শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

চুরি হচ্ছে পাম্প-জেনারেটরের তার

৪০ কোটি টাকার পানির প্রকল্প অচল, দিঘিতে লাখ টাকার মাছ শিকার

৪০ কোটি টাকার পানির প্রকল্প অচল, দিঘিতে লাখ টাকার মাছ শিকার
ভৈরব নদ থেকে পানি এনে ‘পচা দিঘি’-তে সংরক্ষণের পাইপলাইন। ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাট পৌরবাসীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে। প্রকল্পটি চালুর বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

উল্টো প্রকল্পের পানি সংরক্ষণের জন্য নির্ধারিত ‘পচা দিঘি’তে চলছে বাণিজ্যিক মাছ শিকার। এতে পানি সরবরাহ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের কাজ শেষ হয় ২০২১ সালের জুনে। এরপর কয়েক মাস পরীক্ষামূলকভাবে পানি সরবরাহ করা হলেও পরে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন অচল থাকায় ওভারহেড ট্যাংক, পাম্প হাউস, পাইপলাইন ও ট্রিটমেন্ট প্লান্টসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল সালাম তালুকদারের অভিযোগ, প্রকল্পটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় চোরেরা ভেতরের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও তার নিয়ে গেছে। ভবনের চাল ও জানালাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভৈরব নদ থেকে প্রায় চার কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি এনে পচা দিঘিতে সংরক্ষণ করার কথা ছিল। পরে সেই পানি ট্রিটমেন্ট প্লান্টে পরিশোধন করে ওভারহেড ট্যাংকের মাধ্যমে বাগেরহাট পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল।

তবে বর্তমানে ওই দিঘিতে মাছ চাষ ও বড়শি দিয়ে মাছ শিকারের আয়োজন হচ্ছে। গত ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর দিঘির চারপাশে ১০৮টি ঘাটে মাছ শিকারের ব্যবস্থা করা হয়। প্রতিটি ঘাটের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। এর মাত্র ১৪ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ও শুক্রবারও আবার মাছ শিকারের আয়োজন করা হয়েছে।

সরেজমিনে দিঘির পানিতে পলিথিন, খাবারের প্যাকেট, সিগারেটের প্যাকেট, পানির বোতল ও ওয়ানটাইম প্লেটসহ বিভিন্ন বর্জ্য ভাসতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ চাষ ও মাছ শিকারের কারণে দিঘির পানির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, আগে দিঘির পানি পরিষ্কার ছিল এবং মাছ দেখা যেত। বর্তমানে পানিতে দুর্গন্ধ থাকায় রান্নার কাজেও এটি ব্যবহার করা যায় না। মাছ শিকারের পরও পানি পরিষ্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার।

স্থানীয়দের দাবি, দিঘিটি দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়ার কারণে পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়েছে। দ্রুত প্রকল্পটি চালু করে দিঘিটিকে পানি সংরক্ষণের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পচা দিঘির ইজারাদার ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, সরকার পানি প্রকল্প চালু করার সিদ্ধান্ত নিলে তারা দিঘি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। তার দাবি, মাছ চাষে কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। তিনি জানান, প্রতিবছর সরকার মৎস্য চাষের জন্য ২১ লাখ টাকা রাজস্ব পায়।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, পচা দিঘিটি ছয় বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে পৌরসভার পানি সরবরাহ প্রকল্প চালুর স্বার্থে ইজারার মেয়াদ কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইজারার মেয়াদ কমানো সম্ভব হলে পানি সরবরাহ প্রকল্পটি শুরু করা যাবে। বিষয়টি নিয়ে ইজারাদারের সঙ্গে আলোচনা করার কথাও জানান জেলা প্রশাসক।

তবে জেলা প্রশাসকের এমন বক্তব্যের মধ্যেই ১৪ দিনের ব্যবধানে একই দিঘিতে আবারও মাছ শিকারের আয়োজন হওয়ায় প্রকল্পটি কবে নাগাদ সচল হবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

#বাগেরহাট_খবর #পানিরপ্রকল্প #পচাদিঘি

চেকপোস্ট

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


৪০ কোটি টাকার পানির প্রকল্প অচল, দিঘিতে লাখ টাকার মাছ শিকার

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বাগেরহাট পৌরবাসীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে। প্রকল্পটি চালুর বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

উল্টো প্রকল্পের পানি সংরক্ষণের জন্য নির্ধারিত ‘পচা দিঘি’তে চলছে বাণিজ্যিক মাছ শিকার। এতে পানি সরবরাহ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের কাজ শেষ হয় ২০২১ সালের জুনে। এরপর কয়েক মাস পরীক্ষামূলকভাবে পানি সরবরাহ করা হলেও পরে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন অচল থাকায় ওভারহেড ট্যাংক, পাম্প হাউস, পাইপলাইন ও ট্রিটমেন্ট প্লান্টসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল সালাম তালুকদারের অভিযোগ, প্রকল্পটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় চোরেরা ভেতরের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও তার নিয়ে গেছে। ভবনের চাল ও জানালাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভৈরব নদ থেকে প্রায় চার কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি এনে পচা দিঘিতে সংরক্ষণ করার কথা ছিল। পরে সেই পানি ট্রিটমেন্ট প্লান্টে পরিশোধন করে ওভারহেড ট্যাংকের মাধ্যমে বাগেরহাট পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল।

তবে বর্তমানে ওই দিঘিতে মাছ চাষ ও বড়শি দিয়ে মাছ শিকারের আয়োজন হচ্ছে। গত ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর দিঘির চারপাশে ১০৮টি ঘাটে মাছ শিকারের ব্যবস্থা করা হয়। প্রতিটি ঘাটের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। এর মাত্র ১৪ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ও শুক্রবারও আবার মাছ শিকারের আয়োজন করা হয়েছে।

সরেজমিনে দিঘির পানিতে পলিথিন, খাবারের প্যাকেট, সিগারেটের প্যাকেট, পানির বোতল ও ওয়ানটাইম প্লেটসহ বিভিন্ন বর্জ্য ভাসতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ চাষ ও মাছ শিকারের কারণে দিঘির পানির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, আগে দিঘির পানি পরিষ্কার ছিল এবং মাছ দেখা যেত। বর্তমানে পানিতে দুর্গন্ধ থাকায় রান্নার কাজেও এটি ব্যবহার করা যায় না। মাছ শিকারের পরও পানি পরিষ্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার।

স্থানীয়দের দাবি, দিঘিটি দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়ার কারণে পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়েছে। দ্রুত প্রকল্পটি চালু করে দিঘিটিকে পানি সংরক্ষণের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পচা দিঘির ইজারাদার ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, সরকার পানি প্রকল্প চালু করার সিদ্ধান্ত নিলে তারা দিঘি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। তার দাবি, মাছ চাষে কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। তিনি জানান, প্রতিবছর সরকার মৎস্য চাষের জন্য ২১ লাখ টাকা রাজস্ব পায়।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, পচা দিঘিটি ছয় বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে পৌরসভার পানি সরবরাহ প্রকল্প চালুর স্বার্থে ইজারার মেয়াদ কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইজারার মেয়াদ কমানো সম্ভব হলে পানি সরবরাহ প্রকল্পটি শুরু করা যাবে। বিষয়টি নিয়ে ইজারাদারের সঙ্গে আলোচনা করার কথাও জানান জেলা প্রশাসক।

তবে জেলা প্রশাসকের এমন বক্তব্যের মধ্যেই ১৪ দিনের ব্যবধানে একই দিঘিতে আবারও মাছ শিকারের আয়োজন হওয়ায় প্রকল্পটি কবে নাগাদ সচল হবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত