ব্যক্তিগত মোটর থেকে পানি কিনে চলছে জীবন, বিপাকে শতাধিক পরিবার ভরা বর্ষার সময়েও রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা পৌরসভার একটি মহল্লায় দেখা দিয়েছে তীব্র পানি সংকট। প্রায় ২০ দিন ধরে খাবার পানি পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। বাধ্য হয়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন সাবমার্সিবল পাম্প থেকে টাকা দিয়ে পানি কিনে দৈনন্দিন কাজ চালাতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয়রা জানান, মহল্লায় পর্যাপ্ত পুকুর না থাকায় শুধু পানীয় নয়, গোসল ও গৃহস্থালির অন্যান্য কাজের পানিও সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করে পানি কিনতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে।
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে, অচল নলকূপ
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তানোর উপজেলা সরকার ঘোষিত পানি সংকটাপন্ন এলাকার মধ্যে রয়েছে। মুন্ডুমালা পৌর এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক আগেই অধিকাংশ হস্তচালিত নলকূপ অচল হয়ে গেছে।
২০১৭ সালের পর থেকে মুন্ডুমালা পৌরসভার নিজস্ব গভীর নলকূপ ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নলকূপ থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে সাদিপুর মহল্লায় পানি সরবরাহ করা হচ্ছিল। প্রায় ১১৭টি বাড়িতে দেওয়া হয়েছে ট্যাপ সংযোগ।
২০ দিন ধরে বন্ধ পানি সরবরাহ
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, একটি ট্যাপ সংযোগের জন্য মাসে ১৫০ টাকা এবং ট্যাংকে পানি সংরক্ষণের জন্য ২৫০ টাকা নেওয়া হয়। তবে পানির স্তর আরও নিচে নেমে যাওয়ায় পৌরসভার নিজস্ব গভীর নলকূপ থেকে পানি উঠছে না। পাশাপাশি প্রায় ২০ দিন ধরে বিএমডিএর নলকূপও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।
ফলে মহল্লার বাসিন্দাদের বাধ্য হয়ে ব্যক্তিগত মোটর থেকে পানি কিনতে হচ্ছে।
পানি কিনতেই যাচ্ছে হাজার টাকা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য মোটর চালু করে পানি নিতে ৫০ টাকা দিতে হয়। এরই মধ্যে অনেক পরিবার পানি কিনতে গিয়ে এক থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করেছে।
মহল্লার বাসিন্দা আবদুর রাজ্জাক জানান, চলতি মাসে তার পরিবারকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকার পানি কিনতে হয়েছে। আর সাবানা বেগম বলেন, এরই মধ্যে তাদের প্রায় ২ হাজার টাকার পানি কেনা হয়ে গেছে।
গবাদিপশু নিয়েও চরম দুর্ভোগ
পানির সংকটে শুধু মানুষ নয়, গবাদিপশুও বিপাকে পড়েছে। পর্যাপ্ত পানি দিতে না পারায় অনেকেই লোকসানে গরু বিক্রি করে দিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রনি ইসলাম বলেন, পানি সংকটের কারণে তার গর্ভবতী গাভিটিকে ঠিকমতো পানি খাওয়াতে পারছেন না। এতে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
আরেক বাসিন্দা মটরি বেগম জানান, পানির অভাবে বাধ্য হয়ে দুটি গরু বিক্রি করে দিয়েছেন।
দ্রুত সমাধানের দাবি
মহল্লার পানির বিল আদায়কারী আবদুর রহমান বলেন, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পৌরসভার গভীর নলকূপে পানি উঠছে না। অন্যদিকে বিএমডিএর নলকূপও বারবার নষ্ট হচ্ছে।
মুন্ডুমালা পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান জানান, নলকূপ নষ্ট থাকার বিষয়টি বিএমডিএর প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছিল। পরে তিনি জানান, মেশিন ঠিক করা হয়েছে, তবে স্থানীয় সমিতির কিছু কাজ বাকি রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সাময়িক নয়, মুন্ডুমালার দীর্ঘমেয়াদি পানি সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬
ব্যক্তিগত মোটর থেকে পানি কিনে চলছে জীবন, বিপাকে শতাধিক পরিবার ভরা বর্ষার সময়েও রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা পৌরসভার একটি মহল্লায় দেখা দিয়েছে তীব্র পানি সংকট। প্রায় ২০ দিন ধরে খাবার পানি পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। বাধ্য হয়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন সাবমার্সিবল পাম্প থেকে টাকা দিয়ে পানি কিনে দৈনন্দিন কাজ চালাতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয়রা জানান, মহল্লায় পর্যাপ্ত পুকুর না থাকায় শুধু পানীয় নয়, গোসল ও গৃহস্থালির অন্যান্য কাজের পানিও সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করে পানি কিনতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে।
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে, অচল নলকূপ
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তানোর উপজেলা সরকার ঘোষিত পানি সংকটাপন্ন এলাকার মধ্যে রয়েছে। মুন্ডুমালা পৌর এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক আগেই অধিকাংশ হস্তচালিত নলকূপ অচল হয়ে গেছে।
২০১৭ সালের পর থেকে মুন্ডুমালা পৌরসভার নিজস্ব গভীর নলকূপ ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নলকূপ থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে সাদিপুর মহল্লায় পানি সরবরাহ করা হচ্ছিল। প্রায় ১১৭টি বাড়িতে দেওয়া হয়েছে ট্যাপ সংযোগ।
২০ দিন ধরে বন্ধ পানি সরবরাহ
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, একটি ট্যাপ সংযোগের জন্য মাসে ১৫০ টাকা এবং ট্যাংকে পানি সংরক্ষণের জন্য ২৫০ টাকা নেওয়া হয়। তবে পানির স্তর আরও নিচে নেমে যাওয়ায় পৌরসভার নিজস্ব গভীর নলকূপ থেকে পানি উঠছে না। পাশাপাশি প্রায় ২০ দিন ধরে বিএমডিএর নলকূপও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।
ফলে মহল্লার বাসিন্দাদের বাধ্য হয়ে ব্যক্তিগত মোটর থেকে পানি কিনতে হচ্ছে।
পানি কিনতেই যাচ্ছে হাজার টাকা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য মোটর চালু করে পানি নিতে ৫০ টাকা দিতে হয়। এরই মধ্যে অনেক পরিবার পানি কিনতে গিয়ে এক থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করেছে।
মহল্লার বাসিন্দা আবদুর রাজ্জাক জানান, চলতি মাসে তার পরিবারকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকার পানি কিনতে হয়েছে। আর সাবানা বেগম বলেন, এরই মধ্যে তাদের প্রায় ২ হাজার টাকার পানি কেনা হয়ে গেছে।
গবাদিপশু নিয়েও চরম দুর্ভোগ
পানির সংকটে শুধু মানুষ নয়, গবাদিপশুও বিপাকে পড়েছে। পর্যাপ্ত পানি দিতে না পারায় অনেকেই লোকসানে গরু বিক্রি করে দিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রনি ইসলাম বলেন, পানি সংকটের কারণে তার গর্ভবতী গাভিটিকে ঠিকমতো পানি খাওয়াতে পারছেন না। এতে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
আরেক বাসিন্দা মটরি বেগম জানান, পানির অভাবে বাধ্য হয়ে দুটি গরু বিক্রি করে দিয়েছেন।
দ্রুত সমাধানের দাবি
মহল্লার পানির বিল আদায়কারী আবদুর রহমান বলেন, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পৌরসভার গভীর নলকূপে পানি উঠছে না। অন্যদিকে বিএমডিএর নলকূপও বারবার নষ্ট হচ্ছে।
মুন্ডুমালা পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান জানান, নলকূপ নষ্ট থাকার বিষয়টি বিএমডিএর প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছিল। পরে তিনি জানান, মেশিন ঠিক করা হয়েছে, তবে স্থানীয় সমিতির কিছু কাজ বাকি রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সাময়িক নয়, মুন্ডুমালার দীর্ঘমেয়াদি পানি সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
