চেক পোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

২০ বছর ধরে সেতুর নিচে আলাউরের জীবনযুদ্ধ

প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
২০ বছর ধরে সেতুর নিচে আলাউরের জীবনযুদ্ধ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার রুস্তমপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাখা বরাক নদীর ওপর নির্মিত একটি সেতুর নিচে পরিবারসহ প্রায় ২০ বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন আলাউর মিয়া। ভূমিহীন এই পরিবারটির বসবাস পলিথিন, বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি ছোট্ট একটি খুপরি ঘরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সাল থেকে আশ্রয়ের খোঁজে সেতুর নিচে বসবাস শুরু করেন আলাউর মিয়া। বর্তমানে তাঁর পরিবারের সদস্য সংখ্যা ১৫ জন। ঝড়-বৃষ্টি, পানি বৃদ্ধি, যানবাহনের শব্দ—সব মিলিয়ে দিন কাটছে দুর্বিষহ কষ্টে।

আলাউর মিয়া জানান, তাঁর নিজের কোনো জমি নেই। বাড়ি বা ঘর পাওয়ার জন্য একাধিকবার স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের কাছে আবেদন করলেও এখনও সরকারি কোনো আশ্রয়ের ব্যবস্থা হয়নি।

তাঁর ছেলে কামাল মিয়া বলেন, "রাতের বেলায় ঘুমাতে কষ্ট হয়। ছোট ছোট শিশুদের ঘুম ভেঙে যায় গাড়ির শব্দে। বৃষ্টি হলে ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে পড়ে। নদীর পানি বাড়লে আরও ভয়াবহ অবস্থা হয়।"

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিনিয়ত ছুটে চলছে ভারী যানবাহন—বাস, ট্রাক ও লরি। আর নিচে অর্ধউন্মুক্ত একটি জায়গায় কোনোরকমে মাথা গুঁজে আছেন আলাউরের পরিবার।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বশির আহমেদ জানান, আলাউর একজন প্রকৃত ভূমিহীন। তাঁকে পুনর্বাসনের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
দেবপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহরিয়াজ নাদির সুমন বলেন, "আলাউরের বিষয়টি আমার নজরে রয়েছে। তাঁকে সরকারি ঘর বরাদ্দের জন্য আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।"

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, “পরিবারটিকে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।”

 

চেক পোস্ট

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬


২০ বছর ধরে সেতুর নিচে আলাউরের জীবনযুদ্ধ

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৫

featured Image

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার রুস্তমপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাখা বরাক নদীর ওপর নির্মিত একটি সেতুর নিচে পরিবারসহ প্রায় ২০ বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন আলাউর মিয়া। ভূমিহীন এই পরিবারটির বসবাস পলিথিন, বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি ছোট্ট একটি খুপরি ঘরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সাল থেকে আশ্রয়ের খোঁজে সেতুর নিচে বসবাস শুরু করেন আলাউর মিয়া। বর্তমানে তাঁর পরিবারের সদস্য সংখ্যা ১৫ জন। ঝড়-বৃষ্টি, পানি বৃদ্ধি, যানবাহনের শব্দ—সব মিলিয়ে দিন কাটছে দুর্বিষহ কষ্টে।

আলাউর মিয়া জানান, তাঁর নিজের কোনো জমি নেই। বাড়ি বা ঘর পাওয়ার জন্য একাধিকবার স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের কাছে আবেদন করলেও এখনও সরকারি কোনো আশ্রয়ের ব্যবস্থা হয়নি।

তাঁর ছেলে কামাল মিয়া বলেন, "রাতের বেলায় ঘুমাতে কষ্ট হয়। ছোট ছোট শিশুদের ঘুম ভেঙে যায় গাড়ির শব্দে। বৃষ্টি হলে ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে পড়ে। নদীর পানি বাড়লে আরও ভয়াবহ অবস্থা হয়।"

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিনিয়ত ছুটে চলছে ভারী যানবাহন—বাস, ট্রাক ও লরি। আর নিচে অর্ধউন্মুক্ত একটি জায়গায় কোনোরকমে মাথা গুঁজে আছেন আলাউরের পরিবার।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বশির আহমেদ জানান, আলাউর একজন প্রকৃত ভূমিহীন। তাঁকে পুনর্বাসনের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
দেবপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহরিয়াজ নাদির সুমন বলেন, "আলাউরের বিষয়টি আমার নজরে রয়েছে। তাঁকে সরকারি ঘর বরাদ্দের জন্য আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।"

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, “পরিবারটিকে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।”

 

চেক পোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত