শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

ইসলাম

১২ রবিউল আওয়াল নয়, পহেলা রবিউল আওয়ালেই নবীজীর ইন্তেকাল

১২ রবিউল আওয়াল নয়, পহেলা রবিউল আওয়ালেই নবীজীর ইন্তেকাল

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের তারিখ সম্পর্কেও মতভেদ রয়েছে। কারও মতে, রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ সোমবার; কারও মতে, রবিউল আউয়াল মাসের তারিখ সোমবার; আবার কারও মতে, রবিউল আউয়াল মাসের তারিখ সোমবার নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করেছেন

প্রত্যেকেই নিজের দাবির পক্ষে প্রমাণ পেশ করেছেন। কিন্তু ১২ তারিখের পক্ষে যেসব দলিল পেশ করা হয়েছে, তা আমার মতে বিশুদ্ধ নয় কিংবা যুক্তিযুক্ত নয়। তাই আমি ১২ তারিখ এবং তারিখের মত গ্রহণ করতে পারছি না। আমার তাহকিক অনুযায়ী, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রবিউল আউয়াল মাসের তারিখ সোমবার ইন্তেকাল করেছেন। তারিখ সম্পর্কিত দলিল নিম্নে পেশ করা হলো

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের ব্যাপারে যেসব বিষয়ে ইমামগণ একমত, তা নিম্নরূপ-

. নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১১ হিজরিতে ওফাত (মৃত্যু) বরণ করেন

. তিনি রবিউল আউয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন

. ইন্তেকালের দিন ছিল সোমবার

. তারিখ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে মৃত্যুর তারিখ সম্পর্কে হাদিসের মৌলিক গ্রন্থসমূহে স্পষ্ট কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না

সীরাতজ্ঞ ইতিহাসবিদগণ সম্পর্কে তিনটি মত উল্লেখ করে থাকেন- এক, দুই বারো রবিউল আউয়াল। এই তিনটি মতকে সবরকম যাচাই-বাছাইয়ের পর রবিউল আউয়ালের মতটিই যুক্তিযুক্ত মনে হয়

কেননা সহিহ বুখারির হাদিসের মাধ্যমে একথা সাব্যস্ত যে, ‘আল-ইয়াওমা আকমালতু লাকুম...’ শীর্ষক আয়াতটি দশম হিজরির জিলহজ মাসের তারিখ শুক্রবার আরাফার ময়দানে নাজিল হয়েছিল। (বুখারি, কিতাবুত তাফসির)

এই আয়াত নাজিল হওয়ার তারিখের হিসাব ঠিক রেখে চন্দ্রমাসের সাধারণ নিয়ম অনুসরণ করলে রবিউল আউয়াল মাসের তারিখ সোমবার সাব্যস্ত হয়। অর্থাৎ পহেলা রবিউল আউয়াল নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের তারিখ

তাফসিরে তাবারি তাফসিরে ইবনে কাছিরে ইমাম ইবনে জুরাইজ তাবারি থেকে বর্ণিত রয়েছে যে, ‘আল-ইয়াওমা আকমালতু লাকুম...’ অর্থাৎআজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দেওয়া হলোশীর্ষক আয়াতটি নাজিল হওয়ার দিন থেকে ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত মোট একাশি দিন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবিত ছিলেন। (তাফসিরে তাবারি, /৯৬)

ইমাম ইবনে জুরাইজের এই উক্তি অনুযায়ীও উল্লেখিত আয়াত নাজিল হওয়ার দিন থেকে একাশিতম দিন রবিউল আউয়াল মাসের তারিখ সোমবার হয়, যদি জিলহজ, মুহাররম সফর এই তিন মাসের যেকোনো দুইটিকে ২৯ দিন ধরা হয়। অতএব, রবিউল আউয়াল মাসের তারিখ সোমবার নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকাল হয়েছে। এটিই বিশুদ্ধ যুক্তিযুক্ত মত। আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক জ্ঞানী

বিস্তারিত জানতে দেখুন: (সীরাতুন নবী, /৪৭৭)

ছাড়াআখেরি চাহার সোম্বাহিসেবে আমরা সফর মাসের শেষ বুধবারকে জানি। হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দীর্ঘ অসুস্থতার পর সাময়িকভাবে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। ওই দিন সুস্থ হওয়ার পর তিনি গোসল করেছিলেন এবং নামাজ পড়েছিলেন। সাহাবায়ে কেরাম সেদিন নবীজীর সুস্থতা দেখে দান-খয়রাতও করেছিলেন। সফর মাসের শেষ বুধবারই ছিল নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের শেষ বুধবার। তিনি এরপর আর কোনো বুধবার পাননি

হাদিস শরিফে এসেছে, আখেরি চাহার সোম্বার চার দিন পর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করেছেন। সফর মাসের শেষ বুধবার আখেরি চাহার সোম্বা। বুধবার বাদ দিয়ে চার দিন পর সোমবার পহেলা রবিউল আউয়াল হয়। সে হিসেবে ওই মাসের ১২ তারিখের মধ্যে সোমবার পাওয়া যায় দুটি এবং রবিউল আউয়াল। তাহলে ১২ রবিউল আউয়াল সোমবার হয় কীভাবে?

যদি সফর মাস ২৯ কিংবা ৩০ দিনের হিসাবেও ধরা হয়, তবুও ১২ রবিউল আউয়াল সোমবার হয় না। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের দিনটি যে সোমবার ছিল, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তারিখ নিয়ে রয়েছে এখতেলাফ। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকাল ১২ রবিউল আউয়াল নয়, বরং পহেলা রবিউল আউয়াল সোমবার। কিছু কিছু রেওয়ায়েতে এসেছে, রবিউল আউয়াল সোমবার; কোথাও এসেছে রবিউল আউয়াল সোমবার

সর্বোপরি, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকাল ১২ রবিউল আউয়াল হয়নি। নবীজীর আগমনের (জন্মের) দিনকে বানচাল করার উদ্দেশ্যে এক শ্রেণির লোক ওই তারিখকে ইন্তেকালের দিন বলে প্রচার করে আসছে

আল্লাহ তাআলা এদের খপ্পর থেকে আমাদের ঈমান-আমল হেফাজত করুন। সবাইকে হেদায়েত, জানার এবং বোঝার তাওফিক দান করুন

 

শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
সাংবাদিক কলামিস্ট

 

চেকপোস্ট

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬


১২ রবিউল আওয়াল নয়, পহেলা রবিউল আওয়ালেই নবীজীর ইন্তেকাল

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের তারিখ সম্পর্কেও মতভেদ রয়েছে। কারও মতে, রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ সোমবার; কারও মতে, রবিউল আউয়াল মাসের তারিখ সোমবার; আবার কারও মতে, রবিউল আউয়াল মাসের তারিখ সোমবার নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করেছেন

প্রত্যেকেই নিজের দাবির পক্ষে প্রমাণ পেশ করেছেন। কিন্তু ১২ তারিখের পক্ষে যেসব দলিল পেশ করা হয়েছে, তা আমার মতে বিশুদ্ধ নয় কিংবা যুক্তিযুক্ত নয়। তাই আমি ১২ তারিখ এবং তারিখের মত গ্রহণ করতে পারছি না। আমার তাহকিক অনুযায়ী, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রবিউল আউয়াল মাসের তারিখ সোমবার ইন্তেকাল করেছেন। তারিখ সম্পর্কিত দলিল নিম্নে পেশ করা হলো

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের ব্যাপারে যেসব বিষয়ে ইমামগণ একমত, তা নিম্নরূপ-

. নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১১ হিজরিতে ওফাত (মৃত্যু) বরণ করেন

. তিনি রবিউল আউয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন

. ইন্তেকালের দিন ছিল সোমবার

. তারিখ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে মৃত্যুর তারিখ সম্পর্কে হাদিসের মৌলিক গ্রন্থসমূহে স্পষ্ট কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না

সীরাতজ্ঞ ইতিহাসবিদগণ সম্পর্কে তিনটি মত উল্লেখ করে থাকেন- এক, দুই বারো রবিউল আউয়াল। এই তিনটি মতকে সবরকম যাচাই-বাছাইয়ের পর রবিউল আউয়ালের মতটিই যুক্তিযুক্ত মনে হয়

কেননা সহিহ বুখারির হাদিসের মাধ্যমে একথা সাব্যস্ত যে, ‘আল-ইয়াওমা আকমালতু লাকুম...’ শীর্ষক আয়াতটি দশম হিজরির জিলহজ মাসের তারিখ শুক্রবার আরাফার ময়দানে নাজিল হয়েছিল। (বুখারি, কিতাবুত তাফসির)

এই আয়াত নাজিল হওয়ার তারিখের হিসাব ঠিক রেখে চন্দ্রমাসের সাধারণ নিয়ম অনুসরণ করলে রবিউল আউয়াল মাসের তারিখ সোমবার সাব্যস্ত হয়। অর্থাৎ পহেলা রবিউল আউয়াল নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের তারিখ

তাফসিরে তাবারি তাফসিরে ইবনে কাছিরে ইমাম ইবনে জুরাইজ তাবারি থেকে বর্ণিত রয়েছে যে, ‘আল-ইয়াওমা আকমালতু লাকুম...’ অর্থাৎআজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দেওয়া হলোশীর্ষক আয়াতটি নাজিল হওয়ার দিন থেকে ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত মোট একাশি দিন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবিত ছিলেন। (তাফসিরে তাবারি, /৯৬)

ইমাম ইবনে জুরাইজের এই উক্তি অনুযায়ীও উল্লেখিত আয়াত নাজিল হওয়ার দিন থেকে একাশিতম দিন রবিউল আউয়াল মাসের তারিখ সোমবার হয়, যদি জিলহজ, মুহাররম সফর এই তিন মাসের যেকোনো দুইটিকে ২৯ দিন ধরা হয়। অতএব, রবিউল আউয়াল মাসের তারিখ সোমবার নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকাল হয়েছে। এটিই বিশুদ্ধ যুক্তিযুক্ত মত। আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক জ্ঞানী

বিস্তারিত জানতে দেখুন: (সীরাতুন নবী, /৪৭৭)

ছাড়াআখেরি চাহার সোম্বাহিসেবে আমরা সফর মাসের শেষ বুধবারকে জানি। হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দীর্ঘ অসুস্থতার পর সাময়িকভাবে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। ওই দিন সুস্থ হওয়ার পর তিনি গোসল করেছিলেন এবং নামাজ পড়েছিলেন। সাহাবায়ে কেরাম সেদিন নবীজীর সুস্থতা দেখে দান-খয়রাতও করেছিলেন। সফর মাসের শেষ বুধবারই ছিল নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের শেষ বুধবার। তিনি এরপর আর কোনো বুধবার পাননি

হাদিস শরিফে এসেছে, আখেরি চাহার সোম্বার চার দিন পর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করেছেন। সফর মাসের শেষ বুধবার আখেরি চাহার সোম্বা। বুধবার বাদ দিয়ে চার দিন পর সোমবার পহেলা রবিউল আউয়াল হয়। সে হিসেবে ওই মাসের ১২ তারিখের মধ্যে সোমবার পাওয়া যায় দুটি এবং রবিউল আউয়াল। তাহলে ১২ রবিউল আউয়াল সোমবার হয় কীভাবে?

যদি সফর মাস ২৯ কিংবা ৩০ দিনের হিসাবেও ধরা হয়, তবুও ১২ রবিউল আউয়াল সোমবার হয় না। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের দিনটি যে সোমবার ছিল, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তারিখ নিয়ে রয়েছে এখতেলাফ। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকাল ১২ রবিউল আউয়াল নয়, বরং পহেলা রবিউল আউয়াল সোমবার। কিছু কিছু রেওয়ায়েতে এসেছে, রবিউল আউয়াল সোমবার; কোথাও এসেছে রবিউল আউয়াল সোমবার

সর্বোপরি, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকাল ১২ রবিউল আউয়াল হয়নি। নবীজীর আগমনের (জন্মের) দিনকে বানচাল করার উদ্দেশ্যে এক শ্রেণির লোক ওই তারিখকে ইন্তেকালের দিন বলে প্রচার করে আসছে

আল্লাহ তাআলা এদের খপ্পর থেকে আমাদের ঈমান-আমল হেফাজত করুন। সবাইকে হেদায়েত, জানার এবং বোঝার তাওফিক দান করুন

 

শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
সাংবাদিক কলামিস্ট

 


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত