নতুন আইনের আওতায় মামলা তদন্তের আইনগত ক্ষমতা পেয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। তবে বাহিনীটি স্বতন্ত্রভাবে সব মামলার তদন্ত করবে না। সরকার, আদালত কিংবা পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) যেসব মামলা এপিবিএনের কাছে ন্যস্ত করবেন, সেসব মামলার তদন্ত করবে তারা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান এপিবিএনের ডিআইজি (প্রশাসন) মোহাম্মদ শাহজাহান।
তিনি বলেন, নতুন আইনের ফলে এপিবিএনের তদন্ত কার্যক্রমের আইনগত ভিত্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও পার্বত্য এলাকার মতো দুর্গম স্থানে জেলা পুলিশের তদন্তে সীমাবদ্ধতা থাকলে সেখানে এপিবিএনকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।
ক্যাম্পে জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন একটি ব্যাটালিয়ন গঠনের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানান মোহাম্মদ শাহজাহান।
তিনি বলেন, ক্যাম্পে মাদক, অস্ত্র, অপহরণ, নারী নির্যাতন, মানবতাবিরোধী অপরাধ, মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তাঁর ভাষ্য, দুর্গম এলাকায় অপরাধ তদন্তে জেলা পুলিশের জন্য অনেক সময় জটিলতা তৈরি হয়। এ কারণে আগে সরকারের অনুমতি নিয়ে এপিবিএনের নিরস্ত্র সাব-ইনস্পেক্টরদের তদন্তকাজে যুক্ত করা হয়েছিল। নতুন আইনে এ কার্যক্রমের আইনগত ভিত্তি আরও পরিষ্কার হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিমানবন্দর বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অংশ হওয়ায় সেখানে পুলিশের এখতিয়ার রয়েছে। তবে নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বিমানবন্দরে সংঘটিত কোনো অপরাধের তদন্ত এপিবিএনের কাছে ন্যস্ত করা হলে নতুন আইনে তাতে বাধা নেই বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া তিনটি হ্যাকড ফেসবুক আইডি, দুটি হোয়াটসঅ্যাপ, দুটি ই-মেইল ও একটি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করা হয়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হয়েছে ৫৭২ জনকে।
বিকাশ ও নগদ প্রতারণার ঘটনায় ৭ লাখ ৪৯ হাজার ৭১৮ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
অস্ত্রবিরোধী অভিযানে দুটি ওয়ান শুটার গান, তিন রাউন্ড গুলি ও দুটি গুলির খোসা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ১৭টি মামলা করে ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের মুদ্রার পাশাপাশি ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭৬ টাকা বাংলাদেশি মুদ্রাও জব্দ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ৪৮৩টি মামলা করে ১৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
বিক্রয় নিষিদ্ধ রেশন সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় একটি মামলা ও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ক্যাম্প এলাকা থেকে বিভিন্ন চোরাচালানি ও অবৈধ পণ্যও জব্দ করা হয়।
একই সময়ে ক্যাম্প থেকে তিনটি নিখোঁজ শিশু ও ১৯ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া আগস্টে ৮, ১৪ ও ১৬ এপিবিএন মিলে মোট ৪৩টি জিআর ও সিআর মামলা করেছে বলে জানান মোহাম্মদ শাহজাহান।
মতবিনিময় সভায় এপিবিএনের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস ও ইন্টেলিজেন্স) নুরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার (ইন্টেলিজেন্স) আসমা বেগম রিটা এবং পুলিশ সুপার (ট্রেনিং, ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নতুন আইনের আওতায় মামলা তদন্তের আইনগত ক্ষমতা পেয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। তবে বাহিনীটি স্বতন্ত্রভাবে সব মামলার তদন্ত করবে না। সরকার, আদালত কিংবা পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) যেসব মামলা এপিবিএনের কাছে ন্যস্ত করবেন, সেসব মামলার তদন্ত করবে তারা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান এপিবিএনের ডিআইজি (প্রশাসন) মোহাম্মদ শাহজাহান।
তিনি বলেন, নতুন আইনের ফলে এপিবিএনের তদন্ত কার্যক্রমের আইনগত ভিত্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও পার্বত্য এলাকার মতো দুর্গম স্থানে জেলা পুলিশের তদন্তে সীমাবদ্ধতা থাকলে সেখানে এপিবিএনকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।
ক্যাম্পে জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন একটি ব্যাটালিয়ন গঠনের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানান মোহাম্মদ শাহজাহান।
তিনি বলেন, ক্যাম্পে মাদক, অস্ত্র, অপহরণ, নারী নির্যাতন, মানবতাবিরোধী অপরাধ, মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তাঁর ভাষ্য, দুর্গম এলাকায় অপরাধ তদন্তে জেলা পুলিশের জন্য অনেক সময় জটিলতা তৈরি হয়। এ কারণে আগে সরকারের অনুমতি নিয়ে এপিবিএনের নিরস্ত্র সাব-ইনস্পেক্টরদের তদন্তকাজে যুক্ত করা হয়েছিল। নতুন আইনে এ কার্যক্রমের আইনগত ভিত্তি আরও পরিষ্কার হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিমানবন্দর বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অংশ হওয়ায় সেখানে পুলিশের এখতিয়ার রয়েছে। তবে নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বিমানবন্দরে সংঘটিত কোনো অপরাধের তদন্ত এপিবিএনের কাছে ন্যস্ত করা হলে নতুন আইনে তাতে বাধা নেই বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া তিনটি হ্যাকড ফেসবুক আইডি, দুটি হোয়াটসঅ্যাপ, দুটি ই-মেইল ও একটি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করা হয়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হয়েছে ৫৭২ জনকে।
বিকাশ ও নগদ প্রতারণার ঘটনায় ৭ লাখ ৪৯ হাজার ৭১৮ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
অস্ত্রবিরোধী অভিযানে দুটি ওয়ান শুটার গান, তিন রাউন্ড গুলি ও দুটি গুলির খোসা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ১৭টি মামলা করে ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের মুদ্রার পাশাপাশি ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭৬ টাকা বাংলাদেশি মুদ্রাও জব্দ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ৪৮৩টি মামলা করে ১৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
বিক্রয় নিষিদ্ধ রেশন সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় একটি মামলা ও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ক্যাম্প এলাকা থেকে বিভিন্ন চোরাচালানি ও অবৈধ পণ্যও জব্দ করা হয়।
একই সময়ে ক্যাম্প থেকে তিনটি নিখোঁজ শিশু ও ১৯ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া আগস্টে ৮, ১৪ ও ১৬ এপিবিএন মিলে মোট ৪৩টি জিআর ও সিআর মামলা করেছে বলে জানান মোহাম্মদ শাহজাহান।
মতবিনিময় সভায় এপিবিএনের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস ও ইন্টেলিজেন্স) নুরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার (ইন্টেলিজেন্স) আসমা বেগম রিটা এবং পুলিশ সুপার (ট্রেনিং, ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
