মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

‘তেলাপোকা’ থেকে সংসদ চ্যালেঞ্জ, মোদির নতুন মাথাব্যথা!

ভারতে ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে শুরু হওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থী, বেকার তরুণ এবং প্রশ্নফাঁসে ক্ষতিগ্রস্ত লাখো মানুষের ক্ষোভকে সংগঠিত করে দলটি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।দলটির প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে। ভারতের প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্যে বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ বলে তুলনা করার পর ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) গঠন করেন।অল্প সময়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোটি কোটি অনুসারী পায় দলটি। তাদের মূল দাবি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পুনঃপরীক্ষা, মানসিক চাপ এবং আত্মহত্যার ঘটনাগুলো দেশজুড়ে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।জুন মাসে দিল্লিতে প্রথম বড় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে সিজেপি। পরে আন্দোলনে যোগ দেন লাদাখের প্রকৌশলী ও শিক্ষা অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক, যিনি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনশন শুরু করেন।ওয়াংচুককে পুলিশ হাসপাতালে নেওয়ার পর আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। সোমবার (২০ জুলাই) দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দিলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তরুণ রাস্তায় নেমে আসেন।পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটকে দিলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনায় বহু মানুষ আহত হন। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।এদিকে, দীর্ঘদিন উপেক্ষার পর সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠকে বসেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দাবিই মেনে নেওয়ার ঘোষণা আসেনি।সিজেপি জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তাদের দাবি, এটি শুধু প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে নয়; বরং ভারতের তরুণ প্রজন্মের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ন্যায়বিচারের লড়াই।

‘তেলাপোকা’ থেকে সংসদ চ্যালেঞ্জ, মোদির নতুন মাথাব্যথা!