মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

কৃষি ব্যাংকের ঋণ না পাওয়ায় সংকটে দেউন্দি টি কোম্পানি, বকেয়া মজুরি ও পূজা বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

কৃষি ব্যাংকের ঋণ না পাওয়ায় সংকটে দেউন্দি টি কোম্পানি, বকেয়া মজুরি ও পূজা বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ
ছবি: চেকপোস্ট


হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে দেউন্দি টি কোম্পানি। এতে চা শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও দুর্গাপূজার বোনাস পরিশোধ করতে পারছে না বাগান কর্তৃপক্ষ। এ পরিস্থিতিতে বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেছেন কোম্পানির অধীন তিনটি চা বাগানের প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক।

রোববার (১২ অক্টোবর) সকাল থেকে দেউন্দি টি কোম্পানির অধীন লালচান্দ, গিলানি ও দেউন্দি চা বাগানের শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে কোম্পানির কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হন। এ সময় তাঁরা বকেয়া মজুরি ও দুর্গাপূজার বোনাস পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পাওনা পরিশোধ না করা পর্যন্ত কাজে যোগ দেবেন না বলে জানান শ্রমিকেরা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সাপ্তাহিক মজুরি, রেশন ও উৎসবের বোনাস বকেয়া রয়েছে। সামনে দুর্গাপূজা থাকলেও এখনো বোনাস পাওয়ার নিশ্চয়তা মেলেনি। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।

শ্রমিক নেতা প্রদীপ বোনার্জী বলেন, “আমরা দিন আনি দিন খাই। মজুরি না পেলে সংসার চলবে কীভাবে? সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বকেয়া মজুরি ও দুর্গাপূজার বোনাস না পেলে আমাদের পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, গত ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের চা শিল্পের বিকাশ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্গাপূজা এলেই কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এবারও ঋণ না পাওয়ায় বাগান বন্ধের কর্মসূচি দেওয়ার কথা জানান এই শ্রমিক নেতা।

এ বিষয়ে দেউন্দি টি কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজার দেবাশীষ দেব রায় বলেন, “বাগানটি চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে। কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ায় শ্রমিকদের মজুরি ও পূজার বোনাস দেওয়া যাচ্ছে না। আমরা শ্রমিকদের মজুরি ও পূজার বোনাস পরিশোধের চেষ্টা করছি।”

ঋণসংকটের কারণে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাগানের উৎপাদন কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে শ্রমিকদের জীবিকা ও চা উৎপাদন—উভয় ক্ষেত্রেই সংকট আরও বাড়তে পারে।

চেকপোস্ট

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


কৃষি ব্যাংকের ঋণ না পাওয়ায় সংকটে দেউন্দি টি কোম্পানি, বকেয়া মজুরি ও পূজা বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image


হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে দেউন্দি টি কোম্পানি। এতে চা শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও দুর্গাপূজার বোনাস পরিশোধ করতে পারছে না বাগান কর্তৃপক্ষ। এ পরিস্থিতিতে বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেছেন কোম্পানির অধীন তিনটি চা বাগানের প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক।

রোববার (১২ অক্টোবর) সকাল থেকে দেউন্দি টি কোম্পানির অধীন লালচান্দ, গিলানি ও দেউন্দি চা বাগানের শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে কোম্পানির কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হন। এ সময় তাঁরা বকেয়া মজুরি ও দুর্গাপূজার বোনাস পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পাওনা পরিশোধ না করা পর্যন্ত কাজে যোগ দেবেন না বলে জানান শ্রমিকেরা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সাপ্তাহিক মজুরি, রেশন ও উৎসবের বোনাস বকেয়া রয়েছে। সামনে দুর্গাপূজা থাকলেও এখনো বোনাস পাওয়ার নিশ্চয়তা মেলেনি। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।

শ্রমিক নেতা প্রদীপ বোনার্জী বলেন, “আমরা দিন আনি দিন খাই। মজুরি না পেলে সংসার চলবে কীভাবে? সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বকেয়া মজুরি ও দুর্গাপূজার বোনাস না পেলে আমাদের পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, গত ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের চা শিল্পের বিকাশ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্গাপূজা এলেই কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এবারও ঋণ না পাওয়ায় বাগান বন্ধের কর্মসূচি দেওয়ার কথা জানান এই শ্রমিক নেতা।

এ বিষয়ে দেউন্দি টি কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজার দেবাশীষ দেব রায় বলেন, “বাগানটি চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে। কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ায় শ্রমিকদের মজুরি ও পূজার বোনাস দেওয়া যাচ্ছে না। আমরা শ্রমিকদের মজুরি ও পূজার বোনাস পরিশোধের চেষ্টা করছি।”

ঋণসংকটের কারণে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাগানের উৎপাদন কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে শ্রমিকদের জীবিকা ও চা উৎপাদন—উভয় ক্ষেত্রেই সংকট আরও বাড়তে পারে।



চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত