সুনামগঞ্জে ব্যবসায়িক লেনদেনের কথা বলে নগদ চার লাখ টাকা নেওয়ার পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে মো. মোশাহিদ নামে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিকাশের ডিএসও মোহাম্মদ রেজাউল করিম বুলবুল তাঁর পাওনা টাকা উদ্ধারে প্রশাসন, পুলিশ ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন রেজাউল করিম বুলবুল।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের আদার বাজারের মোশাহিদ টেলিকমের মালিক মো. মোশাহিদের সঙ্গে তাঁর প্রায় তিন বছর ধরে নিয়মিত ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। প্রতিদিন তাঁদের মধ্যে প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার লেনদেন হতো। দীর্ঘদিনের এই ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে তাঁর প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছিল।
তিনি বলেন, গত ১ নভেম্বর রবিবার সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে সুনামগঞ্জ শহরের ট্রাফিক পয়েন্টসংলগ্ন টাউন হল এলাকায় মোশাহিদের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। দোকানে গিয়ে বিটুবি (B2B) লেনদেনের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করবেন—এমন আশ্বাসে তাঁর কাছ থেকে নগদ চার লাখ টাকা নেন।
কিন্তু টাকা নেওয়ার পর থেকে মোশাহিদ আর বিটুবির মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগ করেন বুলবুল। একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মোশাহিদ টেলিকমে গিয়ে দোকান বন্ধ দেখতে পান।
বুলবুল আরও জানান, মোশাহিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরাও ওই দিন থেকে মোশাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না বলে জানান। ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁর কোনো সন্ধান কিংবা টাকা ফেরতের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে বুলবুল বলেন, একজন সাধারণ চাকরিজীবী হিসেবে তাঁর কাছে চার লাখ টাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি ওই টাকা দিয়েছিলেন। বর্তমানে টাকা ফেরত না পেয়ে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জ সদর থানার পুলিশের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে আলোচনা করেছেন। আগামীকাল লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
একই সঙ্গে আদার বাজারের ব্যবসায়ী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর প্রতি মোশাহিদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেন, সে অনুরোধও করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল করিম বুলবুল বলেন, তিনি কাউকে হয়রানি বা অপপ্রচার করতে চান না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং তাঁর কষ্টার্জিত চার লাখ টাকা ফেরত পাওয়াই তাঁর মূল প্রত্যাশা। এ জন্য তিনি প্রশাসন, পুলিশ, সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সুনামগঞ্জে ব্যবসায়িক লেনদেনের কথা বলে নগদ চার লাখ টাকা নেওয়ার পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে মো. মোশাহিদ নামে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিকাশের ডিএসও মোহাম্মদ রেজাউল করিম বুলবুল তাঁর পাওনা টাকা উদ্ধারে প্রশাসন, পুলিশ ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন রেজাউল করিম বুলবুল।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের আদার বাজারের মোশাহিদ টেলিকমের মালিক মো. মোশাহিদের সঙ্গে তাঁর প্রায় তিন বছর ধরে নিয়মিত ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। প্রতিদিন তাঁদের মধ্যে প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার লেনদেন হতো। দীর্ঘদিনের এই ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে তাঁর প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছিল।
তিনি বলেন, গত ১ নভেম্বর রবিবার সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে সুনামগঞ্জ শহরের ট্রাফিক পয়েন্টসংলগ্ন টাউন হল এলাকায় মোশাহিদের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। দোকানে গিয়ে বিটুবি (B2B) লেনদেনের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করবেন—এমন আশ্বাসে তাঁর কাছ থেকে নগদ চার লাখ টাকা নেন।
কিন্তু টাকা নেওয়ার পর থেকে মোশাহিদ আর বিটুবির মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগ করেন বুলবুল। একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মোশাহিদ টেলিকমে গিয়ে দোকান বন্ধ দেখতে পান।
বুলবুল আরও জানান, মোশাহিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরাও ওই দিন থেকে মোশাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না বলে জানান। ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁর কোনো সন্ধান কিংবা টাকা ফেরতের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে বুলবুল বলেন, একজন সাধারণ চাকরিজীবী হিসেবে তাঁর কাছে চার লাখ টাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি ওই টাকা দিয়েছিলেন। বর্তমানে টাকা ফেরত না পেয়ে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জ সদর থানার পুলিশের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে আলোচনা করেছেন। আগামীকাল লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
একই সঙ্গে আদার বাজারের ব্যবসায়ী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর প্রতি মোশাহিদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেন, সে অনুরোধও করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল করিম বুলবুল বলেন, তিনি কাউকে হয়রানি বা অপপ্রচার করতে চান না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং তাঁর কষ্টার্জিত চার লাখ টাকা ফেরত পাওয়াই তাঁর মূল প্রত্যাশা। এ জন্য তিনি প্রশাসন, পুলিশ, সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
