মানিকগঞ্জে হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু, ভুল চিকিৎসার অভিযোগে চাঞ্চল্য
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক।মৃত শিশুটির নাম রাতুল (পিতা: আজগর আলী), বাড়ি উপজেলার উথলী গ্রামে।পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২ এপ্রিল ঠান্ডা-জ্বরে আক্রান্ত হলে রাতুলকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১১ দিন চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরে সে।শিশুটির বাবা, পেশায় অটোচালক আজগর আলী জানান, ১৭ এপ্রিল বড় মেয়ের জ্বর হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ সময় ছেলের সামান্য জ্বর থাকায় তাকেও একই চিকিৎসকের কাছে দেখানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসক একই প্রেসক্রিপশনে দুই শিশুকে ওষুধ দেন।পরদিন রাতুলের জ্বর বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে ইনজেকশন দেওয়া হয়। ১৯ এপ্রিল আবার চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি শিশুটি ভালো আছে বলে জানান এবং পুনরায় ইনজেকশন দেন। তবে বাসায় ফেরার পরই শিশুটির অবস্থার অবনতি ঘটে বলে দাবি পরিবারের।পরে আবার চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে শিশুটির শরীরে ঘামাচির মতো দানা দেখা যায়। তখন চিকিৎসক হামের আশঙ্কা করে তাকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন।২০ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি করার পর চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার (রাত ২টার দিকে) শিশুটির মৃত্যু হয়।শিশুটির বাবা অভিযোগ করে বলেন, “সময়ের মধ্যে সঠিক চিকিৎসা না দেওয়ায় আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে।”তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হাবিবুর রহমান বলেন, “শিশুটির নিউমোনিয়ার উপসর্গ ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক জানান, সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসরাত জাহান ভূঁইয়া বলেন, “বিষয়টি জেনেছি। বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে পরে মন্তব্য করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।