হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মী ও ছাত্রদলের মধ্যে
সংঘর্ষের ঘটনার পর এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুখ খুলেছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। ছাত্রদলের করা লিখিত অভিযোগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তিনি।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে দেওয়া ওই পোস্টে সারজিস আলম লিখেছেন, “আওয়ামী লীগ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি ভাঙচুরের মামলা দিয়েছিল। গতকাল হবিগঞ্জের সন্ত্রাসীদের আশ্রয়স্থল গউস এমপির নির্দেশে তার পালিত ছাত্রদল আমাদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের মামলা দিয়েছে! সেই পুরনো অভ্যাস। নিজেদের মতো সবাইকে ভাবলে তো হবে না! বি এ লিটল ডিগনিফাইড, প্লিজ!”
সারজিস আলম তার পোস্টে সরাসরি অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের করা অভিযোগটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত এবং এটি একটি সাজানো অভিযোগ। যদিও তিনি তার পোস্টে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন রোকন একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে হামলা, হত্যাচেষ্টা, ভাঙচুর এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা ও চারটি আইফোনসহ
পাঁচটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, শহীদ রিপন নীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও শোকসভায় যাওয়ার
পথে কোর্ট মসজিদ এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা
ঘটে। এ সময় ছাত্রদলের
কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন এবং তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা
ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন সারজিস আলম। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, অভিযোগটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই-বাছাই করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়নি।
এদিকে ছাত্রদলের লিখিত অভিযোগ এবং সারজিস আলমের ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে হবিগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকলেও অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে স্পষ্ট হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মী ও ছাত্রদলের মধ্যে
সংঘর্ষের ঘটনার পর এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুখ খুলেছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। ছাত্রদলের করা লিখিত অভিযোগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তিনি।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে দেওয়া ওই পোস্টে সারজিস আলম লিখেছেন, “আওয়ামী লীগ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি ভাঙচুরের মামলা দিয়েছিল। গতকাল হবিগঞ্জের সন্ত্রাসীদের আশ্রয়স্থল গউস এমপির নির্দেশে তার পালিত ছাত্রদল আমাদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের মামলা দিয়েছে! সেই পুরনো অভ্যাস। নিজেদের মতো সবাইকে ভাবলে তো হবে না! বি এ লিটল ডিগনিফাইড, প্লিজ!”
সারজিস আলম তার পোস্টে সরাসরি অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের করা অভিযোগটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত এবং এটি একটি সাজানো অভিযোগ। যদিও তিনি তার পোস্টে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন রোকন একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে হামলা, হত্যাচেষ্টা, ভাঙচুর এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা ও চারটি আইফোনসহ
পাঁচটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, শহীদ রিপন নীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও শোকসভায় যাওয়ার
পথে কোর্ট মসজিদ এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা
ঘটে। এ সময় ছাত্রদলের
কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন এবং তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা
ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন সারজিস আলম। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, অভিযোগটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই-বাছাই করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়নি।
এদিকে ছাত্রদলের লিখিত অভিযোগ এবং সারজিস আলমের ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে হবিগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকলেও অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে স্পষ্ট হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
