চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের গলা থেকে স্বর্ণের চেইন চুরির অভিযোগে সাত নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ছয়জনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল গ্রামে। অপর একজন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মস্তাননগর হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টারের সামনে থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভিড়ের মধ্যে তিনটি চেইন চুরির অভিযোগ
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ১১টা ১০ মিনিটের দিকে হাসপাতালের বহির্বিভাগে টিকিট সংগ্রহের জন্য রোগীরা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় ১০ থেকে ১১ জনের একটি নারী দল লাইনে ভিড় ও ধাক্কাধাক্কি সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ ওঠে।
এই বিশৃঙ্খলার সুযোগে চিকিৎসা নিতে আসা তিন নারীর গলা থেকে তিনটি স্বর্ণের চেইন চুরি হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। চুরি যাওয়া চেইনগুলোর মোট ওজন আনুমানিক ১৭ আনা ২ রতি ১ পয়েন্ট।
ভুক্তভোগীদের চিৎকারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে সাত নারীকে আটক করে।
গ্রেপ্তার ৭ নারী, ছয়জনের বাড়ি নাসিরনগরে
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন:
1. আমেনা খাতুন (২৫)
2. সালমা ওরফে তানিয়া বেগম (২৫)
3. অজুফা বেগম (২৫)
4. হালিমা (৩০)
5. শানজিলা ওরফে সাদিয়া (২৩)
6. তাহমিনা আক্তার (২০)
পুলিশ জানায়, এই ছয়জনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল গ্রামে।
7. আমিনা খাতুন (৩৬), সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।
স্বর্ণালংকারের অংশ উদ্ধার, মামলা
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রায় ৬ আনা ২ রতি ১ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
তাঁরা সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সদস্য কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ড ও জনবহুল স্থানে চুরির একাধিক মামলা রয়েছে।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল হালিম জানান, হাসপাতালের ভিড়ের সুযোগে স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগে সাত নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণের একটি অংশ উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
রোগীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মূল্যবান সামগ্রী সাবধানে রাখার পরামর্শ দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে টিকিট কাউন্টার ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে ভিড়ের মধ্যে ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের গলা থেকে স্বর্ণের চেইন চুরির অভিযোগে সাত নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ছয়জনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল গ্রামে। অপর একজন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মস্তাননগর হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টারের সামনে থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভিড়ের মধ্যে তিনটি চেইন চুরির অভিযোগ
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ১১টা ১০ মিনিটের দিকে হাসপাতালের বহির্বিভাগে টিকিট সংগ্রহের জন্য রোগীরা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় ১০ থেকে ১১ জনের একটি নারী দল লাইনে ভিড় ও ধাক্কাধাক্কি সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ ওঠে।
এই বিশৃঙ্খলার সুযোগে চিকিৎসা নিতে আসা তিন নারীর গলা থেকে তিনটি স্বর্ণের চেইন চুরি হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। চুরি যাওয়া চেইনগুলোর মোট ওজন আনুমানিক ১৭ আনা ২ রতি ১ পয়েন্ট।
ভুক্তভোগীদের চিৎকারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে সাত নারীকে আটক করে।
গ্রেপ্তার ৭ নারী, ছয়জনের বাড়ি নাসিরনগরে
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন:
1. আমেনা খাতুন (২৫)
2. সালমা ওরফে তানিয়া বেগম (২৫)
3. অজুফা বেগম (২৫)
4. হালিমা (৩০)
5. শানজিলা ওরফে সাদিয়া (২৩)
6. তাহমিনা আক্তার (২০)
পুলিশ জানায়, এই ছয়জনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল গ্রামে।
7. আমিনা খাতুন (৩৬), সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।
স্বর্ণালংকারের অংশ উদ্ধার, মামলা
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রায় ৬ আনা ২ রতি ১ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
তাঁরা সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সদস্য কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ড ও জনবহুল স্থানে চুরির একাধিক মামলা রয়েছে।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল হালিম জানান, হাসপাতালের ভিড়ের সুযোগে স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগে সাত নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণের একটি অংশ উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
রোগীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মূল্যবান সামগ্রী সাবধানে রাখার পরামর্শ দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে টিকিট কাউন্টার ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে ভিড়ের মধ্যে ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
