৫ হাজার শ্রমিক
ছবি: চেকপোস্ট

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় দেউন্দি টি কোম্পানির তিনটি চা বাগানে বকেয়া মজুরি, রেশন ও দুর্গাপূজার উৎসব বোনাসের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন শ্রমিকরা। কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে বাগান কর্তৃপক্ষ। এতে প্রায় পাঁচ হাজার চা শ্রমিকের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে বাগানের চা উত্তোলন, কারখানাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম।

সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, মৌলভীবাজার জেলার মিরতিংগা চা বাগান এবং হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার লালচাঁদ ও দেউন্দি চা বাগানের শ্রমিকরা বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। মিরতিংগা চা বাগানের কার্যালয়ের সামনে এবং দেউন্দি টি কোম্পানির কার্যালয়ের ফটকে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক জড়ো হন।

শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে তিনটি বাগানের কারখানা, চা পাতা উত্তোলনসহ স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বাগানের ব্যবস্থাপক বাংলো, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবন ও বিভিন্ন স্থাপনাও কার্যত অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। এতে বাগানের সম্পদ চুরির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শ্রমিকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সাপ্তাহিক মজুরি, রেশন ও উৎসব বোনাস বকেয়া রয়েছে। বকেয়া পাওনার পরিমাণ কোটি টাকার বেশি বলে তাঁদের দাবি। আসন্ন দুর্গাপূজা সামনে রেখে উৎসব বোনাস না পাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করা পর্যন্ত কাজে ফিরবেন না বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, বাগান কর্তৃপক্ষ তাঁদের অর্ধেক বোনাস দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু এই সামান্য অর্থ দিয়ে সংসারের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব নয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এমনিতেই তাঁরা আর্থিক সংকটে রয়েছেন। মজুরি না পাওয়ায় সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

শ্রমিক নেতা প্রদীপ বোনার্জী বলেন, “আমরা দিনমজুর। দিন আনি, দিন খাই। মজুরি না পেলে আমাদের সংসার কীভাবে চলবে? বাজারে গেলে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম বেশি। বাচ্চাদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, ২০২২ সাল থেকে সাপ্তাহিক মজুরি ও দুর্গাপূজার বোনাসের সময় কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া নিয়ে জটিলতা দেখা দিচ্ছে। সাধারণত কৃষি ব্যাংকের ঋণের অর্থ দিয়ে বাগানের কার্যক্রম পরিচালনা এবং শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হয়। কিন্তু এবারও ঋণ না পাওয়ায় শ্রমিকদের মজুরি ও বোনাস পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

প্রদীপ বোনার্জী বলেন, চা শিল্পের বিকাশ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হলেও দেউন্দি টি কোম্পানি এখনো কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ পায়নি বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। এ অবস্থায় শ্রমিকদের পাওনা দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা করা জরুরি।

এদিকে দেউন্দি টি কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজার দেবাশীষ দেব রায় বলেন, বর্তমানে কোম্পানির অধীন তিনটি চা বাগানই চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে। কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ায় প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিকের বকেয়া মজুরি, উৎসব বোনাস ও রেশন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে বাগানের বিভিন্ন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রতিদিন কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। তারা ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যায়নি। আমরা মহাবিপদে পড়েছি। শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও বোনাস পরিশোধ করতে চাই, কিন্তু অর্থের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।”

কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজারের দাবি, বাগানের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রতিদিন চা উৎপাদনে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত ঋণ পাওয়া গেলে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধসহ বাগানের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।

এদিকে শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ এবং চা বাগানগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে কৃষি ব্যাংকের ঋণসংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসনের দাবি উঠেছে। দীর্ঘদিনের মজুরি ও উৎসব বোনাসের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

চেকপোস্ট

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


কৃষি ব্যাংকের ঋণ না পাওয়ায় দেউন্দি টি কোম্পানির তিন চা বাগান বন্ধ, বিপাকে ৫ হাজার শ্রমিক

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় দেউন্দি টি কোম্পানির তিনটি চা বাগানে বকেয়া মজুরি, রেশন ও দুর্গাপূজার উৎসব বোনাসের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন শ্রমিকরা। কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে বাগান কর্তৃপক্ষ। এতে প্রায় পাঁচ হাজার চা শ্রমিকের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে বাগানের চা উত্তোলন, কারখানাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম।

সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, মৌলভীবাজার জেলার মিরতিংগা চা বাগান এবং হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার লালচাঁদ ও দেউন্দি চা বাগানের শ্রমিকরা বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। মিরতিংগা চা বাগানের কার্যালয়ের সামনে এবং দেউন্দি টি কোম্পানির কার্যালয়ের ফটকে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক জড়ো হন।

শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে তিনটি বাগানের কারখানা, চা পাতা উত্তোলনসহ স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বাগানের ব্যবস্থাপক বাংলো, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবন ও বিভিন্ন স্থাপনাও কার্যত অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। এতে বাগানের সম্পদ চুরির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শ্রমিকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সাপ্তাহিক মজুরি, রেশন ও উৎসব বোনাস বকেয়া রয়েছে। বকেয়া পাওনার পরিমাণ কোটি টাকার বেশি বলে তাঁদের দাবি। আসন্ন দুর্গাপূজা সামনে রেখে উৎসব বোনাস না পাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করা পর্যন্ত কাজে ফিরবেন না বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, বাগান কর্তৃপক্ষ তাঁদের অর্ধেক বোনাস দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু এই সামান্য অর্থ দিয়ে সংসারের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব নয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এমনিতেই তাঁরা আর্থিক সংকটে রয়েছেন। মজুরি না পাওয়ায় সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

শ্রমিক নেতা প্রদীপ বোনার্জী বলেন, “আমরা দিনমজুর। দিন আনি, দিন খাই। মজুরি না পেলে আমাদের সংসার কীভাবে চলবে? বাজারে গেলে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম বেশি। বাচ্চাদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, ২০২২ সাল থেকে সাপ্তাহিক মজুরি ও দুর্গাপূজার বোনাসের সময় কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া নিয়ে জটিলতা দেখা দিচ্ছে। সাধারণত কৃষি ব্যাংকের ঋণের অর্থ দিয়ে বাগানের কার্যক্রম পরিচালনা এবং শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হয়। কিন্তু এবারও ঋণ না পাওয়ায় শ্রমিকদের মজুরি ও বোনাস পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

প্রদীপ বোনার্জী বলেন, চা শিল্পের বিকাশ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হলেও দেউন্দি টি কোম্পানি এখনো কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ পায়নি বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। এ অবস্থায় শ্রমিকদের পাওনা দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা করা জরুরি।

এদিকে দেউন্দি টি কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজার দেবাশীষ দেব রায় বলেন, বর্তমানে কোম্পানির অধীন তিনটি চা বাগানই চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে। কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ায় প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিকের বকেয়া মজুরি, উৎসব বোনাস ও রেশন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে বাগানের বিভিন্ন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রতিদিন কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। তারা ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যায়নি। আমরা মহাবিপদে পড়েছি। শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও বোনাস পরিশোধ করতে চাই, কিন্তু অর্থের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।”

কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজারের দাবি, বাগানের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রতিদিন চা উৎপাদনে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত ঋণ পাওয়া গেলে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধসহ বাগানের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।

এদিকে শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ এবং চা বাগানগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে কৃষি ব্যাংকের ঋণসংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসনের দাবি উঠেছে। দীর্ঘদিনের মজুরি ও উৎসব বোনাসের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত