সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

চোখে হঠাৎ কালো পর্দা? যে বিপদের সংকেত হতে পারে

চোখের সামনে হঠাৎ কালো ছায়া বা পর্দার মতো অন্ধকার দেখা সবসময় চোখের ক্লান্তি বা দীর্ঘ সময় মোবাইল-কম্পিউটার ব্যবহারের কারণে হয় না। বিশেষ করে এর সঙ্গে নতুন করে অনেক কালো দাগ বা ফ্লোটার, আলোর ঝলকানি, ঝাপসা দেখা কিংবা পাশের দৃষ্টিতে অন্ধকার নেমে আসলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। এসব লক্ষণ রেটিনায় ছিঁড়ে যাওয়া বা রেটিনা আলাদা হয়ে যাওয়ার (রেটিনাল ডিটাচমেন্ট) সতর্কসংকেত হতে পারে। চোখের পেছনে থাকা আলো-সংবেদনশীল পাতলা স্তর হলো রেটিনা। চোখে প্রবেশ করা আলোকে এটি বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে মস্তিষ্কে পাঠায়, যার মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই।রেটিনা স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে গেলে বা আলাদা হয়ে গেলে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না হলে আক্রান্ত চোখে স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি থাকে। দৃষ্টিক্ষেত্রের কোনো অংশে হঠাৎ পর্দা বা ছায়ার মতো অন্ধকার দেখা রেটিনাল ডিটাচমেন্টের অন্যতম পরিচিত সতর্কসংকেত। আমেরিকান একাডেমি অব অফথালমোলজি ও NHS—দুই সংস্থাই নতুন ফ্লোটার, আলোর ঝলকানি এবং দৃষ্টিক্ষেত্রে কালো পর্দা বা ছায়া দেখা গেলে দ্রুত চোখ পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছে।তবে এমন লক্ষণ দেখা মানেই রেটিনা আলাদা হয়ে গেছে এমন নয়। ভিট্রিয়াসে বয়সজনিত পরিবর্তনসহ অন্য কারণেও ফ্লোটার বা আলোর ঝলকানি হতে পারে। সঠিক কারণ জানতে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরীক্ষা প্রয়োজন। হঠাৎ অনেক ফ্লোটার: চোখের সামনে কালো বিন্দু, রেখা বা মাকড়সার জালের মতো বস্তু ভাসতে দেখা। বিশেষ করে হঠাৎ অনেক নতুন ফ্লোটার দেখা দিলে সতর্ক হওয়া দরকার।আলোর ঝলকানি: চোখে হঠাৎ ক্যামেরার ফ্ল্যাশের মতো আলো দেখা রেটিনার ওপর টানের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া: হঠাৎ দৃষ্টি ঝাপসা বা দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তনও জরুরি পরীক্ষার কারণ হতে পারে। পাশের দৃষ্টি কমে যাওয়া: সামনে দেখা গেলেও দৃষ্টিক্ষেত্রের পাশে অন্ধকার বা ছায়া দেখা রেটিনার সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে চোখের ভেতরের জেলির মতো পদার্থে পরিবর্তন হতে পারে। কখনো সেটি রেটিনায় টান সৃষ্টি করে রেটিনায় ছিঁড়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে। পরে সেই ছিদ্র দিয়ে তরল প্রবেশ করলে রেটিনা স্বাভাবিক অবস্থান থেকে আলাদা হয়ে যেতে পারে।যাদের মায়োপিয়া বা দূরের জিনিস দেখতে বেশি পাওয়ারের চশমা লাগে, আগে ছানি বা অন্য চোখের অস্ত্রোপচার হয়েছে, চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে কিংবা পরিবারের কারও রেটিনাল ডিটাচমেন্টের ইতিহাস রয়েছে—তাদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহারে চোখে শুষ্কতা, জ্বালা কিংবা সাময়িক অস্বস্তি হতে পারে। কিন্তু হঠাৎ কালো পর্দা বা ছায়া, নতুন অনেক ফ্লোটার, আলোর ঝলকানি কিংবা দৃষ্টিক্ষেত্রের কোনো অংশ হারিয়ে যাওয়াকে শুধু চোখের ক্লান্তি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এসব লক্ষণের ক্ষেত্রে দ্রুত পরীক্ষা প্রয়োজন।নিচের যেকোনো লক্ষণ হঠাৎ দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞ বা জরুরি চোখের চিকিৎসাকেন্দ্রে যোগাযোগ করা উচিত চোখের সামনে কালো পর্দা বা ছায়া দেখা হঠাৎ অনেক নতুন ফ্লোটার দেখা আলোর ঝলকানি শুরু হওয়া হঠাৎ দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া পাশের দৃষ্টিতে অন্ধকার দেখা দৃষ্টিক্ষেত্রের কোনো অংশ হারিয়ে যাচ্ছে মনে হওয়া NHS ও আমেরিকান একাডেমি অব অফথালমোলজি এসব লক্ষণকে দ্রুত মূল্যায়নের প্রয়োজনীয় সতর্কসংকেত হিসেবে উল্লেখ করেছে। চক্ষু বিশেষজ্ঞ সাধারণত চোখের ভেতরের অংশ পরীক্ষা করেন। প্রয়োজন হলে চোখের মণি বড় করার ড্রপ দিয়ে রেটিনা ভালোভাবে দেখা হয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী চোখের আল্ট্রাসাউন্ড বা অন্যান্য পরীক্ষা লাগতে পারে।রেটিনায় ছিঁড়ে যাওয়া ধরা পড়লে লেজারসহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা যেতে পারে। রেটিনা আলাদা হয়ে গেলে রোগের ধরন ও অবস্থার ওপর ভিত্তি করে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। সুতরাং, চোখের সামনে হঠাৎ কালো পর্দা বা ছায়া দেখা গেলে বিষয়টি অবহেলা না করাই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এর সঙ্গে ফ্লোটার, আলোর ঝলকানি বা দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন থাকলে দ্রুত চোখ পরীক্ষা করানো উচিত। কারণ রেটিনার গুরুতর সমস্যা থাকলে দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। 

চোখে হঠাৎ কালো পর্দা? যে বিপদের সংকেত হতে পারে