কাউকে সামনাসামনি অপমান, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য বা হেয় করা ইসলামে গুরুতর গুনাহ। সমাজে অনেকেই ‘উচিত কথা মুখের ওপর বলে দিই’ এমন কথা বলে সরাসরি অন্যকে আঘাত করেন। কিন্তু কারও সম্মান নষ্ট করা, ব্যঙ্গ করা কিংবা কথার মাধ্যমে কষ্ট দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে নিন্দনীয়।
পবিত্র কোরআনে যারা মানুষের নিন্দা ও অপমান করে, তাদের ব্যাপারে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সূরা হুমাজাহর প্রথম আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ধ্বংস প্রত্যেক পরনিন্দাকারী ও দোষারোপকারীর জন্য।’
ইসলামি ব্যাখ্যায় ‘লুমাজাহ’র মধ্যে রয়েছে কাউকে সরাসরি হেয় করা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, ব্যঙ্গ করা এবং অপমানজনক কথা বলা। শুধু মুখের কথা নয়, আঙুল, চোখ, মাথা বা ভ্রুর ইশারায় কাউকে হেয় করাও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
কারও বংশ, পদবি বা অবস্থান নিয়ে ব্যঙ্গ করা, মুখের ওপর বিরূপ মন্তব্য করা কিংবা এমন কথা বলা, যাতে অন্য ব্যক্তি অপমানিত বা কষ্ট পান, এসব আচরণ থেকেও মুসলিমদের বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
সূরা হুমাজাহর ৫ থেকে ৯ নম্বর আয়াতে হুতামার ভয়াবহ শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, তাকে নিক্ষেপ করা হবে ‘হুতামা’য়। এটি আল্লাহর প্রজ্বলিত আগুন, যা হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে এবং তাদের দীর্ঘায়িত স্তম্ভে আবদ্ধ করে রাখা হবে।
কোরআনের এই সতর্কবার্তা থেকে বোঝা যায়, মানুষের সম্মানহানি ও অপমানকে ইসলাম কোনো হালকা বিষয় হিসেবে দেখে না।
অর্থাৎ একজন প্রকৃত মুসলিম তার কথা ও কাজের মাধ্যমে অন্যের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকেন। জিহ্বার মাধ্যমে ক্ষতির মধ্যে গিবত, অপবাদ, অশ্লীল কথা, কটু কথা ও অপমানজনক মন্তব্য রয়েছে। অন্যদিকে অন্যায়ভাবে আঘাত করা, কারও সম্পদ নষ্ট করা বা অন্য কোনো ক্ষতি করাও ইসলামে নিষিদ্ধ।
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে নিকৃষ্টতম তারা, যারা পরোক্ষ নিন্দা করে, বন্ধুদের মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করে এবং নিরপরাধ লোকদের দোষ খুঁজে ফিরে।’ (মুসনাদে আহমাদ, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২২৭)
তাই ‘সত্য কথা বলছি’ এই অজুহাতে কাউকে অপমান বা হেয় করা থেকে বিরত থাকা উচিত। সত্য কথা বলারও শিষ্টাচার রয়েছে। একজন প্রকৃত মুসলিম নিজের জিহ্বা ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করেন এবং অন্যের সম্মান রক্ষা করেন।

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কাউকে সামনাসামনি অপমান, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য বা হেয় করা ইসলামে গুরুতর গুনাহ। সমাজে অনেকেই ‘উচিত কথা মুখের ওপর বলে দিই’ এমন কথা বলে সরাসরি অন্যকে আঘাত করেন। কিন্তু কারও সম্মান নষ্ট করা, ব্যঙ্গ করা কিংবা কথার মাধ্যমে কষ্ট দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে নিন্দনীয়।
পবিত্র কোরআনে যারা মানুষের নিন্দা ও অপমান করে, তাদের ব্যাপারে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সূরা হুমাজাহর প্রথম আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ধ্বংস প্রত্যেক পরনিন্দাকারী ও দোষারোপকারীর জন্য।’
ইসলামি ব্যাখ্যায় ‘লুমাজাহ’র মধ্যে রয়েছে কাউকে সরাসরি হেয় করা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, ব্যঙ্গ করা এবং অপমানজনক কথা বলা। শুধু মুখের কথা নয়, আঙুল, চোখ, মাথা বা ভ্রুর ইশারায় কাউকে হেয় করাও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
কারও বংশ, পদবি বা অবস্থান নিয়ে ব্যঙ্গ করা, মুখের ওপর বিরূপ মন্তব্য করা কিংবা এমন কথা বলা, যাতে অন্য ব্যক্তি অপমানিত বা কষ্ট পান, এসব আচরণ থেকেও মুসলিমদের বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
সূরা হুমাজাহর ৫ থেকে ৯ নম্বর আয়াতে হুতামার ভয়াবহ শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, তাকে নিক্ষেপ করা হবে ‘হুতামা’য়। এটি আল্লাহর প্রজ্বলিত আগুন, যা হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে এবং তাদের দীর্ঘায়িত স্তম্ভে আবদ্ধ করে রাখা হবে।
কোরআনের এই সতর্কবার্তা থেকে বোঝা যায়, মানুষের সম্মানহানি ও অপমানকে ইসলাম কোনো হালকা বিষয় হিসেবে দেখে না।
অর্থাৎ একজন প্রকৃত মুসলিম তার কথা ও কাজের মাধ্যমে অন্যের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকেন। জিহ্বার মাধ্যমে ক্ষতির মধ্যে গিবত, অপবাদ, অশ্লীল কথা, কটু কথা ও অপমানজনক মন্তব্য রয়েছে। অন্যদিকে অন্যায়ভাবে আঘাত করা, কারও সম্পদ নষ্ট করা বা অন্য কোনো ক্ষতি করাও ইসলামে নিষিদ্ধ।
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে নিকৃষ্টতম তারা, যারা পরোক্ষ নিন্দা করে, বন্ধুদের মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করে এবং নিরপরাধ লোকদের দোষ খুঁজে ফিরে।’ (মুসনাদে আহমাদ, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২২৭)
তাই ‘সত্য কথা বলছি’ এই অজুহাতে কাউকে অপমান বা হেয় করা থেকে বিরত থাকা উচিত। সত্য কথা বলারও শিষ্টাচার রয়েছে। একজন প্রকৃত মুসলিম নিজের জিহ্বা ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করেন এবং অন্যের সম্মান রক্ষা করেন।
