মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

আরও

ধ্বংসে জারি হলো নতুন স্থায়ী আদেশ

চোরাচালান পণ্য নিষ্পত্তিতে নতুন নিয়ম, এনবিআরের বড় সিদ্ধান্ত

চোরাচালান পণ্য নিষ্পত্তিতে নতুন নিয়ম, এনবিআরের বড় সিদ্ধান্ত
ছবি : সংগৃহীত

চোরাচালান, আমদানি-রপ্তানি আইন লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগে আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্য নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নতুন স্থায়ী আদেশ জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

নতুন আদেশে নিলামের পাশাপাশি নির্দিষ্ট শ্রেণির পণ্য সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে বিক্রি, হস্তান্তর এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ধ্বংস করার বিস্তারিত পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) এনবিআরের কাস্টমস শাখা থেকে ‘অখালাসকৃত বা চোরাচালানের অভিযোগে আটক ও বাজেয়াপ্তকৃত পণ্যের নিষ্পত্তি পদ্ধতি সংক্রান্ত স্থায়ী আদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়।

আদেশে স্বাক্ষর করেন এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব। এর মাধ্যমে ২০২৫ সালের ২ জুলাই জারি করা এ-সংক্রান্ত আগের স্থায়ী আদেশ বাতিল করা হয়েছে।

নতুন আদেশটি কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা হয়েছে। এতে পচনশীল পণ্যের দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আগের সংশ্লিষ্ট এসআরও কার্যকর থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আটক পণ্য জমা ও সংরক্ষণে নতুন নিয়ম

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কাস্টমস, বিজিবি, পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কোস্টগার্ড ও আনসারসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আটক পণ্য নিকটস্থ কাস্টমস গুদামে জমা দিতে হবে।

মূল্যবান ধাতু, হীরা, জুয়েলারি ও বৈদেশিক মুদ্রার ক্ষেত্রে স্বীকৃত যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের সনদ প্রয়োজন হবে। সনদ না পাওয়া গেলে এসব পণ্য সাময়িকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখা যাবে।

সাধারণ পণ্য সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এবং মূল্যবান ধাতু ও বৈদেশিক মুদ্রা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত গ্রহণ করা হবে। পচনশীল পণ্য প্রয়োজনে অফিস সময়ের পরও গ্রহণ করা যাবে।

দাবিদারের জন্য ৭ দিনের সুযোগ

আটক পণ্য নিষ্পত্তির আগে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, এজেন্ট বা দাবিদারকে দাবি জানানোর সুযোগ দিতে সাত কর্মদিবসের নোটিশ দিতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি প্রমাণ করতে পারলে এবং প্রযোজ্য শুল্ক-কর ও জরিমানা পরিশোধ করলে পণ্য ছাড়ের সুযোগ থাকবে। অন্যথায় আইন অনুযায়ী পণ্য রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে নিষ্পত্তি করা হবে।

ই-নিলামকে দেওয়া হয়েছে অগ্রাধিকার

নতুন আদেশে সাধারণ পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে এনবিআরের ই-নিলাম বা লাইভ ই-অকশন ব্যবস্থাকে প্রধান পদ্ধতি হিসেবে রাখা হয়েছে।

তবে ই-নিলাম সম্ভব না হলে প্রকাশ্য, তাৎক্ষণিক বা সিল্ড নিলামের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির সুযোগ থাকবে।

নিলামে অংশ নিতে দরদাতাকে ট্রেড লাইসেন্স, মূসক নিবন্ধন, টিআইএন ও আয়কর রিটার্নের প্রয়োজনীয় কাগজ জমা দিতে হবে। ব্যক্তিশ্রেণির ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ নির্ধারিত নথি লাগবে।

নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সরাসরি বিক্রি বা হস্তান্তর

নতুন নিয়মে কিছু পণ্য নিলাম ছাড়াই নির্দিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার কাছে বিক্রি বা হস্তান্তরের সুযোগ রাখা হয়েছে।

যেমন—খাদ্যপণ্য টিসিবির কাছে, মূল্যবান ধাতু ও বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকে, প্রত্নসম্পদ জাদুঘরে এবং প্রাণী বা প্রাণীর দেহাবশেষ বন বিভাগের কাছে দেওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া বিস্ফোরক, আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা যাবে।

বিক্রি না হলে ধ্বংসের ব্যবস্থা

নিলামে বিক্রি সম্ভব নয় এমন নিষিদ্ধ, নিয়ন্ত্রিত, নিম্নমানের বা ধ্বংসযোগ্য পণ্য বিশেষায়িত সংস্থার মাধ্যমে ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় করার বিধান রাখা হয়েছে।

পণ্য ধ্বংসের জন্য কাস্টমস, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বন্দর কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হবে।

নিলাম কার্যক্রমে কঠোর নজরদারি

নতুন আদেশ অনুযায়ী, নিলামের আগে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পাশাপাশি এনবিআর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশ করতে হবে।

নিলামে অনিয়ম, জাল তথ্য, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা শর্ত ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

এনবিআর জানিয়েছে, নতুন স্থায়ী আদেশের মাধ্যমে আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্য নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, দ্রুততা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।

#চোরাচালান #এনবিআর #নিলামনীতি

চেকপোস্ট

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


চোরাচালান পণ্য নিষ্পত্তিতে নতুন নিয়ম, এনবিআরের বড় সিদ্ধান্ত

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

চোরাচালান, আমদানি-রপ্তানি আইন লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগে আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্য নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নতুন স্থায়ী আদেশ জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

নতুন আদেশে নিলামের পাশাপাশি নির্দিষ্ট শ্রেণির পণ্য সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে বিক্রি, হস্তান্তর এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ধ্বংস করার বিস্তারিত পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) এনবিআরের কাস্টমস শাখা থেকে ‘অখালাসকৃত বা চোরাচালানের অভিযোগে আটক ও বাজেয়াপ্তকৃত পণ্যের নিষ্পত্তি পদ্ধতি সংক্রান্ত স্থায়ী আদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়।

আদেশে স্বাক্ষর করেন এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব। এর মাধ্যমে ২০২৫ সালের ২ জুলাই জারি করা এ-সংক্রান্ত আগের স্থায়ী আদেশ বাতিল করা হয়েছে।

নতুন আদেশটি কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা হয়েছে। এতে পচনশীল পণ্যের দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আগের সংশ্লিষ্ট এসআরও কার্যকর থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আটক পণ্য জমা ও সংরক্ষণে নতুন নিয়ম

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কাস্টমস, বিজিবি, পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কোস্টগার্ড ও আনসারসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আটক পণ্য নিকটস্থ কাস্টমস গুদামে জমা দিতে হবে।

মূল্যবান ধাতু, হীরা, জুয়েলারি ও বৈদেশিক মুদ্রার ক্ষেত্রে স্বীকৃত যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের সনদ প্রয়োজন হবে। সনদ না পাওয়া গেলে এসব পণ্য সাময়িকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখা যাবে।

সাধারণ পণ্য সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এবং মূল্যবান ধাতু ও বৈদেশিক মুদ্রা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত গ্রহণ করা হবে। পচনশীল পণ্য প্রয়োজনে অফিস সময়ের পরও গ্রহণ করা যাবে।

দাবিদারের জন্য ৭ দিনের সুযোগ

আটক পণ্য নিষ্পত্তির আগে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, এজেন্ট বা দাবিদারকে দাবি জানানোর সুযোগ দিতে সাত কর্মদিবসের নোটিশ দিতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি প্রমাণ করতে পারলে এবং প্রযোজ্য শুল্ক-কর ও জরিমানা পরিশোধ করলে পণ্য ছাড়ের সুযোগ থাকবে। অন্যথায় আইন অনুযায়ী পণ্য রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে নিষ্পত্তি করা হবে।

ই-নিলামকে দেওয়া হয়েছে অগ্রাধিকার

নতুন আদেশে সাধারণ পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে এনবিআরের ই-নিলাম বা লাইভ ই-অকশন ব্যবস্থাকে প্রধান পদ্ধতি হিসেবে রাখা হয়েছে।

তবে ই-নিলাম সম্ভব না হলে প্রকাশ্য, তাৎক্ষণিক বা সিল্ড নিলামের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির সুযোগ থাকবে।

নিলামে অংশ নিতে দরদাতাকে ট্রেড লাইসেন্স, মূসক নিবন্ধন, টিআইএন ও আয়কর রিটার্নের প্রয়োজনীয় কাগজ জমা দিতে হবে। ব্যক্তিশ্রেণির ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ নির্ধারিত নথি লাগবে।

নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সরাসরি বিক্রি বা হস্তান্তর

নতুন নিয়মে কিছু পণ্য নিলাম ছাড়াই নির্দিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার কাছে বিক্রি বা হস্তান্তরের সুযোগ রাখা হয়েছে।

যেমন—খাদ্যপণ্য টিসিবির কাছে, মূল্যবান ধাতু ও বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকে, প্রত্নসম্পদ জাদুঘরে এবং প্রাণী বা প্রাণীর দেহাবশেষ বন বিভাগের কাছে দেওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া বিস্ফোরক, আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা যাবে।

বিক্রি না হলে ধ্বংসের ব্যবস্থা

নিলামে বিক্রি সম্ভব নয় এমন নিষিদ্ধ, নিয়ন্ত্রিত, নিম্নমানের বা ধ্বংসযোগ্য পণ্য বিশেষায়িত সংস্থার মাধ্যমে ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় করার বিধান রাখা হয়েছে।

পণ্য ধ্বংসের জন্য কাস্টমস, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বন্দর কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হবে।

নিলাম কার্যক্রমে কঠোর নজরদারি

নতুন আদেশ অনুযায়ী, নিলামের আগে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পাশাপাশি এনবিআর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশ করতে হবে।

নিলামে অনিয়ম, জাল তথ্য, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা শর্ত ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

এনবিআর জানিয়েছে, নতুন স্থায়ী আদেশের মাধ্যমে আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্য নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, দ্রুততা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত