রংপুর-গঙ্গাচড়া আঞ্চলিক মহাসড়ক (Z-5023) এখন আর স্বাভাবিক চলাচলের পথ নয় এটি পরিণত হয়েছে এক দমবন্ধ করা ধুলার জনপদে।
চব্বিশ হাজারী এলাকায় দূর থেকে দেখলে পুরো এলাকা ঘন কুয়াশায় ঢাকা মনে হলেও, বাস্তবে এটি উড়ন্ত ধুলার স্তর। প্রায় এক বছর ধরে সংস্কারের নামে সড়ক খুঁড়ে ফেলে রাখায় চব্বিশ হাজারী থেকে বুড়িরহাট পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চরম দুর্ভোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরনো কার্পেটিং তুলে ফেলে ইটের খোয়া ও বালি ফেলে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রাখায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় পুরো এলাকা ধুলায় ঢেকে যায়, অনেক সময় কয়েক হাত দূরের যানবাহনও দেখা যায় না।
এক অটোরিকশা চালক মোবারক হোসেন বলেন, চালাতে গেলে সামনে কিছুই দেখা যায় না, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়।
এক কলেজ শিক্ষার্থী মোহসিন জানান, ধুলার কারণে চোখ খোলা যায় না, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, অনেক সময় অসুস্থ হয়ে পড়ি।
এক চাকরিজীবী আইয়ুব আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পরিষ্কার কাপড় পরে বের হই, অফিসে পৌঁছানোর আগেই সব ধুলায় ভরে যায়।
ধুলার কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও অ্যাজমা এবং বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়ছে বলে জানান তারা। তবে মাঝে মাঝে পানি ছিটানো হলেও তা অপ্রতুল বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় চিকিৎসক দীপা রানী বলেন, দীর্ঘদিন ধুলাবালি শ্বাসের সঙ্গে গেলে ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নিয়ম অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে সংস্কারাধীন সড়কে দিনে অন্তত দুইবার পানি ছিটানোর কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মুহাম্মদ আমিনুল হক (প্রাঃ) লিমিটেড তা মানছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
সওজ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কদমতলী বাজার থেকে বুড়িরহাট চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়ক শক্তিশালীকরণের জন্য ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ ধীর হয়েছে। তবে দ্রুত কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
রংপুর-গঙ্গাচড়া আঞ্চলিক মহাসড়ক (Z-5023) এখন আর স্বাভাবিক চলাচলের পথ নয় এটি পরিণত হয়েছে এক দমবন্ধ করা ধুলার জনপদে।
চব্বিশ হাজারী এলাকায় দূর থেকে দেখলে পুরো এলাকা ঘন কুয়াশায় ঢাকা মনে হলেও, বাস্তবে এটি উড়ন্ত ধুলার স্তর। প্রায় এক বছর ধরে সংস্কারের নামে সড়ক খুঁড়ে ফেলে রাখায় চব্বিশ হাজারী থেকে বুড়িরহাট পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চরম দুর্ভোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরনো কার্পেটিং তুলে ফেলে ইটের খোয়া ও বালি ফেলে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রাখায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় পুরো এলাকা ধুলায় ঢেকে যায়, অনেক সময় কয়েক হাত দূরের যানবাহনও দেখা যায় না।
এক অটোরিকশা চালক মোবারক হোসেন বলেন, চালাতে গেলে সামনে কিছুই দেখা যায় না, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়।
এক কলেজ শিক্ষার্থী মোহসিন জানান, ধুলার কারণে চোখ খোলা যায় না, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, অনেক সময় অসুস্থ হয়ে পড়ি।
এক চাকরিজীবী আইয়ুব আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পরিষ্কার কাপড় পরে বের হই, অফিসে পৌঁছানোর আগেই সব ধুলায় ভরে যায়।
ধুলার কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও অ্যাজমা এবং বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়ছে বলে জানান তারা। তবে মাঝে মাঝে পানি ছিটানো হলেও তা অপ্রতুল বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় চিকিৎসক দীপা রানী বলেন, দীর্ঘদিন ধুলাবালি শ্বাসের সঙ্গে গেলে ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নিয়ম অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে সংস্কারাধীন সড়কে দিনে অন্তত দুইবার পানি ছিটানোর কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মুহাম্মদ আমিনুল হক (প্রাঃ) লিমিটেড তা মানছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
সওজ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কদমতলী বাজার থেকে বুড়িরহাট চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়ক শক্তিশালীকরণের জন্য ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ ধীর হয়েছে। তবে দ্রুত কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
