হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার সময় একটি গাড়ি থেকে ৫ লাখ টাকা নগদ এবং প্রায় ২০ লাখ টাকার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি লুটের অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভাঙচুর করা গাড়িটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার রাতে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের কাছে হাতে লেখা এজাহার জমা দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। এজাহারের বাদী হয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের।
এজাহারে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন এবং হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান রিয়াদসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের সহায়তায় তারা মৌলভীবাজারে চলে যান।
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী দাবি করেন, হামলাকারীরা গাড়ি থেকে ক্যামেরা, ল্যাপটপসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং ৫ লাখ টাকা নগদ নিয়ে যায়। এছাড়া প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি বলেন, হামলার ঘটনাটি সারা দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে।
তিনি আরও জানান, হামলার সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত হওয়া ১১ জনের নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছের অনুসারী এবং আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথেও হামলায় অংশ নেয়।
মঙ্গলবার মৌলভীবাজারে চলে গেলেও সেখানকার কর্মসূচি স্থগিত করে বুধবার হামলার প্রতিবাদে আবার হবিগঞ্জে কর্মসূচি দেয় এনসিপি। একই দিনে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।
এ পরিস্থিতিতে বুধবার বিকেলে হবিগঞ্জে প্রবেশের সময় এনসিপির গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ। পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের নেতৃত্বে কয়েকশ পুলিশ সদস্য সেখানে অবস্থান নেন। রাত ৮টা পর্যন্ত ব্যারিকেড অপসারণকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির পর সমঝোতা হয়।
এ সময় দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উপমুখ্য সংগঠক মাহমুদা আলম মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা ঘটনাস্থলের পাশের কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে এজাহার জমা দিয়ে মৌলভীবাজারে ফিরে যান।
মৌলভীবাজারে ফেরার পথে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, “আমরা দেখব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিচার করার সদিচ্ছা আছে কি না। এটি একটি টেস্ট কেস। আশা করি পরীক্ষায় পাস করবেন তিনি।”
হামলার জন্য ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করে সারজিস আলম দাবি করেন, হামলায় একজন কর্মীর একটি চোখ নষ্ট হয়েছে, জেলা এনসিপির নেতা মুবিনের হাত ভেঙেছে এবং তিনি নিজেও আঙুলে আঘাত পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার সময় একটি গাড়ি থেকে ৫ লাখ টাকা নগদ এবং প্রায় ২০ লাখ টাকার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি লুটের অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভাঙচুর করা গাড়িটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার রাতে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের কাছে হাতে লেখা এজাহার জমা দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। এজাহারের বাদী হয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের।
এজাহারে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন এবং হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান রিয়াদসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের সহায়তায় তারা মৌলভীবাজারে চলে যান।
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী দাবি করেন, হামলাকারীরা গাড়ি থেকে ক্যামেরা, ল্যাপটপসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং ৫ লাখ টাকা নগদ নিয়ে যায়। এছাড়া প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি বলেন, হামলার ঘটনাটি সারা দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে।
তিনি আরও জানান, হামলার সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত হওয়া ১১ জনের নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছের অনুসারী এবং আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথেও হামলায় অংশ নেয়।
মঙ্গলবার মৌলভীবাজারে চলে গেলেও সেখানকার কর্মসূচি স্থগিত করে বুধবার হামলার প্রতিবাদে আবার হবিগঞ্জে কর্মসূচি দেয় এনসিপি। একই দিনে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।
এ পরিস্থিতিতে বুধবার বিকেলে হবিগঞ্জে প্রবেশের সময় এনসিপির গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ। পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের নেতৃত্বে কয়েকশ পুলিশ সদস্য সেখানে অবস্থান নেন। রাত ৮টা পর্যন্ত ব্যারিকেড অপসারণকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির পর সমঝোতা হয়।
এ সময় দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উপমুখ্য সংগঠক মাহমুদা আলম মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা ঘটনাস্থলের পাশের কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে এজাহার জমা দিয়ে মৌলভীবাজারে ফিরে যান।
মৌলভীবাজারে ফেরার পথে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, “আমরা দেখব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিচার করার সদিচ্ছা আছে কি না। এটি একটি টেস্ট কেস। আশা করি পরীক্ষায় পাস করবেন তিনি।”
হামলার জন্য ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করে সারজিস আলম দাবি করেন, হামলায় একজন কর্মীর একটি চোখ নষ্ট হয়েছে, জেলা এনসিপির নেতা মুবিনের হাত ভেঙেছে এবং তিনি নিজেও আঙুলে আঘাত পেয়েছেন।
