শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

ডিএসের বিরুদ্ধে তদন্ত

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় আওয়ামী ঠিকাদার পুনর্বাসনের অভিযোগ

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় আওয়ামী ঠিকাদার পুনর্বাসনের অভিযোগ
ছবি: চেকপোস্ট

দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় আওয়ামী লীগপন্থী ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও আগের সময়ের কিছু ঠিকাদার কারখানার বিভিন্ন কাজ পেয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি বিএনপি ও অন্যান্য দলের ঠিকাদারদেরও ‘ব্যালান্স’ করার জন্য কাজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিএলআর নিয়োগে অর্থ লেনদেন ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও উঠেছে।

সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম অভিযোগ করেন, ডিএস আওয়ামী লীগপন্থী ঠিকাদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে তাদের কাজ দিয়ে যাচ্ছেন। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি ঠিকাদারি সিন্ডিকেট কারখানার কাজ নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি সাবেক রেলমন্ত্রীর এক আত্মীয়সহ একজন ঠিকাদার কারখানা এলাকায় এসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লোক পরিচয় দিয়েছিলেন। এ সময় তাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগ ওঠে। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ গিয়ে একজনকে আটক করে।

বিএনপি নেতা সামসুল আলমের অভিযোগ, আওয়ামী লীগপন্থী ঠিকাদাররা ছোট-বড় বিভিন্ন কাজ পেলেও অন্যরা কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ আবিদ হোসেন লাড্ডানও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তার দাবি, বিগত সময়ে সুবিধা পাওয়া ঠিকাদারদেরই এখনও বিভিন্ন উন্নয়নকাজ দেওয়া হচ্ছে। তিনি ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের বিষয়ে তদন্তের দাবি জানান।

এ ছাড়া সৈয়দপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ বাবলু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ পারভেজ লিটন, সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম ওবায়দুর রহমানসহ কয়েকজন বিএনপি নেতা ডিএসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার বলেন, রেলওয়ে শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিনিধি নির্বাচনের দিন কয়েকজন ঠিকাদার ডিএসের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তাদের কাজের জন্য তদবিরের অভিযোগও ওঠে। তবে তিনি বলেন, ডিএসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করা প্রয়োজন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ। তিনি বলেন, ই-জিপির মাধ্যমে টেন্ডার দেওয়া হয় এবং যে প্রতিষ্ঠান কাজ পায়, তারাই কাজ করে। আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো দলের পরিচয়ের ভিত্তিতে কাজ দেওয়ার এখতিয়ার তার নেই।

কারখানার কর্ম ব্যবস্থাপক মো. মমতাজুল হকও অভিযোগগুলোকে সুনির্দিষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, কোন কাজ কোন ঠিকাদারকে দেওয়া হয়েছে তা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না করলে অভিযোগ যাচাই করা সম্ভব নয়। বর্তমানে সব টেন্ডার অনলাইনে হওয়ায় ইচ্ছেমতো কাউকে কাজ দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

তবে এক প্রশ্নের জবাবে ডিএস শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ স্বীকার করেন, সম্প্রতি বিএনপি ও অন্যান্য দলের লোকজনকেও কাজ দেওয়া হয়েছে।

নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম বলেন, ডিএস নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করবেন-এটাই প্রত্যাশা। কোনো অনিয়ম হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফকির মহিউদ্দিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়গুলো নোট করে খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয়ভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার টেন্ডার ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

#সৈয়দপুর_রেলওয়ে #রেলওয়ে_কারখানা #ঠিকাদার

চেকপোস্ট

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬


সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় আওয়ামী ঠিকাদার পুনর্বাসনের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় আওয়ামী লীগপন্থী ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও আগের সময়ের কিছু ঠিকাদার কারখানার বিভিন্ন কাজ পেয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি বিএনপি ও অন্যান্য দলের ঠিকাদারদেরও ‘ব্যালান্স’ করার জন্য কাজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিএলআর নিয়োগে অর্থ লেনদেন ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও উঠেছে।

সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম অভিযোগ করেন, ডিএস আওয়ামী লীগপন্থী ঠিকাদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে তাদের কাজ দিয়ে যাচ্ছেন। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি ঠিকাদারি সিন্ডিকেট কারখানার কাজ নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি সাবেক রেলমন্ত্রীর এক আত্মীয়সহ একজন ঠিকাদার কারখানা এলাকায় এসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লোক পরিচয় দিয়েছিলেন। এ সময় তাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগ ওঠে। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ গিয়ে একজনকে আটক করে।

বিএনপি নেতা সামসুল আলমের অভিযোগ, আওয়ামী লীগপন্থী ঠিকাদাররা ছোট-বড় বিভিন্ন কাজ পেলেও অন্যরা কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ আবিদ হোসেন লাড্ডানও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তার দাবি, বিগত সময়ে সুবিধা পাওয়া ঠিকাদারদেরই এখনও বিভিন্ন উন্নয়নকাজ দেওয়া হচ্ছে। তিনি ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের বিষয়ে তদন্তের দাবি জানান।

এ ছাড়া সৈয়দপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ বাবলু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ পারভেজ লিটন, সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম ওবায়দুর রহমানসহ কয়েকজন বিএনপি নেতা ডিএসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার বলেন, রেলওয়ে শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিনিধি নির্বাচনের দিন কয়েকজন ঠিকাদার ডিএসের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তাদের কাজের জন্য তদবিরের অভিযোগও ওঠে। তবে তিনি বলেন, ডিএসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করা প্রয়োজন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ। তিনি বলেন, ই-জিপির মাধ্যমে টেন্ডার দেওয়া হয় এবং যে প্রতিষ্ঠান কাজ পায়, তারাই কাজ করে। আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো দলের পরিচয়ের ভিত্তিতে কাজ দেওয়ার এখতিয়ার তার নেই।

কারখানার কর্ম ব্যবস্থাপক মো. মমতাজুল হকও অভিযোগগুলোকে সুনির্দিষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, কোন কাজ কোন ঠিকাদারকে দেওয়া হয়েছে তা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না করলে অভিযোগ যাচাই করা সম্ভব নয়। বর্তমানে সব টেন্ডার অনলাইনে হওয়ায় ইচ্ছেমতো কাউকে কাজ দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

তবে এক প্রশ্নের জবাবে ডিএস শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ স্বীকার করেন, সম্প্রতি বিএনপি ও অন্যান্য দলের লোকজনকেও কাজ দেওয়া হয়েছে।

নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম বলেন, ডিএস নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করবেন-এটাই প্রত্যাশা। কোনো অনিয়ম হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফকির মহিউদ্দিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়গুলো নোট করে খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয়ভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার টেন্ডার ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত