বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত

নাসিরনগরে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট, লাগামহীন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ মানুষ

নাসিরনগরে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট, লাগামহীন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ মানুষ
ছবি : চেকপোস্ট

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ইন্টারনেটনির্ভর কাজসহ বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নাসিরনগর উপজেলা সদরে তুলনামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি ভয়াবহ। অনেক এলাকায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে, আবার কোথাও টানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে ফ্রিজ, টেলিভিশন, ফ্যানসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। লোডশেডিং চললেও বিদ্যুৎ বিল কমছে না, বরং অনেক গ্রাহকের বিল আগের চেয়ে বেড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে সামান্য বৃষ্টি বা মেঘ হলেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া নাসিরনগরে নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে দীর্ঘ সময়েও সংযোগ স্বাভাবিক না হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গ্রাহকরা। তারা দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

নাসিরনগর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. বাচ্চু মিয়া জানান, জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সংকটের কারণে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। নাসিরনগরে দিনে প্রায় ২২ মেগাওয়াট এবং রাতে প্রায় ২৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াটেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি ভুলতা-নরসিংদী ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইনের ওয়াই ফেজের কন্ডাক্টর ছিঁড়ে যাওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী এলাকায় সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। পাওয়ার গ্রিড কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন ডিজিএম মো. বাচ্চু মিয়া। তবে দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

#বিদ্যুৎ_সংকট #নাসিরনগর #লোডশেডিং_দুর্ভোগ

চেকপোস্ট

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬


নাসিরনগরে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট, লাগামহীন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ইন্টারনেটনির্ভর কাজসহ বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নাসিরনগর উপজেলা সদরে তুলনামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি ভয়াবহ। অনেক এলাকায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে, আবার কোথাও টানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে ফ্রিজ, টেলিভিশন, ফ্যানসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। লোডশেডিং চললেও বিদ্যুৎ বিল কমছে না, বরং অনেক গ্রাহকের বিল আগের চেয়ে বেড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে সামান্য বৃষ্টি বা মেঘ হলেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া নাসিরনগরে নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে দীর্ঘ সময়েও সংযোগ স্বাভাবিক না হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গ্রাহকরা। তারা দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

নাসিরনগর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. বাচ্চু মিয়া জানান, জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সংকটের কারণে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। নাসিরনগরে দিনে প্রায় ২২ মেগাওয়াট এবং রাতে প্রায় ২৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াটেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি ভুলতা-নরসিংদী ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইনের ওয়াই ফেজের কন্ডাক্টর ছিঁড়ে যাওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী এলাকায় সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। পাওয়ার গ্রিড কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন ডিজিএম মো. বাচ্চু মিয়া। তবে দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত