হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে সিলেটগামী আন্তঃনগর জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে কয়েকজন যাত্রী সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ট্রেনটি আটকে থাকে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্কসহ শত শত যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ট্রেনটি শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। এর আগে স্টেশনের আউটার সিগন্যাল এলাকায় ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন চালক। পরে সতর্কতার সঙ্গে ট্রেনটি স্টেশনে নিয়ে আসা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে
খবর পেয়ে শায়েস্তাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিনটি বগি থেকে আলাদা করে রাখা হয়।
পরে বিকল্প ইঞ্জিনের ব্যবস্থা করতে সময় লাগায় ট্রেনটির যাত্রা ব্যাহত হয়। দীর্ঘ সময় ট্রেন আটকে থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে যাত্রা করা যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। বিশেষ করে ছোট শিশু, নারী ও বয়স্কদের দুর্ভোগ ছিল বেশি।
এসি টিকিট কেটেও ভোগান্তি, ক্ষোভ যাত্রীদের
ভুক্তভোগী যাত্রী সেলিম আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “স্ত্রী ও ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে এখন কোথায় যাব? আমরা এসি টিকিট কেটেছি, অথচ ট্রেনযাত্রায় প্রায়ই নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কখনো দেখা যায়, এসি কাজ করে না; আবার কখনো ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়ে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয়।”
তিনি আরও বলেন, ঢাকা-সিলেট রেলপথে প্রায়ই ইঞ্জিন বিকল হওয়া ও নির্ধারিত সময়ে ট্রেন চলাচল না করার মতো সমস্যা দেখা যায়। কখনো দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব হয়। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাতের ধারণা
শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার নাজিম উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিন সরিয়ে আখাউড়া থেকে বিকল্প ইঞ্জিন আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিকল্প ইঞ্জিন পৌঁছালে ট্রেনটি সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অন্য ট্রেন চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
যাত্রীবাহী বগি থেকে আলাদা করা হয় ইঞ্জিন
ট্রেনের পরিচালক জহির উদ্দিন জানান, স্টেশনের আউটার এলাকায় ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর চালক সতর্কতার সঙ্গে ট্রেনটি স্টেশনে নিয়ে আসেন। আগুন যাতে যাত্রীবাহী বগিতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য ইঞ্জিনটি বগি থেকে আলাদা করে রাখা হয়।
রেলপথের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন
ঢাকা-সিলেট রেলপথে ইঞ্জিন বিকল হওয়া, সময়সূচির বিপর্যয় ও যাত্রীসেবার মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে আগুন লাগার ঘটনায় ট্রেনের নিরাপত্তা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
ইঞ্জিনে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি নিয়মিত ইঞ্জিন পরীক্ষা, ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত করা এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে বিকল্প ইঞ্জিনের ব্যবস্থা দ্রুত নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশের আগে যাচাইযোগ্য তথ্য: আহত যাত্রীর সঠিক সংখ্যা, ট্রেন ছাড়তে মোট কত সময় বিলম্ব হয়েছে এবং বিকল্প ইঞ্জিন পৌঁছানোর পর ট্রেনটির যাত্রা শুরুর সময় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে সিলেটগামী আন্তঃনগর জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে কয়েকজন যাত্রী সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ট্রেনটি আটকে থাকে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্কসহ শত শত যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ট্রেনটি শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। এর আগে স্টেশনের আউটার সিগন্যাল এলাকায় ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন চালক। পরে সতর্কতার সঙ্গে ট্রেনটি স্টেশনে নিয়ে আসা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে
খবর পেয়ে শায়েস্তাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিনটি বগি থেকে আলাদা করে রাখা হয়।
পরে বিকল্প ইঞ্জিনের ব্যবস্থা করতে সময় লাগায় ট্রেনটির যাত্রা ব্যাহত হয়। দীর্ঘ সময় ট্রেন আটকে থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে যাত্রা করা যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। বিশেষ করে ছোট শিশু, নারী ও বয়স্কদের দুর্ভোগ ছিল বেশি।
এসি টিকিট কেটেও ভোগান্তি, ক্ষোভ যাত্রীদের
ভুক্তভোগী যাত্রী সেলিম আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “স্ত্রী ও ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে এখন কোথায় যাব? আমরা এসি টিকিট কেটেছি, অথচ ট্রেনযাত্রায় প্রায়ই নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কখনো দেখা যায়, এসি কাজ করে না; আবার কখনো ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়ে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয়।”
তিনি আরও বলেন, ঢাকা-সিলেট রেলপথে প্রায়ই ইঞ্জিন বিকল হওয়া ও নির্ধারিত সময়ে ট্রেন চলাচল না করার মতো সমস্যা দেখা যায়। কখনো দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব হয়। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাতের ধারণা
শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার নাজিম উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিন সরিয়ে আখাউড়া থেকে বিকল্প ইঞ্জিন আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিকল্প ইঞ্জিন পৌঁছালে ট্রেনটি সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অন্য ট্রেন চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
যাত্রীবাহী বগি থেকে আলাদা করা হয় ইঞ্জিন
ট্রেনের পরিচালক জহির উদ্দিন জানান, স্টেশনের আউটার এলাকায় ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর চালক সতর্কতার সঙ্গে ট্রেনটি স্টেশনে নিয়ে আসেন। আগুন যাতে যাত্রীবাহী বগিতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য ইঞ্জিনটি বগি থেকে আলাদা করে রাখা হয়।
রেলপথের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন
ঢাকা-সিলেট রেলপথে ইঞ্জিন বিকল হওয়া, সময়সূচির বিপর্যয় ও যাত্রীসেবার মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে আগুন লাগার ঘটনায় ট্রেনের নিরাপত্তা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
ইঞ্জিনে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি নিয়মিত ইঞ্জিন পরীক্ষা, ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত করা এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে বিকল্প ইঞ্জিনের ব্যবস্থা দ্রুত নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশের আগে যাচাইযোগ্য তথ্য: আহত যাত্রীর সঠিক সংখ্যা, ট্রেন ছাড়তে মোট কত সময় বিলম্ব হয়েছে এবং বিকল্প ইঞ্জিন পৌঁছানোর পর ট্রেনটির যাত্রা শুরুর সময় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
