ডেট্রয়েটে বাংলাদেশি কনস্যুলেট স্থাপন অনিশ্চয়তায়? বাড়ছে প্রবাসীদের ভোগান্তি
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের দাবি একটি স্থায়ী বাংলাদেশি কনস্যুলেট। সরকারের নীতিগত অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলেও বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা বাড়ছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে।মিশিগানে স্থায়ী কনস্যুলেট স্থাপনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন আন্দোলন ও প্রচার চালিয়ে আসছে।২০২৫ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ডেট্রয়েটে একটি স্থায়ী বাংলাদেশি কনস্যুলেট স্থাপনের অনুমোদন দেয়। পরে ২০২৬ সালের শুরুতে বাংলাদেশ দূতাবাসও আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এতে প্রবাসীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রশাসনিক অনুমোদন এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা এ উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।কমিউনিটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মিশিগানে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশির বসবাস। নিউইয়র্কের পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ বাংলাদেশি অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্য। অথচ এত বড় জনগোষ্ঠীর জন্য এখনও কোনো স্থায়ী বাংলাদেশি কনস্যুলার সেবা কেন্দ্র চালু হয়নি।এর ফলে পাসপোর্ট নবায়ন, জন্মনিবন্ধন, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, ভিসা-সংক্রান্ত নথিপত্রসহ বিভিন্ন কনস্যুলার সেবার জন্য প্রবাসীদের নিউইয়র্ক বা ওয়াশিংটন ডিসিতে যেতে হয়। এতে সময়, অর্থ ও ভোগান্তি সবই বাড়ছে।যদিও বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিবছর মিশিগানে ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার সেবা পরিচালনা করে, তবে সীমিত সময় ও সেবার কারণে ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছেন প্রবাসীরা।তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ডেট্রয়েটে স্থায়ী বাংলাদেশি কনস্যুলেট স্থাপনের সরকারি সিদ্ধান্ত এখনও বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে মিশিগানের প্রবাসীদের জন্য অনলাইন কনস্যুলার সেবা আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।