টাকা না থাকায় চিকিৎসা না পেয়ে সরকারি হাসপাতালের সামনে রাস্তায় সন্তান প্রসব করতে বাধ্য হয়েছেন এক গর্ভবতী মা। সম্প্রতি নোয়াখালী সরকারি হাসপাতালে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনাটি চিকিৎসা ব্যবস্থার চরম অবহেলা এবং মানবিকতার বিপর্যয়কে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেটের তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে ওই অসহায় নারী শেষ ভরসা হিসেবে সরকারি হাসপাতালে এসেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, চাহিদামতো টাকা দিতে না পারায় তাঁকে সেবা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে হাসপাতালের সামনের পথেই তিনি এক নতুন জীবনের জন্ম দেন। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা লাভ করা প্রতিটি নাগরিকের অন্যতম মৌলিক অধিকার। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলো যেখানে সাধারণ ও দুস্থ মানুষের বিনামূল্যে সেবা পাওয়ার প্রাথমিক কেন্দ্র, সেখানে অর্থের অভাবে একজন মুমূর্ষু রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া সেই অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।
ঘটনাটির পরপরই ক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ ও সচেতন মহল থেকে জরুরি পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। উক্ত ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কার কার অবহেলা বা গাফিলতি ছিল, তা অনুসন্ধানে দ্রুত একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চিহ্নিত করে প্রশাসনিক ও আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করার সাহস না পায়।
সরকারি হাসপাতালে জরুরি বিভাগের সেবা যাতে কোনো অবস্থাতেই অর্থ বা কাগজপত্রের অজুহাতে আটকে না থাকে, তার জন্য কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
অসহায় মানুষের জন্য চিকিৎসার আগে যেন পকেটের ওজন মাপা না হয়—এমন একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রত্যাশা করছে দেশের সাধারণ মানুষ। কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এ ধরনের নির্মম ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে।

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
টাকা না থাকায় চিকিৎসা না পেয়ে সরকারি হাসপাতালের সামনে রাস্তায় সন্তান প্রসব করতে বাধ্য হয়েছেন এক গর্ভবতী মা। সম্প্রতি নোয়াখালী সরকারি হাসপাতালে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনাটি চিকিৎসা ব্যবস্থার চরম অবহেলা এবং মানবিকতার বিপর্যয়কে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেটের তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে ওই অসহায় নারী শেষ ভরসা হিসেবে সরকারি হাসপাতালে এসেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, চাহিদামতো টাকা দিতে না পারায় তাঁকে সেবা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে হাসপাতালের সামনের পথেই তিনি এক নতুন জীবনের জন্ম দেন। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা লাভ করা প্রতিটি নাগরিকের অন্যতম মৌলিক অধিকার। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলো যেখানে সাধারণ ও দুস্থ মানুষের বিনামূল্যে সেবা পাওয়ার প্রাথমিক কেন্দ্র, সেখানে অর্থের অভাবে একজন মুমূর্ষু রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া সেই অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।
ঘটনাটির পরপরই ক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ ও সচেতন মহল থেকে জরুরি পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। উক্ত ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কার কার অবহেলা বা গাফিলতি ছিল, তা অনুসন্ধানে দ্রুত একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চিহ্নিত করে প্রশাসনিক ও আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করার সাহস না পায়।
সরকারি হাসপাতালে জরুরি বিভাগের সেবা যাতে কোনো অবস্থাতেই অর্থ বা কাগজপত্রের অজুহাতে আটকে না থাকে, তার জন্য কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
অসহায় মানুষের জন্য চিকিৎসার আগে যেন পকেটের ওজন মাপা না হয়—এমন একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রত্যাশা করছে দেশের সাধারণ মানুষ। কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এ ধরনের নির্মম ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে।
