দুবাইয়ে জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে ড্রাইভিং লাইসেন্সের চাহিদা। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) দুবাইয়ের সড়ক ও পরিবহন কর্তৃপক্ষ (আরটিএ) মোট ১ লাখ ১৯ হাজার ১৮৮টি ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করেছে।
আরটিএর তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে ৯৬ হাজার ৪০০টি সম্পূর্ণ নতুন লাইসেন্স। বাকি ২২ হাজার ৭৮৮টি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে অনুমোদিত কয়েকটি দেশের লাইসেন্সধারীদের, যারা নিজেদের লাইসেন্স সংযুক্ত আরব আমিরাতের লাইসেন্সে রূপান্তর করেছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি চালক পেশায় কর্মরত। এরই মধ্যে দুটি পৃথক কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে চালক নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠান দুটির পক্ষ থেকে মোট ৭ হাজার চালক নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে অন্তত ১ হাজার ৫ জন চালক আমিরাতে এসে ড্রাইভিং লাইসেন্স নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
চালকদের দক্ষতা আরও নির্ভুলভাবে যাচাই করতে স্মার্ট প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়াচ্ছে আরটিএ।
আন্তর্জাতিক সড়ক নিরাপত্তার মানদণ্ড অনুযায়ী অনুমোদিত ড্রাইভিং ইনস্টিটিউটগুলোর তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণও নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ডিফেন্সিভ ও প্রিভেন্টিভ ড্রাইভিংয়ে।
সম্ভাব্য ঝুঁকি আগে থেকে শনাক্ত করা, আকস্মিক পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নিরাপদভাবে গাড়ি চালানোর দক্ষতা শেখানো হচ্ছে প্রশিক্ষণার্থীদের।
উন্নত ড্রাইভিং সিমুলেটরের মাধ্যমে বৃষ্টি, কুয়াশা ও জরুরি পরিস্থিতির মতো চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে গাড়ি চালানোর অনুশীলনের সুযোগও রয়েছে।
চালকদের মূল্যায়ন আরও নির্ভুল ও নিরপেক্ষ করতে পরীক্ষাকেন্দ্রে এআই, ক্যামেরা ও স্মার্ট সেন্সর ব্যবহার করছে আরটিএ।
এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী পরীক্ষার্থীর দক্ষতা পর্যবেক্ষণ করা হয়। ফলে লাইসেন্স দেওয়ার আগে একজন চালক প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা মান পূরণ করেছেন কি না, তা নিশ্চিত করা সহজ হচ্ছে।
আরটিএর তথ্যমতে, বাংলাদেশের ড্রাইভিং লাইসেন্স সরাসরি দুবাইয়ের লাইসেন্সে রূপান্তর করা যায় না। বাংলাদেশ অনুমোদিত সরাসরি লাইসেন্স রূপান্তরের তালিকায় নেই। একই তালিকার বাইরে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, মিসর, শ্রীলঙ্কা ও নেপালসহ কয়েকটি দেশ।
তাই বাংলাদেশিদের সাধারণত নিবন্ধিত ড্রাইভিং ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে নতুন করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হয়।
আবুধাবিতে কর্মরত বাংলাদেশি ড্রাইভিং ইনস্ট্রাক্টর আব্দুল মান্নানের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বৈধ লাইসেন্স নিয়ে আমিরাতে গেলে কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
এ ক্ষেত্রে ট্রাফিক ফাইল খোলা, চোখের পরীক্ষা এবং ট্রাফিক আইন ও সড়কচিহ্নের ক্লাস সম্পন্ন করার পর সরাসরি রোড টেস্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। প্রথমবারেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া ছাড়াই লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এটিকে অনেকে ‘গোল্ডেন চান্স’ বলে থাকেন।
তবে অন্য কোনো অনুমোদিত দেশের যেমন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া বা কানাডার—বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেও সরাসরি রূপান্তরের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে সাধারণত লাইসেন্সটি কোন দেশ থেকে ইস্যু হয়েছে, সেটিই বিবেচনা করে আরটিএ; নাগরিকত্ব নয়।
দুবাইয়ে লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ট্রাফিক আইন, গতিসীমা, নিরাপদ দূরত্ব, পথচারীর অধিকার, লেন ব্যবহার ও ট্রাফিক সংকেত সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
মোবাইল ফোন ব্যবহারের মতো মনোযোগ বিচ্ছিন্নকারী আচরণের ঝুঁকি সম্পর্কেও সচেতন করা হয় চালকদের।
আরটিএর লক্ষ্য শুধু গাড়ি চালাতে সক্ষম চালক তৈরি করা নয়; বরং নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন চালক তৈরি করা।

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দুবাইয়ে জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে ড্রাইভিং লাইসেন্সের চাহিদা। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) দুবাইয়ের সড়ক ও পরিবহন কর্তৃপক্ষ (আরটিএ) মোট ১ লাখ ১৯ হাজার ১৮৮টি ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করেছে।
আরটিএর তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে ৯৬ হাজার ৪০০টি সম্পূর্ণ নতুন লাইসেন্স। বাকি ২২ হাজার ৭৮৮টি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে অনুমোদিত কয়েকটি দেশের লাইসেন্সধারীদের, যারা নিজেদের লাইসেন্স সংযুক্ত আরব আমিরাতের লাইসেন্সে রূপান্তর করেছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি চালক পেশায় কর্মরত। এরই মধ্যে দুটি পৃথক কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে চালক নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠান দুটির পক্ষ থেকে মোট ৭ হাজার চালক নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে অন্তত ১ হাজার ৫ জন চালক আমিরাতে এসে ড্রাইভিং লাইসেন্স নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
চালকদের দক্ষতা আরও নির্ভুলভাবে যাচাই করতে স্মার্ট প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়াচ্ছে আরটিএ।
আন্তর্জাতিক সড়ক নিরাপত্তার মানদণ্ড অনুযায়ী অনুমোদিত ড্রাইভিং ইনস্টিটিউটগুলোর তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণও নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ডিফেন্সিভ ও প্রিভেন্টিভ ড্রাইভিংয়ে।
সম্ভাব্য ঝুঁকি আগে থেকে শনাক্ত করা, আকস্মিক পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নিরাপদভাবে গাড়ি চালানোর দক্ষতা শেখানো হচ্ছে প্রশিক্ষণার্থীদের।
উন্নত ড্রাইভিং সিমুলেটরের মাধ্যমে বৃষ্টি, কুয়াশা ও জরুরি পরিস্থিতির মতো চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে গাড়ি চালানোর অনুশীলনের সুযোগও রয়েছে।
চালকদের মূল্যায়ন আরও নির্ভুল ও নিরপেক্ষ করতে পরীক্ষাকেন্দ্রে এআই, ক্যামেরা ও স্মার্ট সেন্সর ব্যবহার করছে আরটিএ।
এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী পরীক্ষার্থীর দক্ষতা পর্যবেক্ষণ করা হয়। ফলে লাইসেন্স দেওয়ার আগে একজন চালক প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা মান পূরণ করেছেন কি না, তা নিশ্চিত করা সহজ হচ্ছে।
আরটিএর তথ্যমতে, বাংলাদেশের ড্রাইভিং লাইসেন্স সরাসরি দুবাইয়ের লাইসেন্সে রূপান্তর করা যায় না। বাংলাদেশ অনুমোদিত সরাসরি লাইসেন্স রূপান্তরের তালিকায় নেই। একই তালিকার বাইরে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, মিসর, শ্রীলঙ্কা ও নেপালসহ কয়েকটি দেশ।
তাই বাংলাদেশিদের সাধারণত নিবন্ধিত ড্রাইভিং ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে নতুন করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হয়।
আবুধাবিতে কর্মরত বাংলাদেশি ড্রাইভিং ইনস্ট্রাক্টর আব্দুল মান্নানের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বৈধ লাইসেন্স নিয়ে আমিরাতে গেলে কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
এ ক্ষেত্রে ট্রাফিক ফাইল খোলা, চোখের পরীক্ষা এবং ট্রাফিক আইন ও সড়কচিহ্নের ক্লাস সম্পন্ন করার পর সরাসরি রোড টেস্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। প্রথমবারেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া ছাড়াই লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এটিকে অনেকে ‘গোল্ডেন চান্স’ বলে থাকেন।
তবে অন্য কোনো অনুমোদিত দেশের যেমন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া বা কানাডার—বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেও সরাসরি রূপান্তরের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে সাধারণত লাইসেন্সটি কোন দেশ থেকে ইস্যু হয়েছে, সেটিই বিবেচনা করে আরটিএ; নাগরিকত্ব নয়।
দুবাইয়ে লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ট্রাফিক আইন, গতিসীমা, নিরাপদ দূরত্ব, পথচারীর অধিকার, লেন ব্যবহার ও ট্রাফিক সংকেত সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
মোবাইল ফোন ব্যবহারের মতো মনোযোগ বিচ্ছিন্নকারী আচরণের ঝুঁকি সম্পর্কেও সচেতন করা হয় চালকদের।
আরটিএর লক্ষ্য শুধু গাড়ি চালাতে সক্ষম চালক তৈরি করা নয়; বরং নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন চালক তৈরি করা।
