বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

ইসলাম

রমজানের পর সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ মাস

মহররম মাসের গুরুত্ব কী? কেন এত গুরুত্ব দিতেন মহানবী (সা.)

মহররম মাসের গুরুত্ব কী? কেন এত গুরুত্ব দিতেন মহানবী (সা.)
ছবি : সংগৃহীত

মহররম হিজরি সনের প্রথম মাস এবং ইসলামের অন্যতম সম্মানিত ও বরকতময় মাস। পবিত্র কোরআনে চারটি মাসকে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে মহররম অন্যতম। এ মাসের ১০ তারিখ ‘আশুরা’ নামে পরিচিত এবং ইসলামে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

হাদিসে মহররমকে ‘আল্লাহর মাস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি বলেন, রমজানের পর সবচেয়ে উত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদ। (সহিহ মুসলিম)

অন্য একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “রমজানের পর শ্রেষ্ঠ মাস হলো আল্লাহর মাস মহররম।” (সুনানে কুবরা, নাসায়ি)

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, মহররমের মর্যাদা রক্ষার অন্যতম উপায় হলো এ মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা। বিশেষ করে আশুরার দিন (১০ মহররম) এবং তার আগে বা পরে একদিন রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।

হাদিসে বর্ণিত আছে, এক সাহাবি রমজানের পর কোন মাসে রোজা রাখা উত্তম—এ প্রশ্ন করলে মহানবী (সা.) মহররম মাসে রোজা রাখার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এ মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যেদিন আল্লাহ তাআলা অনেকের তওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অনেকের তওবা কবুল করবেন। (জামে তিরমিজি)

আশুরার দিনের গুরুত্ব সম্পর্কে আরও জানা যায়, মদিনায় এসে মহানবী (সা.) দেখেন ইহুদিরা এ দিনে রোজা পালন করছে। কারণ, এ দিন আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা (আ.) ও তাঁর জাতিকে ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মুসা (আ.)-এর অনুসরণের ক্ষেত্রে আমরা বেশি হকদার। এরপর তিনি নিজে রোজা রাখেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দেন। (সহিহ মুসলিম)

আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন, আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার দিনের রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের (সগিরা) গুনাহ মাফের কারণ হবে। (সহিহ মুসলিম)

তাই মহররম মাস শুধু হিজরি নববর্ষের সূচনা নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, তওবা, ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবেও মুসলিমদের কাছে বিশেষ মর্যাদা বহন করে।

#ইসলামিক_জ্ঞান #মহররম_মাস #আশুরার_রোজা

চেকপোস্ট

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬


মহররম মাসের গুরুত্ব কী? কেন এত গুরুত্ব দিতেন মহানবী (সা.)

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image

মহররম হিজরি সনের প্রথম মাস এবং ইসলামের অন্যতম সম্মানিত ও বরকতময় মাস। পবিত্র কোরআনে চারটি মাসকে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে মহররম অন্যতম। এ মাসের ১০ তারিখ ‘আশুরা’ নামে পরিচিত এবং ইসলামে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

হাদিসে মহররমকে ‘আল্লাহর মাস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি বলেন, রমজানের পর সবচেয়ে উত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদ। (সহিহ মুসলিম)

অন্য একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “রমজানের পর শ্রেষ্ঠ মাস হলো আল্লাহর মাস মহররম।” (সুনানে কুবরা, নাসায়ি)

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, মহররমের মর্যাদা রক্ষার অন্যতম উপায় হলো এ মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা। বিশেষ করে আশুরার দিন (১০ মহররম) এবং তার আগে বা পরে একদিন রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।

হাদিসে বর্ণিত আছে, এক সাহাবি রমজানের পর কোন মাসে রোজা রাখা উত্তম—এ প্রশ্ন করলে মহানবী (সা.) মহররম মাসে রোজা রাখার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এ মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যেদিন আল্লাহ তাআলা অনেকের তওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অনেকের তওবা কবুল করবেন। (জামে তিরমিজি)

আশুরার দিনের গুরুত্ব সম্পর্কে আরও জানা যায়, মদিনায় এসে মহানবী (সা.) দেখেন ইহুদিরা এ দিনে রোজা পালন করছে। কারণ, এ দিন আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা (আ.) ও তাঁর জাতিকে ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মুসা (আ.)-এর অনুসরণের ক্ষেত্রে আমরা বেশি হকদার। এরপর তিনি নিজে রোজা রাখেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দেন। (সহিহ মুসলিম)

আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন, আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার দিনের রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের (সগিরা) গুনাহ মাফের কারণ হবে। (সহিহ মুসলিম)

তাই মহররম মাস শুধু হিজরি নববর্ষের সূচনা নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, তওবা, ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবেও মুসলিমদের কাছে বিশেষ মর্যাদা বহন করে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত