কবর জিয়ারত মানুষকে পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং দুনিয়ার মোহ ও গুনাহ থেকে দূরে থাকার প্রেরণা জোগায়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কবর জিয়ারতের অনুমতি দিয়েছেন এবং এটিকে আখেরাত স্মরণের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আমি তোমাদের কবর জিয়ারতে নিষেধ করেছিলাম, এখন থেকে কবর জিয়ারত করো। কারণ, তা দুনিয়াবিমুখতা এনে দেয় এবং আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৫৭১)
প্রশ্ন হলো—কবর জিয়ারতের এই অনুমতি কি শুধু পুরুষদের জন্য? নারীরা কি বাবা-মা, স্বামী, সন্তান বা আত্মীয়-স্বজনের কবর জিয়ারত করতে পারবেন?
ইসলামের প্রথম যুগে নারীদের কবর জিয়ারত নিষিদ্ধ ছিল। পরবর্তীতে তাদের কবর জিয়ারতের অনুমতি দেওয়া হয় বলে বিভিন্ন হাদিসে উল্লেখ পাওয়া যায়।
আয়েশা (রা.)-কে কবর জিয়ারতের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, প্রথমদিকে নবী (সা.) কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলেন; পরে কবর জিয়ারতের অনুমতি দেওয়া হয়। (সুনানে বায়হাকি, হাদিস: ৬৯৯৯)
এ ছাড়া নবীকন্যা ফাতেমা (রা.) প্রতি জুমাবারে তাঁর চাচা হামজা (রা.)-এর কবর জিয়ারত করতেন বলে বর্ণনা রয়েছে। (মুসতাদরাকে হাকিম, হাদিস: ১৩৯৬)
ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি শর্ত মেনে নারীরা কবর জিয়ারত করতে পারেন। শর্তগুলো হলো—
১. কবরস্থানে গিয়ে কান্নাকাটি বা বিলাপ করা যাবে না।
২. পূর্ণ পর্দা মেনে কবরস্থানে যেতে হবে।
৩. যাতায়াত নিরাপদ হতে হবে।
৪. ফিতনা বা কোনো ধরনের গুনাহে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকা যাবে না।
মাসিক আল-কাউসারের একটি ফতোয়াতেও শর্তসাপেক্ষে নারীদের কবর জিয়ারতকে জায়েজ বলা হয়েছে। তবে নিয়মিত কবরস্থানে না যাওয়াকে উত্তম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কবর জিয়ারতের সময় কবরবাসীদের সালাম ও তাদের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করা সুন্নত আমল। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পড়তেন—
السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ الْقُبُورِ
يَغْفِرُ اللَّهُ لَنَا وَلَكُمْ أَنْتُمْ سَلَفُنَا وَنَحْنُ بِالأَثَرِ
উচ্চারণ:
আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর, ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়ালাকুম। আন্তুম সালাফুনা, ওয়া নাহনু বিল আসার।
অর্থ:
হে কবরবাসী, তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ আমাদের ও তোমাদের ক্ষমা করুন। তোমরা আমাদের আগে কবরে গিয়েছ, আর আমরা তোমাদের পরে আসব।
(সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১০৫৩)
আরেকটি দোয়ায় এসেছে—
السَّلامُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤمِنينَ
وإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاحِقُونَ
উচ্চারণ:
আসসালামু আলাইকুম দারা কাওমিম মুমিনিন, ওয়া ইন্না ইনশাআল্লাহু বিকুম লাহিকুন।
অর্থ:
মুমিন এই ঘরবাসীদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। ইনশাআল্লাহ আমরা আপনাদের সঙ্গে মিলিত হব।
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৪৯)
কবর জিয়ারতের সময় প্রথমে কবরবাসীদের সালাম দিতে হবে এবং তাদের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করতে হবে। ইসালে সওয়াবের নিয়তে দরুদ শরিফ ও বিভিন্ন সুরা পাঠ করাও প্রচলিত আমল।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কবর জিয়ারতের মাধ্যমে মৃত্যু ও আখেরাতের কথা স্মরণ করা এবং আল্লাহর কাছে নিজের ও কবরবাসীদের ক্ষমা প্রার্থনা করা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
কবর জিয়ারত মানুষকে পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং দুনিয়ার মোহ ও গুনাহ থেকে দূরে থাকার প্রেরণা জোগায়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কবর জিয়ারতের অনুমতি দিয়েছেন এবং এটিকে আখেরাত স্মরণের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আমি তোমাদের কবর জিয়ারতে নিষেধ করেছিলাম, এখন থেকে কবর জিয়ারত করো। কারণ, তা দুনিয়াবিমুখতা এনে দেয় এবং আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৫৭১)
প্রশ্ন হলো—কবর জিয়ারতের এই অনুমতি কি শুধু পুরুষদের জন্য? নারীরা কি বাবা-মা, স্বামী, সন্তান বা আত্মীয়-স্বজনের কবর জিয়ারত করতে পারবেন?
ইসলামের প্রথম যুগে নারীদের কবর জিয়ারত নিষিদ্ধ ছিল। পরবর্তীতে তাদের কবর জিয়ারতের অনুমতি দেওয়া হয় বলে বিভিন্ন হাদিসে উল্লেখ পাওয়া যায়।
আয়েশা (রা.)-কে কবর জিয়ারতের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, প্রথমদিকে নবী (সা.) কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলেন; পরে কবর জিয়ারতের অনুমতি দেওয়া হয়। (সুনানে বায়হাকি, হাদিস: ৬৯৯৯)
এ ছাড়া নবীকন্যা ফাতেমা (রা.) প্রতি জুমাবারে তাঁর চাচা হামজা (রা.)-এর কবর জিয়ারত করতেন বলে বর্ণনা রয়েছে। (মুসতাদরাকে হাকিম, হাদিস: ১৩৯৬)
ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি শর্ত মেনে নারীরা কবর জিয়ারত করতে পারেন। শর্তগুলো হলো—
১. কবরস্থানে গিয়ে কান্নাকাটি বা বিলাপ করা যাবে না।
২. পূর্ণ পর্দা মেনে কবরস্থানে যেতে হবে।
৩. যাতায়াত নিরাপদ হতে হবে।
৪. ফিতনা বা কোনো ধরনের গুনাহে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকা যাবে না।
মাসিক আল-কাউসারের একটি ফতোয়াতেও শর্তসাপেক্ষে নারীদের কবর জিয়ারতকে জায়েজ বলা হয়েছে। তবে নিয়মিত কবরস্থানে না যাওয়াকে উত্তম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কবর জিয়ারতের সময় কবরবাসীদের সালাম ও তাদের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করা সুন্নত আমল। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পড়তেন—
السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ الْقُبُورِ
يَغْفِرُ اللَّهُ لَنَا وَلَكُمْ أَنْتُمْ سَلَفُنَا وَنَحْنُ بِالأَثَرِ
উচ্চারণ:
আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর, ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়ালাকুম। আন্তুম সালাফুনা, ওয়া নাহনু বিল আসার।
অর্থ:
হে কবরবাসী, তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ আমাদের ও তোমাদের ক্ষমা করুন। তোমরা আমাদের আগে কবরে গিয়েছ, আর আমরা তোমাদের পরে আসব।
(সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১০৫৩)
আরেকটি দোয়ায় এসেছে—
السَّلامُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤمِنينَ
وإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاحِقُونَ
উচ্চারণ:
আসসালামু আলাইকুম দারা কাওমিম মুমিনিন, ওয়া ইন্না ইনশাআল্লাহু বিকুম লাহিকুন।
অর্থ:
মুমিন এই ঘরবাসীদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। ইনশাআল্লাহ আমরা আপনাদের সঙ্গে মিলিত হব।
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৪৯)
কবর জিয়ারতের সময় প্রথমে কবরবাসীদের সালাম দিতে হবে এবং তাদের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করতে হবে। ইসালে সওয়াবের নিয়তে দরুদ শরিফ ও বিভিন্ন সুরা পাঠ করাও প্রচলিত আমল।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কবর জিয়ারতের মাধ্যমে মৃত্যু ও আখেরাতের কথা স্মরণ করা এবং আল্লাহর কাছে নিজের ও কবরবাসীদের ক্ষমা প্রার্থনা করা।
