দেশে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশ্লিষ্ট মূল তথ্য ফরম (ফরম-২) নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে সংরক্ষিত আছে। তবে বাকি প্রায় ৮ কোটি নাগরিকের তথ্য ফরমের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি)।সম্প্রতি এসব হারিয়ে যাওয়া বা অনুপস্থিত ফরমের খোঁজে মাঠে নেমেছে ইসি। কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, এই ৮ কোটি নাগরিক ২০০৭–০৮ সালে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন এবং সে সময় দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের এনআইডি প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে অনেক ক্ষেত্রে তথ্য ভুল থাকায় সংশোধনের প্রয়োজন হয়, তখনই ফরম-২ না পাওয়ার জটিলতা দেখা দেয়।ইসি সূত্র জানায়, ২০০৮ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা নির্বাচন অফিসে এসব ফরম সংরক্ষণ করা হয়েছিল। তবে সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করায় কোথাও নষ্ট হয়েছে, কোথাও বৃষ্টির পানি, উইপোকা বা ইঁদুরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আবার কিছু ফরম অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংস হয়েছে বলেও জানা গেছে।এ অবস্থায় ওই সময়ের ভোটারদের ফরম-২ স্ক্যানিং ও ডিজিটাল আকারে সার্ভারে আপলোডের কাজ ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।ইসি কর্মকর্তাদের মতে, ফরম-২ ছাড়া এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়া জটিল হয়ে যাচ্ছে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে ফি ছাড়াই সংশোধনের সুযোগ থাকছে, কিন্তু নথির অভাবে অনেক নাগরিক সেই সুবিধা পাচ্ছেন না।বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, অধিকাংশ উপজেলা অফিসে স্ক্যানিং কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে কত ফরম হারিয়েছে তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।সাতক্ষীরা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, জেলায় প্রায় ৩০ শতাংশ স্ক্যানিং শেষ হয়েছে এবং আনুমানিক ৮০ শতাংশ ফরম পাওয়া গেছে। তবে চূড়ান্ত হিসাব এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।শ্যামনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রায় দুই লাখ ফরম আপলোডের বাইরে ছিল, যার মধ্যে এক লাখ ৫৫ হাজারের মতো পাওয়া গেছে এবং বাকি অংশের কাজ চলছে।ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ বলেন, দীর্ঘদিনের এই ফরমগুলো সার্ভারে আপলোড করার কাজ চলমান রয়েছে এবং সার্ভারের সক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন জানান, ৮ কোটি নাগরিকের তথ্য স্ক্যান ও আপলোডের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে, তবে কতটা হারিয়েছে তা সম্পূর্ণ কাজ শেষে বোঝা যাবে।তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ