শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

হরিতলায় ২৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, বিবাদীদের অস্বীকার

হরিতলায় ২৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, বিবাদীদের অস্বীকার
ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের হরিতলা গ্রামে ২৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে। বাদী মো. জহিরুল ইসলামের অভিযোগ, ইতালি পাঠানোর কথা বলে তার ও তার ফুফাতো ভাইয়ের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ২৯ লাখ টাকা নেওয়া হলেও তাদের বিদেশ পাঠানো হয়নি। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে বিবাদীরা বলছেন, বিদেশে পাঠানোর নামে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি; জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে তাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হয়েছে।

সম্প্রতি মাধবপুর থানায় জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে হরিতলা গ্রামের মো. কাউসার মিয়া, মো. আব্দুল হান্নান ও মোছা. আনোয়ারা খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি টাকা ফেরত চাইলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিবাদীরা। তাদের দাবি, হরিতলা মৌজায় ১৮ শতক জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে জহিরুল ইসলামের সঙ্গে তাদের বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে ওই বিরোধকে কেন্দ্র করেই তাদের বিরুদ্ধে ইতালি পাঠানোর নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিবাদীদের ভাষ্য, ১৮ শতক জমি বিক্রির বিষয়ে হাসান নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের চুক্তি হয়েছিল। প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার পর দ্বিতীয় কিস্তির সময় হাসান জানান, জহিরুল ইসলাম টাকা দেবেন। এ সময় বিবাদীরা জানান, জমির লেনদেন যেহেতু হাসানের সঙ্গে, তাই জহিরুল ইসলামের সঙ্গে তারা সরাসরি লেনদেন করবেন না।

বিবাদীদের দাবি, পরবর্তীতে ১২ লাখ টাকা দেওয়ার পর জহিরুল ইসলাম পারিবারিক ও আর্থিক সমস্যার কথা জানান। কয়েক মাস পর তিনি পুরো ১৮ শতক জমি নিতে পারবেন না এবং ১০ শতক জমি নেবেন বলে জানান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

তাদের আরও দাবি, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় নূর হোসেন মেম্বার, আমির হোসেন সরদার, ফয়সাল মিয়া, মিনহাজ মিয়া, আপন মিয়া ও ফারুক মিয়া সরদারসহ স্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়। সালিশে হিসাব-নিকাশ করে পাওনা থেকে এক লাখ টাকা কম দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা। কয়েক দফা রেজিস্ট্রির তারিখ নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্পন্ন হয়নি বলে জানান বিবাদীরা।

বিবাদীরা আরও দাবি করেন, জমি বিক্রির অর্থ নিয়ে বিরোধের কারণে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিরোধ মেটাতে তাদের নিজস্ব ২৫ শতক জমি দিতে হয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে দাবি করেন তারা। তবে এ দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মামলার ১ নম্বর বিবাদী মো. কাউসার মিয়া বলেন, তার মোল্লা ট্রেডার্স ও মোল্লা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি নামে ব্যবসা রয়েছে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে তানহা এন্টারপ্রাইজে মালামাল সরবরাহ করছেন। ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িক লেনদেনে তার প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং তাকে পাঁচটি রাজনৈতিক মামলায় জড়ানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

কাউসার মিয়া আরও বলেন, তাদের ‘আদম ব্যবসায়ী’ হিসেবে পরিচয় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তাদের পরিবারের কেউ এ ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন তিনি। স্থানীয় চেয়ারম্যান সাহাবুদ্দিন তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা ও বানোয়াট উল্লেখ করে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন বলেও দাবি করেন কাউসার।

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বাদী মো. জহিরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বিবাদীরা মামলাটিকে হয়রানিমূলক দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

চেকপোস্ট

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


হরিতলায় ২৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, বিবাদীদের অস্বীকার

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের হরিতলা গ্রামে ২৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে। বাদী মো. জহিরুল ইসলামের অভিযোগ, ইতালি পাঠানোর কথা বলে তার ও তার ফুফাতো ভাইয়ের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ২৯ লাখ টাকা নেওয়া হলেও তাদের বিদেশ পাঠানো হয়নি। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে বিবাদীরা বলছেন, বিদেশে পাঠানোর নামে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি; জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে তাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হয়েছে।

সম্প্রতি মাধবপুর থানায় জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে হরিতলা গ্রামের মো. কাউসার মিয়া, মো. আব্দুল হান্নান ও মোছা. আনোয়ারা খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি টাকা ফেরত চাইলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিবাদীরা। তাদের দাবি, হরিতলা মৌজায় ১৮ শতক জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে জহিরুল ইসলামের সঙ্গে তাদের বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে ওই বিরোধকে কেন্দ্র করেই তাদের বিরুদ্ধে ইতালি পাঠানোর নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিবাদীদের ভাষ্য, ১৮ শতক জমি বিক্রির বিষয়ে হাসান নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের চুক্তি হয়েছিল। প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার পর দ্বিতীয় কিস্তির সময় হাসান জানান, জহিরুল ইসলাম টাকা দেবেন। এ সময় বিবাদীরা জানান, জমির লেনদেন যেহেতু হাসানের সঙ্গে, তাই জহিরুল ইসলামের সঙ্গে তারা সরাসরি লেনদেন করবেন না।

বিবাদীদের দাবি, পরবর্তীতে ১২ লাখ টাকা দেওয়ার পর জহিরুল ইসলাম পারিবারিক ও আর্থিক সমস্যার কথা জানান। কয়েক মাস পর তিনি পুরো ১৮ শতক জমি নিতে পারবেন না এবং ১০ শতক জমি নেবেন বলে জানান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

তাদের আরও দাবি, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় নূর হোসেন মেম্বার, আমির হোসেন সরদার, ফয়সাল মিয়া, মিনহাজ মিয়া, আপন মিয়া ও ফারুক মিয়া সরদারসহ স্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়। সালিশে হিসাব-নিকাশ করে পাওনা থেকে এক লাখ টাকা কম দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা। কয়েক দফা রেজিস্ট্রির তারিখ নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্পন্ন হয়নি বলে জানান বিবাদীরা।

বিবাদীরা আরও দাবি করেন, জমি বিক্রির অর্থ নিয়ে বিরোধের কারণে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিরোধ মেটাতে তাদের নিজস্ব ২৫ শতক জমি দিতে হয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে দাবি করেন তারা। তবে এ দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মামলার ১ নম্বর বিবাদী মো. কাউসার মিয়া বলেন, তার মোল্লা ট্রেডার্স ও মোল্লা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি নামে ব্যবসা রয়েছে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে তানহা এন্টারপ্রাইজে মালামাল সরবরাহ করছেন। ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িক লেনদেনে তার প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং তাকে পাঁচটি রাজনৈতিক মামলায় জড়ানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

কাউসার মিয়া আরও বলেন, তাদের ‘আদম ব্যবসায়ী’ হিসেবে পরিচয় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তাদের পরিবারের কেউ এ ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন তিনি। স্থানীয় চেয়ারম্যান সাহাবুদ্দিন তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা ও বানোয়াট উল্লেখ করে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন বলেও দাবি করেন কাউসার।

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বাদী মো. জহিরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বিবাদীরা মামলাটিকে হয়রানিমূলক দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত