বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

৬৪৮ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি
ছবি : চেকপোস্ট

টানা চার দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে কক্সবাজার জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নদ-নদী, খাল-বিল উপচে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি গবাদিপশু নিয়েও চরম দুর্ভোগে রয়েছেন স্থানীয়রা।

জেলার সদর, রামু, ঈদগাঁও, উখিয়া, টেকনাফ, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক সড়ক ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা, অতি ভারী বৃষ্টিপাত এবং পার্বত্য এলাকার পাহাড়ি ঢলে বাকখালী, মাতামুহুরী, রেজুখালসহ বিভিন্ন নদীর পানি ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খাল দখল, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে পানি দ্রুত নামতে পারছে না। এতে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

পানিবন্দি পরিবারগুলো বিশুদ্ধ পানির সংকট, খাদ্য সংকট ও রান্নার সমস্যায় ভুগছে। নিম্নআয়ের মানুষের কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে গোয়ালঘর ডুবে যাওয়ায় কৃষকরা গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। পশুখাদ্যের সংকটের পাশাপাশি রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ০১৮৭২-৬১৫১৩২ নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে উখিয়া, টেকনাফ, রামু, ঈদগাঁও ও কক্সবাজার সদর উপজেলার পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসন মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি আবু মোর্শেদ বলেন, দীর্ঘমেয়াদে নদী-খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পাহাড় কাটা বন্ধ এবং জলাধার সংরক্ষণ ছাড়া এ ধরনের দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন হবে।

#বন্যা #কক্সবাজার #পাহাড়িধল

চেকপোস্ট

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬


টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

টানা চার দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে কক্সবাজার জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নদ-নদী, খাল-বিল উপচে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি গবাদিপশু নিয়েও চরম দুর্ভোগে রয়েছেন স্থানীয়রা।

জেলার সদর, রামু, ঈদগাঁও, উখিয়া, টেকনাফ, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক সড়ক ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা, অতি ভারী বৃষ্টিপাত এবং পার্বত্য এলাকার পাহাড়ি ঢলে বাকখালী, মাতামুহুরী, রেজুখালসহ বিভিন্ন নদীর পানি ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খাল দখল, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে পানি দ্রুত নামতে পারছে না। এতে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

পানিবন্দি পরিবারগুলো বিশুদ্ধ পানির সংকট, খাদ্য সংকট ও রান্নার সমস্যায় ভুগছে। নিম্নআয়ের মানুষের কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে গোয়ালঘর ডুবে যাওয়ায় কৃষকরা গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। পশুখাদ্যের সংকটের পাশাপাশি রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ০১৮৭২-৬১৫১৩২ নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে উখিয়া, টেকনাফ, রামু, ঈদগাঁও ও কক্সবাজার সদর উপজেলার পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসন মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি আবু মোর্শেদ বলেন, দীর্ঘমেয়াদে নদী-খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পাহাড় কাটা বন্ধ এবং জলাধার সংরক্ষণ ছাড়া এ ধরনের দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন হবে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত