বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

আদালতের নির্দেশে মাধবপুরের কালীনগরে বিরোধপূর্ণ জমির ক্যাচম্যাপ তৈরি

আদালতের নির্দেশে মাধবপুরের কালীনগরে বিরোধপূর্ণ জমির ক্যাচম্যাপ তৈরি
ছবি: চেকপোস্ট

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুর ইউনিয়নের কালীনগরে বিরোধপূর্ণ জমির ক্যাচম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে জমির সীমানা ও অবস্থান নির্ধারণের এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন সিভিল কোর্টের ভূমি কমিশনার মো. শাহজাহান। এ সময় মামলার বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, বিরোধপূর্ণ ওই জমি নিয়ে হবিগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে ২০১২ সালের ৬৯ নম্বর স্বত্ব মোকদ্দমা বিচারাধীন রয়েছে। মামলায় মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে মো. শফিক মিয়া ও তাঁর পক্ষের অন্যরা বাদী। অপরদিকে মৃত আপতর হুসেনের ছেলে আপিল উদ্দিন ও তাঁর পক্ষের অন্যরা বিবাদী হিসেবে রয়েছেন।

মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নালিশি জমির মূল মালিক ছিলেন সায়েরা ভানু বিবি। এসএ জরিপেও জমিটি তাঁর নামে রেকর্ডভুক্ত ছিল। নথি অনুযায়ী, জমির শ্রেণির মধ্যে বাড়ি, সাইল, চারা ও ডোবা উল্লেখ রয়েছে।

মামলার বিবরণে বলা হয়, সায়েরা ভানু বিবির মৃত্যুর পর তাঁর তিন ছেলে আব্দুল হামিদ, আব্দুল খালেক ও আব্দুল ওয়াজেদ এবং এক মেয়ে খুশ বানু উত্তরাধিকারসূত্রে জমির মালিকানা লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁদের উত্তরাধিকারীদের মধ্যে জমির মালিকানা ও হিস্যা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

বাদীপক্ষের দাবি, তাঁরা এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ারিশরা মৌরশি সূত্রে নালিশি জমির স্বত্ব ও দখল ভোগ করে আসছেন। মামলার নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, জমির কয়েকজন ওয়ারিশ নগদ অর্থ গ্রহণের মাধ্যমে তাঁদের স্বত্ব ও দখলের দাবি বাদীপক্ষের অনুকূলে পরিত্যাগ করেন। এ ছাড়া ২০০৯ সালে ২১০৯ নম্বর নামজারি মোকদ্দমার মাধ্যমে জমিটি নামজারি করা হয়েছে বলেও বাদীপক্ষের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

নথিতে আরও বলা হয়েছে, ১ নম্বর বিবাদী আপিল উদ্দিন ২০০১ সালের শেষের দিক থেকে ওই জমি বর্গা চাষ করে আসছিলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মালিকানা, স্বত্ব ও দখলসংক্রান্ত বিরোধ দেখা দেয়।

মামলায় বাদীপক্ষ নালিশি জমিতে তাঁদের সম্পূর্ণ স্বত্ব প্রতিষ্ঠা, বিবাদীদের দখল থেকে জমি উদ্ধার এবং খাস দখল ফিরে পাওয়ার প্রতিকার চেয়েছেন। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় জমির প্রকৃত মালিকানা ও স্বত্ব নিয়ে এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

এ অবস্থায় আদালতের নির্দেশে সরেজমিনে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে জমির ক্যাচম্যাপ তৈরির কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। সংশ্লিষ্ট জমির সীমানা, অবস্থান ও পরিমাণ নির্ধারণে এ ক্যাচম্যাপ মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে জমির প্রকৃত মালিকানা, স্বত্ব ও দখলসংক্রান্ত বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করবেন আদালত।

চেকপোস্ট

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


আদালতের নির্দেশে মাধবপুরের কালীনগরে বিরোধপূর্ণ জমির ক্যাচম্যাপ তৈরি

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুর ইউনিয়নের কালীনগরে বিরোধপূর্ণ জমির ক্যাচম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে জমির সীমানা ও অবস্থান নির্ধারণের এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন সিভিল কোর্টের ভূমি কমিশনার মো. শাহজাহান। এ সময় মামলার বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, বিরোধপূর্ণ ওই জমি নিয়ে হবিগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে ২০১২ সালের ৬৯ নম্বর স্বত্ব মোকদ্দমা বিচারাধীন রয়েছে। মামলায় মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে মো. শফিক মিয়া ও তাঁর পক্ষের অন্যরা বাদী। অপরদিকে মৃত আপতর হুসেনের ছেলে আপিল উদ্দিন ও তাঁর পক্ষের অন্যরা বিবাদী হিসেবে রয়েছেন।

মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নালিশি জমির মূল মালিক ছিলেন সায়েরা ভানু বিবি। এসএ জরিপেও জমিটি তাঁর নামে রেকর্ডভুক্ত ছিল। নথি অনুযায়ী, জমির শ্রেণির মধ্যে বাড়ি, সাইল, চারা ও ডোবা উল্লেখ রয়েছে।

মামলার বিবরণে বলা হয়, সায়েরা ভানু বিবির মৃত্যুর পর তাঁর তিন ছেলে আব্দুল হামিদ, আব্দুল খালেক ও আব্দুল ওয়াজেদ এবং এক মেয়ে খুশ বানু উত্তরাধিকারসূত্রে জমির মালিকানা লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁদের উত্তরাধিকারীদের মধ্যে জমির মালিকানা ও হিস্যা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

বাদীপক্ষের দাবি, তাঁরা এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ারিশরা মৌরশি সূত্রে নালিশি জমির স্বত্ব ও দখল ভোগ করে আসছেন। মামলার নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, জমির কয়েকজন ওয়ারিশ নগদ অর্থ গ্রহণের মাধ্যমে তাঁদের স্বত্ব ও দখলের দাবি বাদীপক্ষের অনুকূলে পরিত্যাগ করেন। এ ছাড়া ২০০৯ সালে ২১০৯ নম্বর নামজারি মোকদ্দমার মাধ্যমে জমিটি নামজারি করা হয়েছে বলেও বাদীপক্ষের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

নথিতে আরও বলা হয়েছে, ১ নম্বর বিবাদী আপিল উদ্দিন ২০০১ সালের শেষের দিক থেকে ওই জমি বর্গা চাষ করে আসছিলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মালিকানা, স্বত্ব ও দখলসংক্রান্ত বিরোধ দেখা দেয়।

মামলায় বাদীপক্ষ নালিশি জমিতে তাঁদের সম্পূর্ণ স্বত্ব প্রতিষ্ঠা, বিবাদীদের দখল থেকে জমি উদ্ধার এবং খাস দখল ফিরে পাওয়ার প্রতিকার চেয়েছেন। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় জমির প্রকৃত মালিকানা ও স্বত্ব নিয়ে এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

এ অবস্থায় আদালতের নির্দেশে সরেজমিনে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে জমির ক্যাচম্যাপ তৈরির কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। সংশ্লিষ্ট জমির সীমানা, অবস্থান ও পরিমাণ নির্ধারণে এ ক্যাচম্যাপ মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে জমির প্রকৃত মালিকানা, স্বত্ব ও দখলসংক্রান্ত বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করবেন আদালত।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত