মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

আত্মসাতের অভিযোগে একাধিক তদন্ত

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার হয়েও খুলনার স্কুলের প্রধান শিক্ষক? তদন্তে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার হয়েও খুলনার স্কুলের প্রধান শিক্ষক? তদন্তে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
খুলনার স্কুলের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার। ছবি : চেকপোস্ট

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার খড়িয়া নবারুণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে দ্বৈত ভোটার পরিচয়, অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য ভারতের পশ্চিমবঙ্গে স্থায়ীভাবে বসবাস ও ভোটার তালিকাভুক্ত থাকলেও বাংলাদেশে সরকারি সুযোগ-সুবিধাসহ চাকরি করছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, দীপক চন্দ্র সরকারের নাম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার শক্তিগড় থানার বরশুল এলাকার ভোটার তালিকায় রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া ঢেমশাখালী গ্রামের ভোটার হিসেবেও তালিকাভুক্ত। অভিযোগে আরও বলা হয়, তার স্ত্রী, মেয়ে এবং দুই ভাইসহ পরিবারের একাধিক সদস্য ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা ও ভোটার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালে বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী ও আয়া নিয়োগে অনিয়ম এবং মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। তাদের দাবি, এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তত ৩০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রণোদনা অনুদানের অর্থ ব্যয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অনুদানের একটি অংশ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হলেও বাকি অর্থ ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। উপজেলা রিসোর্স অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং জেলা শিক্ষা অফিসার পৃথকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভোটার তালিকার তথ্য অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের নাম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকাতেও রয়েছে। প্রতিবেদনে এমপিও নীতিমালার আলোকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার সুপারিশ করা হয়।

পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে অভিযোগ উত্থাপনের কয়েক মাস পরও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার বলেন, আমি বাংলাদেশের নাগরিক। ভারতের ভোটার নই। নিয়োগ বাণিজ্য বা অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও সত্য নয়।

#খুলনা #পাইকগাছা #দ্বৈতনাগরিকত্ব

চেকপোস্ট

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


পশ্চিমবঙ্গের ভোটার হয়েও খুলনার স্কুলের প্রধান শিক্ষক? তদন্তে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার খড়িয়া নবারুণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে দ্বৈত ভোটার পরিচয়, অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য ভারতের পশ্চিমবঙ্গে স্থায়ীভাবে বসবাস ও ভোটার তালিকাভুক্ত থাকলেও বাংলাদেশে সরকারি সুযোগ-সুবিধাসহ চাকরি করছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, দীপক চন্দ্র সরকারের নাম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার শক্তিগড় থানার বরশুল এলাকার ভোটার তালিকায় রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া ঢেমশাখালী গ্রামের ভোটার হিসেবেও তালিকাভুক্ত। অভিযোগে আরও বলা হয়, তার স্ত্রী, মেয়ে এবং দুই ভাইসহ পরিবারের একাধিক সদস্য ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা ও ভোটার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালে বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী ও আয়া নিয়োগে অনিয়ম এবং মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। তাদের দাবি, এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তত ৩০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রণোদনা অনুদানের অর্থ ব্যয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অনুদানের একটি অংশ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হলেও বাকি অর্থ ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। উপজেলা রিসোর্স অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং জেলা শিক্ষা অফিসার পৃথকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভোটার তালিকার তথ্য অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের নাম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকাতেও রয়েছে। প্রতিবেদনে এমপিও নীতিমালার আলোকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার সুপারিশ করা হয়।

পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে অভিযোগ উত্থাপনের কয়েক মাস পরও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার বলেন, আমি বাংলাদেশের নাগরিক। ভারতের ভোটার নই। নিয়োগ বাণিজ্য বা অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও সত্য নয়।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত