সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

বিশ্ব

ডলার-ইয়েন বাজারে

ইয়েন বাঁচাতে মাঠে যুক্তরাষ্ট্র, জাপানের মুদ্রায় বড় উত্থান

ইয়েন বাঁচাতে মাঠে যুক্তরাষ্ট্র, জাপানের মুদ্রায় বড় উত্থান
ইয়েনের দরপতন ঠেকাতে যৌথভাবে কাজ করছে টোকিও ও ওয়াশিংটন। ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের দুর্বল অবস্থান কাটিয়ে জাপানি মুদ্রা ইয়েনকে শক্তিশালী করতে যৌথ পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান। ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়া ইয়েনের দরপতন ঠেকাতে দুই দেশ মুদ্রাবাজারে সক্রিয় হয়েছে।

চীনা আর্থিক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘উইন্ড’-এর তথ্য অনুযায়ী, যৌথ উদ্যোগের পর সোমবার (৩ আগস্ট) লেনদেনের শুরুতে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মূল্য বেড়ে দাঁড়ায় ১৫৫ দশমিক ২৩-এ, যা চলতি বছরের মে মাসের পর মুদ্রাটির সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, প্রয়োজনে ৫ বিলিয়ন থেকে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমমূল্যের ইয়েন কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পদক্ষেপকে দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

কেন ইয়েনকে শক্তিশালী করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র?

বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েনের পতন শুধু জাপানের জন্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক বাজারের জন্যও চাপ তৈরি করছিল। বিশেষ করে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের বাজারে অস্থিরতা কমানো ছিল ওয়াশিংটনের অন্যতম লক্ষ্য।

সাধারণত ইয়েনের মান বাড়াতে জাপানকে মার্কিন ডলারের সম্পদ বিক্রি করে ইয়েন কিনতে হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডে বিক্রির চাপ তৈরি হতে পারে। তাই বাজারে ভারসাম্য রাখতে যুক্তরাষ্ট্রও এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

ভবিষ্যতে কী হতে পারে?

বিশ্লেষকদের ধারণা, ইয়েন আবার বড় ধরনের চাপের মুখে পড়লে এমন যৌথ উদ্যোগ দেখা যেতে পারে। তবে নিয়মিতভাবে মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করা ব্যয়বহুল হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে এটি চালিয়ে যাওয়া কঠিন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সুদের হারের পার্থক্য এখনো বড় হওয়ায় ইয়েনের স্থায়ী শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতি ডলারের বিপরীতে ইয়েন ১৫৫ থেকে ১৬০-এর মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।

বিশ্ববাজারে প্রভাব

ইয়েন শক্তিশালী হলেও এবার বিশ্ব শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ বিনিয়োগকারীরা আগের তুলনায় বেশি প্রস্তুত রয়েছে।

চীনের বাজারে সাময়িক চাপ তৈরি হতে পারে, তবে মূল ভূখণ্ডের শেয়ারবাজারে প্রভাব সীমিত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে জাপানে পণ্য রপ্তানিকারক চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ইয়েনের শক্তিশালী অবস্থান থেকে লাভবান হতে পারে।

#বিশ্বঅর্থনীতি #জাপানি_ইয়েন #মুদ্রাবাজার

চেকপোস্ট

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬


ইয়েন বাঁচাতে মাঠে যুক্তরাষ্ট্র, জাপানের মুদ্রায় বড় উত্থান

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিনের দুর্বল অবস্থান কাটিয়ে জাপানি মুদ্রা ইয়েনকে শক্তিশালী করতে যৌথ পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান। ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়া ইয়েনের দরপতন ঠেকাতে দুই দেশ মুদ্রাবাজারে সক্রিয় হয়েছে।

চীনা আর্থিক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘উইন্ড’-এর তথ্য অনুযায়ী, যৌথ উদ্যোগের পর সোমবার (৩ আগস্ট) লেনদেনের শুরুতে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মূল্য বেড়ে দাঁড়ায় ১৫৫ দশমিক ২৩-এ, যা চলতি বছরের মে মাসের পর মুদ্রাটির সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, প্রয়োজনে ৫ বিলিয়ন থেকে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমমূল্যের ইয়েন কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পদক্ষেপকে দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

কেন ইয়েনকে শক্তিশালী করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র?

বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েনের পতন শুধু জাপানের জন্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক বাজারের জন্যও চাপ তৈরি করছিল। বিশেষ করে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের বাজারে অস্থিরতা কমানো ছিল ওয়াশিংটনের অন্যতম লক্ষ্য।

সাধারণত ইয়েনের মান বাড়াতে জাপানকে মার্কিন ডলারের সম্পদ বিক্রি করে ইয়েন কিনতে হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডে বিক্রির চাপ তৈরি হতে পারে। তাই বাজারে ভারসাম্য রাখতে যুক্তরাষ্ট্রও এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

ভবিষ্যতে কী হতে পারে?

বিশ্লেষকদের ধারণা, ইয়েন আবার বড় ধরনের চাপের মুখে পড়লে এমন যৌথ উদ্যোগ দেখা যেতে পারে। তবে নিয়মিতভাবে মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করা ব্যয়বহুল হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে এটি চালিয়ে যাওয়া কঠিন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সুদের হারের পার্থক্য এখনো বড় হওয়ায় ইয়েনের স্থায়ী শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতি ডলারের বিপরীতে ইয়েন ১৫৫ থেকে ১৬০-এর মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।

বিশ্ববাজারে প্রভাব

ইয়েন শক্তিশালী হলেও এবার বিশ্ব শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ বিনিয়োগকারীরা আগের তুলনায় বেশি প্রস্তুত রয়েছে।

চীনের বাজারে সাময়িক চাপ তৈরি হতে পারে, তবে মূল ভূখণ্ডের শেয়ারবাজারে প্রভাব সীমিত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে জাপানে পণ্য রপ্তানিকারক চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ইয়েনের শক্তিশালী অবস্থান থেকে লাভবান হতে পারে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত