সৈয়দপুরের আর্মি ইউনিভার্সিটিতে ৩ দিনের ‘ক্লাচ কার্নিভাল' অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বিএইউএসটি) অনুষ্ঠিত হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘ক্লাচ কার্নিভাল ২.০’। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এমই) বিভাগের আয়োজনে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর এ প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতাভিত্তিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।তিন দিনের আয়োজনে ছিল বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিযোগিতা, জ্ঞানচর্চা, প্রকল্প প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিএইউএসটির পাশাপাশি হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বিএইউইটি), আইইউবিএটি, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর, রংপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।আয়োজকদের মতে, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত করা, কারিগরি দক্ষতা বাড়ানো, উদ্ভাবনী চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নেতৃত্ব ও দলগত কাজের দক্ষতা বিকাশই ছিল কার্নিভালের অন্যতম লক্ষ্য।২০ সেপ্টেম্বর বর্ণাঢ্য উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ‘ক্লাচ কার্নিভাল ২.০’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএইউএসটির উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মোবারক হোসেন মজুমদার, পিএসসি।এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ড. মো. শামীম রেজা (অব.), রেজিস্ট্রার কর্নেল চৌধুরী সাইফ উদ্দিন কাউসার, পিবিজিএম (অব.), মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ চৌধুরী, এমই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল আদিল, শিক্ষক ও প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত হয় মেকানিক্স অলিম্পিয়াড, রোবো সকার, ইঞ্জিনিয়ারিং কুইজ, নন-ইঞ্জিনিয়ারিং কুইজ ও কম্পিউটার এইডেড ডিজাইন (CAD) কনটেস্ট।মেকানিক্স অলিম্পিয়াডে যন্ত্রকৌশল-সংশ্লিষ্ট জ্ঞান ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা যাচাই করা হয়। রোবো সকারে শিক্ষার্থীদের তৈরি ও পরিচালিত রোবট নিয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আর CAD কনটেস্টে কম্পিউটারভিত্তিক নকশার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের কারিগরি দক্ষতা ও সৃজনশীলতা তুলে ধরেন।দ্বিতীয় দিনে রোবো সকারের পরবর্তী ম্যাচের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় ট্রেজার হান্ট। এতে অংশগ্রহণকারীদের পর্যবেক্ষণ, যুক্তিবোধ, সংকেত বিশ্লেষণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দলগত সমন্বয়ের দক্ষতা যাচাই করা হয়।সমাপনী দিনে অনুষ্ঠিত হয় ‘আইডিয়াভার্স-ন্যাশনাল পোস্টার প্রেজেন্টেশন’। এতে শিক্ষার্থীরা উদ্ভাবনী ধারণা, গবেষণাভিত্তিক চিন্তা ও সম্ভাবনাময় প্রকল্পের ধারণা পোস্টারের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন।এছাড়া প্রজেক্ট উপস্থাপন প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের তৈরি বিভিন্ন প্রকল্প ও বাস্তবভিত্তিক কাজ প্রদর্শন করেন। একই দিনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় হয়।কার্নিভালের অন্যতম আকর্ষণ রোবো সকারের ফাইনাল। এতে অংশগ্রহণকারী দলগুলো রোবটিক্স দক্ষতা, কৌশলগত পরিকল্পনা, নিয়ন্ত্রণ ও দলগত সমন্বয় প্রদর্শন করে।পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএইউএসটির উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মোবারক হোসেন মজুমদার, পিএসসি। অতিথিরা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও সফল অংশগ্রহণকারীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন।কার্নিভালের সমাপনী পর্বে অনুষ্ঠিত ‘ওয়েভ ফেস্টিভ্যাল’-এ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজনটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শেষ দিনেও ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
তিন দিনের ‘ক্লাচ কার্নিভাল ২.০’ প্রতিযোগিতা, প্রকল্প প্রদর্শনী, পোস্টার উপস্থাপন, সেমিনার ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব, দলগত কাজ ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশে একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।