বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশে সোপর্দ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচয়ে রেল কারখানায়, সৈয়দপুরে ২ জন আটক

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচয়ে রেল কারখানায়, সৈয়দপুরে ২ জন আটক
ছবি : চেকপোস্ট

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) এর সঙ্গে দেখা করতে আসা দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ২ নম্বর গেট সংলগ্ন ওয়েলফেয়ার কার্যালয় থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— রাজবাড়ী জেলার ঝড়ু মন্ডলের ছেলে আনন্দ মন্ডল (৪৫) এবং বরিশালের সামসুল হকের ছেলে মাসুম বিল্লাহ সাজিদ (৩০)।

আটকের পর আনন্দ মন্ডল নিজেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অথৈ এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান এবং মাসুম বিল্লাহ সাজিদকে মেসার্স এম নুরুদ্দিন কোম্পানির অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দেন।

ঘটনার সূত্রে জানা যায়, আনন্দ মন্ডল সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ডিএস শাহ সুফী নুর মুহাম্মদের মোবাইলে ফোন করে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আসা ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন। পরে ডিএস কারখানার ২ নম্বর গেটের পাশে ওয়েলফেয়ার অফিসে গিয়ে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

সেসময় কারখানায় শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিনিধি নির্বাচন চলছিল। তাই ডিএস তাদের নিজ কার্যালয়ে না নিয়ে ওয়েলফেয়ার অফিসে বসেন বলে জানা গেছে।

এদিকে ওয়েলফেয়ার অফিসে ডিএসের সঙ্গে দুই ব্যক্তিকে কথা বলতে দেখে উপস্থিত কয়েকজন তাদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে তাদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় আনন্দ মন্ডল নিজেকে ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার হিসেবে পরিচয় দেন এবং জানান, কারখানায় ব্যবসায়িক বিষয়ে আলোচনার জন্য ডিএসের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন।

জেলা বিএনপির নেতাদের উপস্থিতিতে আনন্দ মন্ডল রাজবাড়ী জেলা বিএনপির আহ্বায়কের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলিয়ে দেন। তবে তিনি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত হলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কেউ নন বলে জানানো হয়।

এ সময় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আরমান হোসেন দাবি করেন, এর আগেও পার্বতীপুর রেলওয়ের কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানায় (কেলোকা) আনন্দ মন্ডল ভিন্ন পরিচয় দিয়েছিলেন। পরে তার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

পরে স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দুইজনকে সৈয়দপুর থানায় নিয়ে যায়।

আনন্দ মন্ডল জানান, তিনি রেলওয়ের ঠিকাদারি কাজের বিষয়ে আলোচনার জন্য সৈয়দপুরে এসেছেন। তিনি দাবি করেন, তার আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং বিএনপির অনেক নেতাই তাকে চেনেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, কারখানায় নতুন ক্যারেজ শপ স্থাপন সংক্রান্ত কাজের বিষয়েই ডিএসের সঙ্গে কথা বলতে এসেছিলেন।

অন্যদিকে মাসুম বিল্লাহ সাজিদ জানান, তিনি কোম্পানির নির্দেশে আনন্দ মন্ডলের সঙ্গে এসেছেন। এর আগে কখনো সৈয়দপুরে আসেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ডিএস শাহ সুফী নুর মুহাম্মদ বলেন, আনন্দ মন্ডল পূর্ব পরিচিত একজন ঠিকাদার। তবে তিনি ফোনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লোক পরিচয় দেওয়ায় বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা হয়েছে। পরে পরিস্থিতির কারণে পুলিশ তাদের নিয়ে গেছে।

সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা জানান, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে তাদের থানায় আনা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

#সৈয়দপুর #প্রধানমন্ত্রীর #তত্ত্বাবধায়ক

চেকপোস্ট

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচয়ে রেল কারখানায়, সৈয়দপুরে ২ জন আটক

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) এর সঙ্গে দেখা করতে আসা দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ২ নম্বর গেট সংলগ্ন ওয়েলফেয়ার কার্যালয় থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— রাজবাড়ী জেলার ঝড়ু মন্ডলের ছেলে আনন্দ মন্ডল (৪৫) এবং বরিশালের সামসুল হকের ছেলে মাসুম বিল্লাহ সাজিদ (৩০)।

আটকের পর আনন্দ মন্ডল নিজেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অথৈ এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান এবং মাসুম বিল্লাহ সাজিদকে মেসার্স এম নুরুদ্দিন কোম্পানির অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দেন।

ঘটনার সূত্রে জানা যায়, আনন্দ মন্ডল সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ডিএস শাহ সুফী নুর মুহাম্মদের মোবাইলে ফোন করে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আসা ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন। পরে ডিএস কারখানার ২ নম্বর গেটের পাশে ওয়েলফেয়ার অফিসে গিয়ে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

সেসময় কারখানায় শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিনিধি নির্বাচন চলছিল। তাই ডিএস তাদের নিজ কার্যালয়ে না নিয়ে ওয়েলফেয়ার অফিসে বসেন বলে জানা গেছে।

এদিকে ওয়েলফেয়ার অফিসে ডিএসের সঙ্গে দুই ব্যক্তিকে কথা বলতে দেখে উপস্থিত কয়েকজন তাদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে তাদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় আনন্দ মন্ডল নিজেকে ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার হিসেবে পরিচয় দেন এবং জানান, কারখানায় ব্যবসায়িক বিষয়ে আলোচনার জন্য ডিএসের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন।

জেলা বিএনপির নেতাদের উপস্থিতিতে আনন্দ মন্ডল রাজবাড়ী জেলা বিএনপির আহ্বায়কের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলিয়ে দেন। তবে তিনি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত হলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কেউ নন বলে জানানো হয়।

এ সময় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আরমান হোসেন দাবি করেন, এর আগেও পার্বতীপুর রেলওয়ের কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানায় (কেলোকা) আনন্দ মন্ডল ভিন্ন পরিচয় দিয়েছিলেন। পরে তার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

পরে স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দুইজনকে সৈয়দপুর থানায় নিয়ে যায়।

আনন্দ মন্ডল জানান, তিনি রেলওয়ের ঠিকাদারি কাজের বিষয়ে আলোচনার জন্য সৈয়দপুরে এসেছেন। তিনি দাবি করেন, তার আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং বিএনপির অনেক নেতাই তাকে চেনেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, কারখানায় নতুন ক্যারেজ শপ স্থাপন সংক্রান্ত কাজের বিষয়েই ডিএসের সঙ্গে কথা বলতে এসেছিলেন।

অন্যদিকে মাসুম বিল্লাহ সাজিদ জানান, তিনি কোম্পানির নির্দেশে আনন্দ মন্ডলের সঙ্গে এসেছেন। এর আগে কখনো সৈয়দপুরে আসেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ডিএস শাহ সুফী নুর মুহাম্মদ বলেন, আনন্দ মন্ডল পূর্ব পরিচিত একজন ঠিকাদার। তবে তিনি ফোনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লোক পরিচয় দেওয়ায় বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা হয়েছে। পরে পরিস্থিতির কারণে পুলিশ তাদের নিয়ে গেছে।

সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা জানান, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে তাদের থানায় আনা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত