শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

র‌্যাব-৯ এর অভিযানে

মাধবপুরে মাদ্রাসাছাত্র হত্যা: মৌলভীবাজারে আসামি গ্রেপ্তার

মাধবপুরে মাদ্রাসাছাত্র হত্যা: মৌলভীবাজারে আসামি গ্রেপ্তার
ছবি : চেকপোস্ট

হবিগঞ্জের মাধবপুরে মাদ্রাসাছাত্র আশিকুল ইসলাম জনি (১৪) হত্যা মামলায় এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের নটপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৯।

গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন মাহবুব আলম মাহী (২৪)। তিনি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার এনাতাবাদ গ্রামের মৃত মুকিদ মিয়ার ছেলে। তিনি মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব-৯ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল রাত আনুমানিক ৮টা ২৫ মিনিটে নটপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মাহবুব আলম মাহিকে গ্রেপ্তার করে।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

র‌্যাবের তথ্যমতে, আশিকুল ইসলাম জনি প্রায় তিন বছর আগে কোরআনে হাফেজ হওয়ার উদ্দেশ্যে মাধবপুরের সুলতানপুর গ্রামের হযরত আবু বকর ছিদ্দিক (রাঃ) হিফজুল কোরআন সুন্নীয়া নূরানী মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। সে সেখানে আবাসিকভাবে পড়াশোনা করত।

মাদ্রাসার অর্থনৈতিক অনিয়ম এবং ছাত্রদের জন্য সংগৃহীত দান-খয়রাতের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে জনির সঙ্গে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আল-আমিন হোসাইন ও শিক্ষক মাহবুব আলম মাহীর বিরোধ সৃষ্টি হয় বলে র‌্যাবের বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, গত বছরের ২২ এপ্রিল রাত সাড়ে ১২টার দিকে অন্য ছাত্রদের সঙ্গে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় জনিকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় এবং তাকে জোরপূর্বক বিষ পান করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরদিন সকালে মাহবুব আলম মাহী অচেতন ও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় জনিকে তার বাড়িতে নিয়ে যান বলে র‌্যাব জানিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের কাছে তাকে ‘জিনের আছর’ হয়েছে বলেও জানানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে জনিকে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জনির মৃত্যু হয়।

হত্যা মামলা ও র‌্যাবের অভিযান

ঘটনার পর নিহত জনির ভাই বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি মাধবপুর থানার মামলা নম্বর ৪৩, তারিখ ২৮ মে ২০২৫। এতে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে র‌্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় মাহবুব আলম মাহিকে মৌলভীবাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানিয়েছে, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

 

#মাধবপুর #র‌্যাব৯ #মাদ্রাসাছাত্রহত্যা

চেকপোস্ট

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মাধবপুরে মাদ্রাসাছাত্র হত্যা: মৌলভীবাজারে আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের মাধবপুরে মাদ্রাসাছাত্র আশিকুল ইসলাম জনি (১৪) হত্যা মামলায় এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের নটপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৯।

গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন মাহবুব আলম মাহী (২৪)। তিনি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার এনাতাবাদ গ্রামের মৃত মুকিদ মিয়ার ছেলে। তিনি মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব-৯ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল রাত আনুমানিক ৮টা ২৫ মিনিটে নটপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মাহবুব আলম মাহিকে গ্রেপ্তার করে।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

র‌্যাবের তথ্যমতে, আশিকুল ইসলাম জনি প্রায় তিন বছর আগে কোরআনে হাফেজ হওয়ার উদ্দেশ্যে মাধবপুরের সুলতানপুর গ্রামের হযরত আবু বকর ছিদ্দিক (রাঃ) হিফজুল কোরআন সুন্নীয়া নূরানী মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। সে সেখানে আবাসিকভাবে পড়াশোনা করত।

মাদ্রাসার অর্থনৈতিক অনিয়ম এবং ছাত্রদের জন্য সংগৃহীত দান-খয়রাতের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে জনির সঙ্গে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আল-আমিন হোসাইন ও শিক্ষক মাহবুব আলম মাহীর বিরোধ সৃষ্টি হয় বলে র‌্যাবের বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, গত বছরের ২২ এপ্রিল রাত সাড়ে ১২টার দিকে অন্য ছাত্রদের সঙ্গে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় জনিকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় এবং তাকে জোরপূর্বক বিষ পান করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরদিন সকালে মাহবুব আলম মাহী অচেতন ও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় জনিকে তার বাড়িতে নিয়ে যান বলে র‌্যাব জানিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের কাছে তাকে ‘জিনের আছর’ হয়েছে বলেও জানানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে জনিকে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জনির মৃত্যু হয়।

হত্যা মামলা ও র‌্যাবের অভিযান

ঘটনার পর নিহত জনির ভাই বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি মাধবপুর থানার মামলা নম্বর ৪৩, তারিখ ২৮ মে ২০২৫। এতে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে র‌্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় মাহবুব আলম মাহিকে মৌলভীবাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানিয়েছে, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

 


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত