শনিবার, ০২ মে ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

এক ভবনে পুলিশ ও পাঠদান ব্যাহত শিক্ষা পরিবেশ

বাগেরহাটে স্কুল দখলে পুলিশ, কষ্টে শিক্ষার্থীরা

বাগেরহাটে স্কুল দখলে পুলিশ, কষ্টে শিক্ষার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার জিউধরা ইউনিয়নের লক্ষীখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষে চলছে পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম। বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলার তিনটি কক্ষ ও শৌচাগার বর্তমানে ফাঁড়ির দখলে রয়েছে।

এর ফলে নিচতলায় টিনের বেড়া দিয়ে তৈরি তিনটি অস্থায়ী কক্ষে পাঠদান চালাতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্কুল ভবনের কয়েকটি কক্ষে পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তা আর সরানো হয়নি।

প্রধান শিক্ষক নীরা রানী তাফালী বলেন, বর্তমানে প্রায় ১৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সহকারী শিক্ষক মালা আক্তার জানান, শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া যাচ্ছে না। গরমে ফ্যান নেই, আলো-বাতাসের সংকট রয়েছে যা শিক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

শিক্ষক মহিউদ্দিন স্বপন বলেন, একই ভবনে পুলিশি কার্যক্রম চলায় স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অনেক সময় শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিশুদের অস্বাস্থ্যকর ও অস্বস্তিকর পরিবেশে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। না আছে পর্যাপ্ত আলো, না আছে শৌচাগারের সুবিধা যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রশাসন ও অর্থ মুহাম্মদ মহিদুর রহমান জানান, ফাঁড়ির জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্মাণ শেষ হলে ফাঁড়ি স্থানান্তর করা হবে। সাময়িকভাবে অন্যত্র সরানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।

জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, একই ভবনে শিক্ষা ও পুলিশি কার্যক্রম চলা উচিত নয়। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

#বাগেরহাট_খবর #স্কুলসংকট #শিক্ষাপরিবেশ

চেকপোস্ট

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


বাগেরহাটে স্কুল দখলে পুলিশ, কষ্টে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬

featured Image

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার জিউধরা ইউনিয়নের লক্ষীখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষে চলছে পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম। বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলার তিনটি কক্ষ ও শৌচাগার বর্তমানে ফাঁড়ির দখলে রয়েছে।

এর ফলে নিচতলায় টিনের বেড়া দিয়ে তৈরি তিনটি অস্থায়ী কক্ষে পাঠদান চালাতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্কুল ভবনের কয়েকটি কক্ষে পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তা আর সরানো হয়নি।

প্রধান শিক্ষক নীরা রানী তাফালী বলেন, বর্তমানে প্রায় ১৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সহকারী শিক্ষক মালা আক্তার জানান, শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া যাচ্ছে না। গরমে ফ্যান নেই, আলো-বাতাসের সংকট রয়েছে যা শিক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

শিক্ষক মহিউদ্দিন স্বপন বলেন, একই ভবনে পুলিশি কার্যক্রম চলায় স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অনেক সময় শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিশুদের অস্বাস্থ্যকর ও অস্বস্তিকর পরিবেশে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। না আছে পর্যাপ্ত আলো, না আছে শৌচাগারের সুবিধা যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রশাসন ও অর্থ মুহাম্মদ মহিদুর রহমান জানান, ফাঁড়ির জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্মাণ শেষ হলে ফাঁড়ি স্থানান্তর করা হবে। সাময়িকভাবে অন্যত্র সরানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।

জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, একই ভবনে শিক্ষা ও পুলিশি কার্যক্রম চলা উচিত নয়। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত