সুনামগঞ্জের ছাতক এ গ্রেড পৌরসভায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে অতিরিক্ত দায়িত্বে সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন অন্য একটি পৌরসভায় কর্মরত কর্মকর্তা। একই কর্মকর্তা নিজ কর্মস্থলের পাশাপাশি ছাতক পৌরসভার দায়িত্ব পালন করায় প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় নাগরিকরা।
নাগরিকদের অভিযোগ, পৌরসভার জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং সংক্রান্ত কার্যক্রম, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র ও নথি অনুমোদনসহ নানা সেবা এখন অনলাইননির্ভর হচ্ছে। এসব সেবা দ্রুত দিতে নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতি প্রয়োজন। কিন্তু অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সচিব সবসময় ছাতক পৌরসভায় উপস্থিত না থাকায় কিছু কার্যক্রমে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, কোনো সেবা বা নথির জন্য পৌরসভায় গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে না পেয়ে একাধিকবার ফিরে যেতে হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ এতে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। অনলাইনে আবেদন করার পরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পৌরশহরের গনক্ষাই গ্রামের সেবাগ্রহীতা মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, গত বৃহস্পতিবার অনলাইনে নাগরিক সনদের আবেদন করে পৌরসভা ও উপজেলা কার্যালয়ে চারবার আসা-যাওয়া করতে হয়েছে। সচিবের অনুমোদন না হওয়ায় আবেদনটি পৌর প্রশাসক বা মেয়রের কাছে যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মাহফুজুর রহমানের দাবি, আগে অফলাইনে এক ঘণ্টার মধ্যে নাগরিক সনদ পেলেও অনলাইন সেবা চালুর পরও একদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। এতে জরুরি কাজ ব্যাহত হয়েছে বলে জানান তিনি।
পৌরশহরের ভাজনামহল এলাকার বাসিন্দা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রাসেল মাহমুদ বলেন, ছাতক একটি এ গ্রেড পৌরসভা। এখানে স্থায়ী সচিব না থাকায় নাগরিকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে ভোগান্তি হচ্ছে। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত একজন স্থায়ী সচিব নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
ছাতক পৌরসভার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব শরদিন্দু রায় বলেন, তিনি ২০২৪ সালের জুনে ছাতক পৌরসভায় অতিরিক্ত দায়িত্বে যোগ দেন। তার বর্তমান কর্মস্থল কানাইঘাট পৌরসভা। তিনি জানান, সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ছাতক পৌরসভায় অফিস করেন।
শরদিন্দু রায় বলেন, দেশের অনেক পৌরসভায় বর্তমানে সচিবের পদ শূন্য রয়েছে। এরপরও ছাতক পৌরসভার জরুরি কাজসহ নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করছেন তিনি। ছাতকে উপস্থিত না থাকলেও জরুরি কোনো কাজ থাকলে কর্মচারীরা জানালে কানাইঘাট থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।
তার দাবি, নাগরিকদের কোনো ধরনের ভোগান্তি হচ্ছে না। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো আবেদন বাকি থেকে যেতে পারে বলে স্বীকার করেন তিনি।
ছাতক পৌর প্রশাসক মো. মহি উদ্দিন বলেন, ছাতক পৌরসভা বড় ও এ গ্রেডের হওয়ায় এখানে একজন স্থায়ী সচিব থাকা অত্যন্ত জরুরি। তবে এখন পর্যন্ত নাগরিক সেবা নিয়ে কোনো ধরনের ভোগান্তি বা অভিযোগ তার কাছে আসেনি।
তিনি বলেন, দেশের অনেক পৌরসভায় সচিবের পদ শূন্য রয়েছে। তারপরও নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক অসীম চন্দ্র বণিক বিস্তারিত জানতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সুনামগঞ্জের ছাতক এ গ্রেড পৌরসভায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে অতিরিক্ত দায়িত্বে সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন অন্য একটি পৌরসভায় কর্মরত কর্মকর্তা। একই কর্মকর্তা নিজ কর্মস্থলের পাশাপাশি ছাতক পৌরসভার দায়িত্ব পালন করায় প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় নাগরিকরা।
নাগরিকদের অভিযোগ, পৌরসভার জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং সংক্রান্ত কার্যক্রম, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র ও নথি অনুমোদনসহ নানা সেবা এখন অনলাইননির্ভর হচ্ছে। এসব সেবা দ্রুত দিতে নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতি প্রয়োজন। কিন্তু অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সচিব সবসময় ছাতক পৌরসভায় উপস্থিত না থাকায় কিছু কার্যক্রমে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, কোনো সেবা বা নথির জন্য পৌরসভায় গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে না পেয়ে একাধিকবার ফিরে যেতে হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ এতে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। অনলাইনে আবেদন করার পরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পৌরশহরের গনক্ষাই গ্রামের সেবাগ্রহীতা মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, গত বৃহস্পতিবার অনলাইনে নাগরিক সনদের আবেদন করে পৌরসভা ও উপজেলা কার্যালয়ে চারবার আসা-যাওয়া করতে হয়েছে। সচিবের অনুমোদন না হওয়ায় আবেদনটি পৌর প্রশাসক বা মেয়রের কাছে যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মাহফুজুর রহমানের দাবি, আগে অফলাইনে এক ঘণ্টার মধ্যে নাগরিক সনদ পেলেও অনলাইন সেবা চালুর পরও একদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। এতে জরুরি কাজ ব্যাহত হয়েছে বলে জানান তিনি।
পৌরশহরের ভাজনামহল এলাকার বাসিন্দা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রাসেল মাহমুদ বলেন, ছাতক একটি এ গ্রেড পৌরসভা। এখানে স্থায়ী সচিব না থাকায় নাগরিকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে ভোগান্তি হচ্ছে। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত একজন স্থায়ী সচিব নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
ছাতক পৌরসভার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব শরদিন্দু রায় বলেন, তিনি ২০২৪ সালের জুনে ছাতক পৌরসভায় অতিরিক্ত দায়িত্বে যোগ দেন। তার বর্তমান কর্মস্থল কানাইঘাট পৌরসভা। তিনি জানান, সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ছাতক পৌরসভায় অফিস করেন।
শরদিন্দু রায় বলেন, দেশের অনেক পৌরসভায় বর্তমানে সচিবের পদ শূন্য রয়েছে। এরপরও ছাতক পৌরসভার জরুরি কাজসহ নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করছেন তিনি। ছাতকে উপস্থিত না থাকলেও জরুরি কোনো কাজ থাকলে কর্মচারীরা জানালে কানাইঘাট থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।
তার দাবি, নাগরিকদের কোনো ধরনের ভোগান্তি হচ্ছে না। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো আবেদন বাকি থেকে যেতে পারে বলে স্বীকার করেন তিনি।
ছাতক পৌর প্রশাসক মো. মহি উদ্দিন বলেন, ছাতক পৌরসভা বড় ও এ গ্রেডের হওয়ায় এখানে একজন স্থায়ী সচিব থাকা অত্যন্ত জরুরি। তবে এখন পর্যন্ত নাগরিক সেবা নিয়ে কোনো ধরনের ভোগান্তি বা অভিযোগ তার কাছে আসেনি।
তিনি বলেন, দেশের অনেক পৌরসভায় সচিবের পদ শূন্য রয়েছে। তারপরও নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক অসীম চন্দ্র বণিক বিস্তারিত জানতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।
