যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump চীনের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যে বড় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল ক্রয় বাড়াতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে China।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) Fox News-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয়, একটা বিষয়ে আমরা সমঝোতায় পৌঁছাব, আর তা হলো তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনতে রাজি হয়েছে।ট্রাম্প জানান, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে Texas, Louisiana ও Alaska থেকে চীনের উদ্দেশে জ্বালানিবাহী জাহাজ পাঠানো হবে। তিনি বলেন, তাদের জ্বালানিবাহী জাহাজ টেক্সাসে যাবে। আমরা টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও আলাস্কা থেকে চীনের উদ্দেশে জাহাজ পাঠানো শুরু করতে যাচ্ছি। এটা একটা বড় ব্যাপার।CNBC-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন যে, চীন Iran-কে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ না করতেও সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ও টোলমুক্ত রাখতে আগ্রহী বলেও উল্লেখ করেন তিনি।ট্রাম্প বলেন, শক্তির জন্য তাদের এক অতৃপ্ত ক্ষুধা রয়েছে, আর আমাদের রয়েছে অফুরন্ত শক্তি। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে Saudi Arabia ও Russia-এর সম্মিলিত উৎপাদনের চেয়েও বেশি তেল ও গ্যাস উৎপাদন করছে।মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে United States দৈনিক ২ কোটি ৩৬ লাখ ব্যারেল তেল ও অন্যান্য তরল জ্বালানি উৎপাদন করেছে। একই সময়ে সৌদি আরব উৎপাদন করেছে দৈনিক ১ কোটি ১২ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল এবং রাশিয়া ১ কোটি ৫ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল।বর্তমানে ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। দেশটি ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ কিনে থাকে। মার্কিন তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীন দৈনিক প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল আমদানি করেছে।এদিকে চীনে মার্কিন অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম রপ্তানি টানা দ্বিতীয় বছরের মতো কমেছে। গত বছর আগের বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ কমে তা ২৩৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ২০২৩ সালের তুলনায় ৯৫ শতাংশ কমে ২০২৫ সালে প্রায় ৮ দশমিক ৪ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে।অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার (১৫ মে) জানায়, দুই দেশের নেতাদের বৈঠকে একাধিক নতুন ঐকমত্য হয়েছে। এর মধ্যে আগামী তিন বছর ও তার পরেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ‘গঠনমূলক ও কৌশলগত স্থিতিশীলতা’ গড়ে তোলার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি তেল কেনার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি চীন।