হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরবাসীর নিরাপদ পানির সংকট নিরসনে প্রায় ১০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি শোধনাগার প্রকল্পে ঝুলছে ১৪ মাসের তালা। উদ্বোধনের মাত্র এক মাসের মধ্যেই পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে প্রকল্পটি কার্যত অচল পড়ে আছে।
দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় প্রকল্পের মূল্যবান যন্ত্রপাতিতে জমেছে ধুলা-ময়লা, কোথাও ধরেছে মরিচা। অথচ শুষ্ক মৌসুমে পৌর এলাকায় পানির সংকট বাড়লেও কোটি টাকার এ জনসেবা প্রকল্প চালুর কার্যকর উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। এতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং প্রকল্পের পরিচালনা-রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
শায়েস্তাগঞ্জ পৌর শহরের সুদিয়াখলা এলাকায় পুরোনো গরুর বাজারের পাশে নির্মিত প্রকল্পটি সরেজমিনে দেখা যায়, প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন স্থানে ঝুলছে তালা। চারপাশে বেড়ে উঠেছে ঘাস-আগাছা। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ভবনের ভেতরে পানি শোধন ও সরবরাহের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
প্রকল্পের উদ্বোধনী ফলক অনুযায়ী, ‘বাংলাদেশের ২৩টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন (জিডিবি-আইআরভি) প্রকল্পের আওতায়’ শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় ঘণ্টায় ২০০ ঘনমিটার ক্ষমতাসম্পন্ন ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগারের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, হবিগঞ্জ; তত্ত্বাবধানে ছিল শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা।
উদ্বোধনী ফলক অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল তৎকালীন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে পানি শোধনাগারসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। নির্মাণকাজ শেষে ২০২৫ সালের ৩ মার্চ প্রকল্পটি নিয়ম অনুযায়ী শায়েস্তাগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ২৮ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
কিন্তু উদ্বোধনের মাত্র এক মাসের মধ্যেই পানি সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে প্রকল্পটি আর নিয়মিত চালু হয়নি।
পানির সংকট, অথচ পানি প্রকল্পে তালা স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুষ্ক মৌসুমে শায়েস্তাগঞ্জ পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে পানির সংকট তীব্র হয়ে ওঠে। অনেক এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নলকূপেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না।
এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য নির্মিত কোটি টাকার প্রকল্পটি মাসের পর মাস বন্ধ থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে পৌরবাসীর মধ্যে। তাদের প্রশ্ন, যে উদ্দেশ্যে বিপুল অর্থ ব্যয়ে প্রকল্পটি নির্মাণ করা হয়েছে, সেটি নিয়মিত পরিচালনার ব্যবস্থা কি প্রকল্প গ্রহণের আগেই নিশ্চিত করা হয়েছিল?
বন্ধের কারণ নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য প্রকল্পটি বন্ধ থাকার কারণ নিয়েও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, পানি শোধনের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক, পর্যাপ্ত জনবল এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় প্রকল্পটি নিয়মিত চালু রাখা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উপসহকারী কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, নির্ধারিত কাজ শেষে নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্প পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পৌর কর্তৃপক্ষের।
দায় নেবে কে? দীর্ঘদিন প্রকল্পটি বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। উদ্বোধনের এক মাসের মধ্যেই কেন পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেল? প্রকল্প নির্মাণের আগে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করা হয়েছিল কি না? দীর্ঘদিন অচল থাকার কারণে মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হলে এর দায়ভার কে নেবে-এসব প্রশ্নের উত্তর চান পৌরবাসী।
শায়েস্তাগঞ্জ পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “আমি নতুন করে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা প্রকল্পটির বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, যত দ্রুত সম্ভব এটি পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পৌরবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকা পানি শোধনাগারটি দ্রুত চালু করে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে উদ্বোধনের অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটি কেন বন্ধ হয়ে গেল, তা তদন্ত করে পরিচালনাগত ত্রুটি ও সম্ভাব্য অব্যবস্থাপনার কারণ চিহ্নিত করতে হবে।
স্থানীয়দের মতে, জনগণের অর্থে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসেবা প্রকল্প উদ্বোধনের পর দীর্ঘ সময় অচল পড়ে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং জনস্বার্থ নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরবাসীর নিরাপদ পানির সংকট নিরসনে প্রায় ১০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি শোধনাগার প্রকল্পে ঝুলছে ১৪ মাসের তালা। উদ্বোধনের মাত্র এক মাসের মধ্যেই পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে প্রকল্পটি কার্যত অচল পড়ে আছে।
দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় প্রকল্পের মূল্যবান যন্ত্রপাতিতে জমেছে ধুলা-ময়লা, কোথাও ধরেছে মরিচা। অথচ শুষ্ক মৌসুমে পৌর এলাকায় পানির সংকট বাড়লেও কোটি টাকার এ জনসেবা প্রকল্প চালুর কার্যকর উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। এতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং প্রকল্পের পরিচালনা-রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
শায়েস্তাগঞ্জ পৌর শহরের সুদিয়াখলা এলাকায় পুরোনো গরুর বাজারের পাশে নির্মিত প্রকল্পটি সরেজমিনে দেখা যায়, প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন স্থানে ঝুলছে তালা। চারপাশে বেড়ে উঠেছে ঘাস-আগাছা। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ভবনের ভেতরে পানি শোধন ও সরবরাহের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
প্রকল্পের উদ্বোধনী ফলক অনুযায়ী, ‘বাংলাদেশের ২৩টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন (জিডিবি-আইআরভি) প্রকল্পের আওতায়’ শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় ঘণ্টায় ২০০ ঘনমিটার ক্ষমতাসম্পন্ন ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগারের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, হবিগঞ্জ; তত্ত্বাবধানে ছিল শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা।
উদ্বোধনী ফলক অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল তৎকালীন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে পানি শোধনাগারসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। নির্মাণকাজ শেষে ২০২৫ সালের ৩ মার্চ প্রকল্পটি নিয়ম অনুযায়ী শায়েস্তাগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ২৮ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
কিন্তু উদ্বোধনের মাত্র এক মাসের মধ্যেই পানি সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে প্রকল্পটি আর নিয়মিত চালু হয়নি।
পানির সংকট, অথচ পানি প্রকল্পে তালা স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুষ্ক মৌসুমে শায়েস্তাগঞ্জ পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে পানির সংকট তীব্র হয়ে ওঠে। অনেক এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নলকূপেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না।
এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য নির্মিত কোটি টাকার প্রকল্পটি মাসের পর মাস বন্ধ থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে পৌরবাসীর মধ্যে। তাদের প্রশ্ন, যে উদ্দেশ্যে বিপুল অর্থ ব্যয়ে প্রকল্পটি নির্মাণ করা হয়েছে, সেটি নিয়মিত পরিচালনার ব্যবস্থা কি প্রকল্প গ্রহণের আগেই নিশ্চিত করা হয়েছিল?
বন্ধের কারণ নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য প্রকল্পটি বন্ধ থাকার কারণ নিয়েও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, পানি শোধনের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক, পর্যাপ্ত জনবল এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় প্রকল্পটি নিয়মিত চালু রাখা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উপসহকারী কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, নির্ধারিত কাজ শেষে নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্প পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পৌর কর্তৃপক্ষের।
দায় নেবে কে? দীর্ঘদিন প্রকল্পটি বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। উদ্বোধনের এক মাসের মধ্যেই কেন পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেল? প্রকল্প নির্মাণের আগে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করা হয়েছিল কি না? দীর্ঘদিন অচল থাকার কারণে মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হলে এর দায়ভার কে নেবে-এসব প্রশ্নের উত্তর চান পৌরবাসী।
শায়েস্তাগঞ্জ পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “আমি নতুন করে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা প্রকল্পটির বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, যত দ্রুত সম্ভব এটি পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পৌরবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকা পানি শোধনাগারটি দ্রুত চালু করে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে উদ্বোধনের অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটি কেন বন্ধ হয়ে গেল, তা তদন্ত করে পরিচালনাগত ত্রুটি ও সম্ভাব্য অব্যবস্থাপনার কারণ চিহ্নিত করতে হবে।
স্থানীয়দের মতে, জনগণের অর্থে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসেবা প্রকল্প উদ্বোধনের পর দীর্ঘ সময় অচল পড়ে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং জনস্বার্থ নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
